অলস্পোর্ট ডেস্ক: ইস্টবেঙ্গল যখন তাদের সব ম্যাচ কলকাতাতেই খেলার সুযোগ পেয়েছে, তখন ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনাল খেলতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে যেতে হয়েছে শিলং। যেখানে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। তারা গতবারের ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন। ফাইনালে হারিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসিকে। এবার চলতি ডুরান্ড কাপে নর্থ ইস্ট ৫-২ গোলে শিলং লাজংকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা চেগে আছে মোহনবাগান ম্যাচের আগে। সবুজ মেরুন ব্রিগেডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার জন্য মুখিয়ে আছে তারা। মনে রাখতে হবে নর্থ ইস্ট দলে আলাদিন আজারের মতো একজন গোলগেটার আছেন। তিনি বাগানের রক্ষণকে ঝামেলায় ফেলে দিতে পারেন।
ছন্দে থাকা নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে মোটেই স্বস্তিতে নেই মোহনবাগান। সবচেয়ে বড় কথা, কলকাতা ছেড়ে শিলংয়ের অচেনা পরিবেশে ও মাঠে খেলাটা সবচেয়ে বড় সমস্যা পানাগয়টিস ডিমপেরিসের কোচিংয়ে থাকা মোহনবাগানের। একে পরপর খেলা, তারওপর শিলং যাওয়ার ধকল। এর ফলে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ পেলেন না সবুজ মেরুন ফুটবলাররা সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে। অনুশীলনের মাঠ নিয়েও অসন্তোষ আছে বাগান বাহিনীর। খেলার নৈশালোকে , অথচ অনুশীলন করতে হল মোহনবাগান ফুটবলারদের এমন মাঠে যেখানে ফ্লাডলাইট নেই। এছাড়া অনুশীলনের মাঠও ঘাসের নয়, কৃত্রিম টার্ফের। এর পাশাপাশি বড় চিন্তার বিষয় হল শিলংয়ের উচ্চতা। আইএসএলের ম্যাচ মোহনবাগান খেলে মূলত গুয়াহাটিতে। সেখানে শিলংয়ের উচ্চতার কারণে বাগান ফুটবলারদের দমে ঘাটতি হতে পারে। সেটা মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই বাগান ফুটবলারদের কাছে।
এখানেই মোহনবাগানের সমস্যার শেষ নয়। যেহেতু দুটো ম্যাচের মাঝে সময়ের ফারাক অনেক কম, তাই ফুটবলারদের ক্লান্তি কাটানোর পাশাপাশি চোট আঘাত সারানোর সুযোগ পাননি মোহনবাগান কোচ পানোস। এনিয়ে তিনি বেশ অসন্তুষ্ট ডুরান্ড কাপের সংগঠকদের ওপর। অবৈজ্ঞানিক সূচীর জন্য সংগঠকদের একহাত নিয়েছেন তিনি আগেই। কোয়ার্টারফাইনালে জামশেদপুর এফসির ম্যাচে বিদেশি ডেজান ড্রাজিচ হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। তিনি ফিট হতে পারেননি বলে দলের সঙ্গে শিলং যাননি। কবে যে তিনি ফিট হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আইএসএলের আগে ফিট হলেই ভাল। জামশেদপুর ম্যাচের আগে অনুশীলন করেননি মিগুয়েল। ছাংতে কলকাতায় এসে পোঁছলেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করার সময় পেয়েছেন অল্পসময়। তবু এই দুই ফুটবলারকে সঙ্গে নিয়ে শিলং গেছেন কোচ পানোস। তবে এঁরা দলে থাকবেন কিনা, থাকলেও বদলি হিসেবে কখন নামবেন, সেটা বলা মুশকিল। তবে ছাংতে ফিট থাকলে লিস্টনের জায়গায় তাঁকে ব্যবহার করতে পারেন কোচ পানোস।
কোয়ার্টারফাইনালে জামশেদপুরকে হারাতে কালঘাম ছুটেছে মোহনবাগানের। টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে গেছে। ডুরান্ড ডার্বি জিতলেও পরের ম্যাচগুলোতে খুব একটা ভাল ফুটবল খেলেনি তারা। খেলবেই বা কীভাবে, তৈরি হওয়ার সুযোগই তো পায়নি। তাই নর্থ ইস্টের মোকাবিলা করার আগে খুব যে ভাল জায়গায় মোহনবাগান আছে, এমনটা বলা যাবে না। বুধবার অনুশীলনের পর ফুটবলারদের নিয়ে টিম মিটিংয়ে কোচ পানোস তাই নর্থ ইস্টের গোলমেশিন আলাদিন আজারে ও জিতিন এম এসের দিকে বাড়তি নজর রাখার কথা বলেছেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
