Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: তখন শুধু ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার অপেক্ষা। অপেক্ষা প্রিয় দলের জয়ে ফেরার। প্রায় ১৪ হাজারের গ্যালারিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়তে শুরু করেছে এই ভেবে যে দলটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হাতে সাত পয়েন্টের সঙ্গে আর তিন। ১০ পয়েন্ট নিয়ে সটান পৌঁছে যাবে টপ থ্রি-তে। পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের জন্য নেহাতই কম নয়। ঠিক যখন একগুচ্ছ সদর্থক ভাবনা নিয়ে বাড়ি ফেরার হিসেব করছেন সমর্থকরা তখনই ছন্দপতন।

ছয় মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের ঘড়ি দ্রুত এগোচ্ছে। আর তখনই একটা নির্বিষ কর্নারে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেড করে চলে গেলেন কেরালার আজসাল। কয়েক সেকেন্ডের নিরবতা হয়তো এভাবেই বিস্ফোরণের জন্ম দেয়। মুহূর্তে উচ্ছ্বাসের গ্যালারি আক্রমণের রূপ নিল। ধ্বনি উঠল, “গো ব্যাক অস্কার।” আগের দিনও বলেছিলেন, এদিনও বললেন, সমর্থকরা তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন। যদিও এদিন তাঁকে বলতে দেওয়া হল না, বাকিটা। সমর্থকদের ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি নিয়ে প্রশ্ন করতেই ‘অনলি ম্যাচ রিলেটেড প্রশ্ন’ বলে থামিয়ে দিলেন মিডিয়া ম্যানেজার। তার মধ্যেও অস্কার বললেন, ‘‘এটা সমর্থকদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ওরা ভাবছিল তিন পয়েন্ট পেয়ে গেছে কিন্তু এক পয়েন্ট পাচ্ছে দল, ওরা খুশি ছিল না। সমর্থকরা হতাশা প্রকাশ করবেই, আমার তাদের নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।’’

এর পর সেই ১৪ হাজারের গ্যালারির গুটিকতক সমর্থক, খুব বেশি হলে জনা পঞ্চাশেক হাজির হলেন সেই একই ধ্বনি নিয়ে ভিআইপি গেটের সামনে। যা দেখে এই প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে, অস্কার বিদায় নিক তাহলে কারা চাইছেন? তাহলে প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে অস্কার যে অভিযোগটা তুলেছিলেন সেটাই কি সত্যি?

যদিও এর মধ্যেই একদল সমর্থক দাবি তুলল ম্যানেজমেন্ট বদলেরও। বার বার কোচ বদলেও যখন ফল আসে না তখন এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না যে গলদ আসলে গোড়াতেই। এবার হয়তো কিছু দিনের মধ্যে অস্কার ব্রুজোঁর বিদায় ঘণ্টাও বেজে যাবে কারণ তিনি যে শাপের লেজে পা দিয়ে ফেলেছেন। তবে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অনেকটাই হতাশ দেখাল তাঁকে। সব প্রশ্নের উত্তর ছোট ছোট করেই দিলেন, যা তাঁর স্বভাব নয়। তিনি অনেকটা কথা বলতে পছন্দ করেন। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে পয়েন্ট নষ্টের জন্য দায়ী করলেন দলের একাগ্রতাকে।

বলেন, ‘‘শেষ মুহূর্তে দলের একাগ্রতা নষ্ট হয়েছে। তা ছাড়া পুরো ম্যাচে দল একাধিপত্ত দেখিয়েছে। সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু বক্সের মধ্যে সংযোগস্থাপন করে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ পুরো এক তরফা ছিল। শেষবেলায় গোল হজম একাগ্রতার অভাব থেকেই হয়েছে।’’ এদিন সল ক্রেসপোকে তুলে দ্বিতীয়ার্ধে সৌভিক চক্রবর্তীকে নামানোর কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সাউল আক্রমণে সাহায্য করছিল, সুযোগ তৈরি করছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে কেরালা আক্রমণে উঠছিল আর সেটাকে আটকাতে সৌভিককে আনা দ্বিতীয়ার্ধে।’’

তবে পর পর তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করা দলের যাত্রাকে অনেকটাই যে কঠিন করে তুলেছে তা কোচ খুব ভালো করেই জানেন। যদিও তিনি বলছেন, ‘‘আমরা এই ফলাফল থেকে মোটেও খুশি নই। তবে বাকি সময়টা কীভাবে এগোচ্ছি তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অনেক ভালো এর মধ্যে থেকেই বেরিয়ে আসবে সেগুলো নিয়ে এগোতে হবে। দল উন্নতি করছে। আমরা লক্ষ্য স্থির করে চাপ তৈরি করতে চাইছি না। আইএসএল-এর ফাইনাল পর্বে কী হয় সেটা দেখতে হবে।’’ পরের ম্যাচেই নামতে হবে কলকাতার আর এক দল মহমেডানের বিরুদ্ধে। এই আইএসএল-এর সব থেকে দুর্বল দল। তবে পচা শামুকে পা কাটার অভ্যেস থেকে বেরিয়ে না এলে বিপদ এখানেও তাড়া করতে পারে ইস্টবেঙ্গলকে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *