Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: নিউটাউনের অন্দরে এক কথায় প্রকৃতির মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই বিশাল পাঁচতলা বাড়িটি। যার প্রতিটি তলায় রয়েছে টেবল টেনিস অ্যাকাডেমির পরিকাঠামো। বিশ্বমানের এই টেবল টেনিস অ্যাকাডেমির উদ্যোক্তা ধানুকা ধানসেড়ি। আর তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে বাংলার টেবল টেনিসের দুই সেরা নাম সৌম্যদীপ ও পৌলমী। বাংলা তথা ভারতীয় টেবল টেনিসের তারকা জুটি। অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত সৌম্যদীপ ও পৌলমীর স্বপ্নের এই অ্যাকাডেমি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে পরবর্তী তারকা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যেই তাঁদের অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন প্রায় ১০০-র কাছাকাছি ছাত্র-ছাত্রী। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে ভাগ করে চলছে প্রশিক্ষণ। ধানুকা ধানসেড়ি সৌম্যদীপ পৌলমী টেবল টেনিস অ্যাকাডেমি স্বপ্ন দেখাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মকেও।

সৌম্যদীপ ও পৌলমী স্বপ্নটা দেখতে শুরু করেছিলেন অনেক বছর আগে। সেই সময় থেকেই একটু একটু করে শুরু কাজ। লক্ষ্য ছিল একটাই, তৈরি করা ভবিষ্যত প্রজন্মকে। তুলে আনা বাংলা থেকে আরও অনেক টেবল টেনিস প্রতিভা। সাময়িকভাবে নিজের বাড়িতেই সেই অ্যাকাডেমির কাজ শুরু করেন সৌম্যদীপ। তাঁদের সেই অ্যাকাডেমি বাংলার টেবল টেনিসকে হতাশ করেনি, দিয়েছে একাধিক প্রতিভা যাঁরা বিভিন্ন স্তর থেকে সাফল্য তুলে এনেছেন।

এরকমই তিনটি তলায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে

প্রাথমিক এই সাফল্যই জেদটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এই তারকা জুটির। এর পর নিজেরা খেলা ছাড়ার পর পুরোপুরি এই কাজেই মন দেন তাঁরা। যার ফলও পাওয়া যাচ্ছে হাতে নাতে। তার জ্বলন্ত উদাহরণ ঐহিকা, সুতীর্থা। এই দুই তারকা টেবল টেনিস প্লেয়ার তৈরি সৌম্যদীপ-পৌলমীর হাত ধরেই। কিন্তু একটা অ্যাকাজেমি চালাতে গেলে যে বিপুল পরিমাণ খরচ! খেলা মানেই বিপুল খরচ। যখন এটা মাথা ব্যথার কারণ হতে শুরু তখনই এগিয়ে আসেন ধানুকা ধানসেড়ির কর্ণধার সিকে ধানুকা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন এই উদ্যোগ।

সৌম্যদীপ ও পৌলমী, যাঁদের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এই অ্যাকাডেমি

সৌম্যদীপ বলছিলেন, ‘‘এই অ্যাকাডেমি আসলে একটা স্বপ্ন। এখানের প্রতিটি জিনিস আমাদের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে। এটা স্বপ্ন সফল হওয়ার প্রথম ধাপ। আমরা আরও ছেলে-মেয়েদের তুলে আনতে চাই যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’’ পৌলমী বলছিলেন, ‘‘আমাদের দিন শুরু হয় এই অ্যাকাডেমিতেই। ভোরবেলায় উঠেই এখানে চলে আসি আর রাতে ফিরি। আপাতত সবটা আমাদেরই সামলাতে হচ্ছে। এমনকি বাজারও করতে হচ্ছে সৌম্যদীপকে (হেসে)।’’

আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে এই অ্যাকাডেমিতে

রেসিডেন্সিয়াল অ্যাকাডেমি হওয়ায় ইতিমধ্যেই ছেলে মেয়েরা থাকতে শুরু করে দিয়েছেন। একটা ফ্লোর শুধুই ছেলে-মেয়েদের থাকার। ছেলেদের আর মেয়েদের আলাদা আলাদা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও ঘরে চার জনের আবার কোথাও ছয় জনের। তবে অনেকটা জায়গা নিয়ে তৈরি ঘরে রয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। এর সঙ্গেই রয়েছে কোচদের থাকার ঘর। যারা এই অ্যাকাডেমিতে থাকে তাদের জন্য রয়েছে এখানেই খাওয়ার ব্যবস্থা। একটা ফ্লোরে রয়েছে ক্যান্টিন আর ডাইনিং হল। সেখানেই রয়েছে ডে বোর্ডারদেরও থাকার জায়গা। তৈরি হচ্ছে আধুনিক সরঞ্জামের জিমও।

আধুনিক সরঞ্জামে জিমও তৈরি শিক্ষার্থীদের জন্য

ডে বোর্ডার মানে যে শিক্ষার্থীরা সকালে চলে আসে সারাদিন থেকে রাতে ফেরে তারা। তাদের অনুশীলনের পাশাপাশি খাওয়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানেই। তিনটি ফ্লোর মিলে রয়েছে অনুশীলনের জায়গা। এক সঙ্গে ১০০-র উপর শিক্ষার্থী অনুশীলন করতে পারবে এখানে। টপ ফ্লোরের যে অনুশীলন কক্ষ সেটা অনেকটা ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মতো। ভবিষ্যতে এখানে টুর্নামেন্ট হতে দেখা যেতেই পারে। এক কথায় পাঁচতলা বাড়ি পুরোটাই টেবল টেনিস।

অ্যাকাডেমির ডাইনিং হল

সৌম্যদীপ বলছিলেন, ‘‘বিদেশে গিয়ে দেখেছি ওখানকার পরিকাঠামো কতটা উন্নত। আমাদের দেশে এমনটা আমাদের সময় ছিল না। আমরা চেয়েছি সেই পরিকাঠামো দেশের মধ্যে সবার জন্য তৈরি করতে।’’ সৌম্যদীপের কথার রেশ ধরেই পৌলমী বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস ভারতে এই বিশ্বমানের টেবল টেনিস অ্যাকাডেমি প্রথম। তাই হয়তো সারা দেশ থেকে ছেলে-মেয়েরা আমাদের এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী। আমরা সবে শুরু করেছি। তার মধ্যেই প্রচুর মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এখানে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করানোর জন্য। এমন ঘটনাও রয়েছে, বাবা-মা নিউটাউনে এসে থাকতে শুরু করেছে শুধুমাত্র সন্তানকে টেবল টেনিস শেখানোর জন্য।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...