Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সুপার ফোরের নিয়মরক্ষার ম্যাচে শুক্রবার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। দুই দলের মধ্যে ভারত ইতিমধ্যেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আর এক ফাইনালিস্ট সেই চির শত্রু পাকিস্তান। এক টুর্নামেন্টে তৃতীয়বার মুখোমুখি হবে দুই দেশ। বিশ্ব ক্রিকেটে যে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা সব সময় চরমে থাকে। এবার তা কাদা ছোড়াছুড়িতেও পৌঁছে গিয়েছে। তবে এশিয়া কাপের অদ্ভুত নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। যা এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে দুই দেশের প্রথম দেখাও হতে চলেছে। তবে তার আগে বেঞ্চ স্ট্রেনথ দেখে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ম্যাচ। এদিন টস জিতে প্রথমে ভারতকেই ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও জয় ভারতেরই।

এশিয়া কাপে এই প্রথম এমন একটা ম্যাচ এতটা উত্তেজক রূপ নিল যার হার, জিতের কোনও প্রভাব পড়বে না টুর্নামেন্টের উপর। তবুও শেষ বলে দুই পক্ষই উত্তেজনায় কেউ বল ফসকালেন, কেউ রান নিয়ে জয়ের রানের জন্য ফিরতে পারলেন না। তবে ম্যাচ টাই হয়ে গেল। ২০ ওভারে ২০২ রানে থামল দুই দলই। সুপার ওভারের প্রথম বলেই অর্শদীপের বলে রিঙ্কুকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন কুশল পেরেরা। তবে চতুর্থ বলে একটি আউট নিয়ে বেশ খানিকটা জলঘোলা হয়। তবে নটআউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার। ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে শেষ পর্যন্ত আউট হন শানাকা। ২ রানের ২ উইকেটে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার সুপার ওভার। জিততে এক ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৩ রান। শুভমানের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন স্বয়ং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আর প্রথম বলেই তিন রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সূর্যকুমার।

প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তোলে। আবারও ব্যাটে দাপট দেখান ওপেনার অভিষেক শর্মা। ৩১ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যদিও আর এক ওপেনার শুভমান গিল মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এদিনও ব্যর্থ ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এখান থেকেই ৪ ও ৫ নম্বরে নামা তিলক ভর্মা ও সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন। ৩৯ রান করে আউট হন সঞ্জু। ৪৯ রান অপরাজিত থাকেন তিলক। হার্দিক পাণ্ড্যে ফেরেন ২ রানে। ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন অক্ষর প্যাটেল।

শ্রীলঙ্কার হয়ে একটি করে উইকেট নেন মহেশ থিকসানা, দুষ্মন্থ চামিরা, ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা, দাসুন শানাকা ও চরিথ আসালাঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। তবে সেখানে ভেঙে না পড়ে খেলা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। যা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পরও তাদের জন্য স্বস্তির পারফর্মেন্স তো বটেই আর ফাইনালের আগে ভারতের জন্য চিন্তার। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ভারত যে দলের প্রচুর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেছে তেমনটা নয়। অর্শদীপ সিং আর হর্ষিত রানাকে দলে আনা হয়েছিল। তবে এই ম্যাচে ব্যর্থ ভারতের বোলিং ইউনিট। শেষ বেলায় জ্বলে উঠে অবশ্য খেলা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ম্যাচ ড্র-এ নিয়ে যায় ভারত।

শ্রীলঙ্কা ওপেনার কুশল মেন্ডিস এদিন প্রথম বলেই কোনও রান না করেই ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। এর পর আর এক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন কুশল পেরেরা। ৩২ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে থামেন কুশল। ৭ রানে এক উইকেট থেকে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ১৩৪ রানে। যখন ভারতীয় বোলিং পুরোপুরি অকেজ হয়ে যায়। চরিথ আসালঙ্কা চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভরসা দিতে পারেননি, মাত্র ৫ রানে আউট হয়ে যান। ৩ রানে ফেরেন কামিন্দু মেন্ডিস। অন্যদিকে রীতিমতো শক্ত প্রাচীর তৈরি করে ফেলেছিলেন নিসাঙ্কা। তিনি যখন ফেরেন তখন তাঁর নামের পাশে ৫৮ বলে ১০৭ রান লেখা হয়ে গিয়েছেয় যার দৌলতে ম্যাচ পৌঁছে যায় শেষ ওভারের টানটান উত্তেজনায়। শেষ বলে শ্রীলঙ্কার জিততে দরকার ছিল ৩ রান। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ড্র করে ফেলে। ম্যাচ পৌঁছয় সুপার ওভারে। আর সেখানে শেষ হাসি হাসে ভারতই। সব ম্যাচ জিতেই ফাইনালে খেলতে নামবে ভারত।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *