ছবি সৌজন্যে ট্যুইটার
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে ইংল্যান্ডের ব্যাটার বেন ডাকেটের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত অনেক ভক্তকেই হতাশ করেছে। নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস ২ কোটি টাকায় এই ইংলিশ ওপেনারকে দলে নিয়েছিল এবং আশা করা হচ্ছিল যে, তিনি কেএল রাহুলের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন। তবে, ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতেই ডাকেট এই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আইপিএল শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে আসা এই ঘোষণাটি নতুন মরসুমের আগে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা তো বটেই।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ডাকেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে যারা সরে দাঁড়াবেন—এমন বিদেশি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
‘বিষয়টি বেশ জটিল। এটা স্পষ্ট যে, বেন ডাকেট অ্যাশেজ সিরিজে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন। আর ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামে তিনি যে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়েছিলেন, যদি তা না হতো—তবে হয়তো পরিস্থিতিটা ভিন্ন হতে পারত। এটা সহজেই অনুমেয় যে, ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ বেশ ভালো দামে বিক্রি হওয়ার সুবাদে তিনি হয়তো আইপিএল মিস করতেও খুব একটা আপত্তি করেননি; বরং তিনি এখন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ওপরই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাইছেন,’—’ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার এমনটাই মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘তবে হ্যাঁ, এ বিষয়ে বিসিসিআই-এরও আরও বেশি চিন্তাভাবনা করা উচিত যে, ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার যে বর্তমান নীতিটি চালু আছে, তা যে খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না—তা এখন স্পষ্ট। এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যার একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের ওপর বা আইপিএলে তার ফিরে আসার সুযোগের ওপর কোনও কার্যকর প্রভাব ফেলতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই নীতিগুলো কোনও কাজেই আসবে না।’’
যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না, তাদের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো যে—বিসিসিআই বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য একটি বিশেষ নীতি চালু রেখেছে। এই নীতি অনুযায়ী, কোনও বিদেশি ক্রিকেটার যদি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইপিএল শুরুর একেবারে শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান, তবে তার ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার পরবর্তী দুই বছরের জন্য আইপিএল-এ অংশগ্রহণ করা কিংবা নিলামে নাম লেখানো থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যান।
চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড ১-৪ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ওই সিরিজে ডাকেটের ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২০.২ এবং তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল মাত্র ৪২। এছাড়া, সিরিজের মাঝপথে বিরতির সময় ‘নুসা’ শহরে তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল—যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও ছড়িয়ে পড়েছিল।
শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ডাকেট বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া সফরে সবকিছু যেভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে আমি মোটেও গর্বিত নই। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখতে পাব—ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার বিষয়টি আমাদের কাছে ঠিক কতটা তাৎপর্যপূর্ণ।’’
‘‘আমি যে কেবল এই কারণেই এমনটা করেছি, তা নয়; তবে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানো—যার অর্থ হলো মোটা অঙ্কের অর্থ প্রত্যাখ্যান করা এবং বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে ও বিপক্ষে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা—এবং তার পরিবর্তে এখানে ‘নটস’-এর হয়ে খেলতে আসাটা হলো সঠিক লক্ষ্যের দিকেই একটি পদক্ষেপ। এর মাধ্যমেই আমি দেখাতে চেয়েছি যে, ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলার বিষয়টি ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ,’’ তিনি বললেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
