অলস্পোর্ট ডেস্ক: পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য ২৬ সদস্যের সম্ভাব্য ভারতীয় দলের ফুটবলারদের নাম বাছাই করেছেন জাতীয় দলের চিফ কোচ খালিদ জামিল। তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন মনে আসাটাই স্বাভাবিক। প্রথমটা হল, যেখানে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো হেভিওয়ট দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবল দলের সুযোগ আসে খুব কম, আর এলেও সেটা অনেক পরে পরে, সেখানে শুধুমাত্র ২৬ জন ভারতীয় ফুটবলারকে জাতীয় শিবিরে ডাকার কারণ কী? আর দ্বিতীয় প্রশ্নটা যেটা মনে জাগছে, এমন কয়েকজন ফুটবলারের নাম জাতীয় শিবির থেকে বাদ গেছে, তাঁদের না থাকার পেছনে কী যুক্তি আছে, সেটা দুর্বোধ্য? বিশেষ করে রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার সন্দেশ ঝিঙ্গানের না থাকাটা অবাক করেছে। সন্দেশ নিজেও ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ বাদ পড়ে।
প্রথমত, খেলাগুলো ঘরের মাঠে। এমন তো নয় ভারতীয় দল বিদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে ম্যাচ থাকলে ফুটবলারদের বিমানভাড়া ও থাকাখাওয়া বাবদ বাড়তি খরচ হয়। এখানে সেরকম কোনও ব্যাপার নেই। তাই ঘরের মাঠে অন্তত জাতীয় শিবিরে ২৬য়ের জায়গায় ৩৬ জনকে ডাকলেই বা সমস্যা কী? আর ম্যাচের সংখ্যা যেখানে তিনটি, সেখানে ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলালে লাভ বই ক্ষতি নেই। হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে খেললে ভারতীয় ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে বেশি করে। সেই সুযোগটা তো খালিদ জামিলের নেওয়া উচিত। এতে আখেরে লাভ হবে তাঁরই। ভবিষ্যতে ভারতীয় দল শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখে পড়লে লড়াইয়ের উৎসাহ পাবে।
প্রথম ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ পানামা, ২৬ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় ম্যাচ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৩ অক্টোবর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। যতটুকু জানা গেছে ব্রাজিল কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি পুরো শক্তির দল নিয়েই আসছেন। তাতে ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের থাকার কথা। আর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খালিদ জামিলের দলের মোকাবিলা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে। যে উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো ফোরলান ভারতের মাটিতে খেলে গেছেন আইএসএল মুম্বই সিটি এফসি দলের হয়ে। কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরাও তাঁকে খেলতে দেখেছেন এটিকের বিরুদ্ধে ম্যাচে রবীন্দ্রসরোবর স্টেডিয়ামের মাঠে।
এই তিন ম্যাচের জন্য বেঙ্গালুরুতে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রস্তুতি শিবির শুরু করছেন খালিদ জামিল ২৬ জন ফুটবলার নিয়ে। ২৬ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামা ম্যাচ খেলার পর ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য ভারতীয় দল নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় পৌঁছবেন ভারতীয় কোচ। এই শেষপর্বের অনুশীলন হবে রাজারহাট সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে।
তিনটি ম্যাচের জন্য জাতীয় শিবিরে ডাক পেয়েছেন আলবিনো গোমস, গুরপ্রীত সিং সান্ধু, প্রভুসুখন গিল, সোম কুমার(গোলকিপার), অভিষেক সিং, আকাশ মিশ্র, আনোয়ার আলি, বিজয় ভার্গিস, রালতে, জয় গুপ্তা, পরমবীর, রিকি হাওবাম(ডিফেন্ডার), অনিরুদ্ধ থাপা, আশিক কুরুনিয়ান, ফারুক চৌধুরি, আপুইয়া, ম্যাকারটন নিকেলসন, মহম্মদ সানান, রিকি শ্যাবং, সাহাল আব্দুল সামাদ(মিডফিল্ডার), এনমুন্ড লালরিডিকা, ইরফান ইরওয়ার, মনবীর সিং, রহিম আলি, রায়ান উইলিয়ামস, বিক্রমপ্রতাপ সিং(ফরোয়ার্ড)। এর বাইরে চারজন ফুটবলারকে রিজার্ভের তালিকায় রেখেছেন। এঁরা হলেন গোলকিপার ঋত্বিক তিওয়ারি, ডিফেন্ডার চিঙ্গলেসানা সিং, রোশন সিং ও মিডফিল্ডার সুরেশ সিং।
আশ্চর্যজনকভাবে খালিদের বাছাই করা ২৬ জনের দলে নেই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গান। তিনি কেন বাদ পড়েছেন সেটা অজানা। এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায় সন্দেশের কোনও চোট নেই। বয়স যদি সন্দেশের বাদ যাওয়ার কারণ হয়, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তির থেকে নিশ্চয়ই বড় কোচ নন খালিদ। আনসেলোত্তি দলের স্বার্থে পুরো ফিট না হওয়া সত্ত্বেও নেইমারকে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে রেখেছিলেন। সেটা দলের বাকি ফুটবলারদের উজ্জীবিত করতে। সেখানে সন্দেশের চোট বা ফিটনেসের কোনও সমস্যা আছে বলে জানা যায়নি। সন্দেশের ফর্ম যে খুব খারাপ এমনও নয়। বরং ইগর স্টিমাচ জাতীয় কোচ থাকাকালীন স্টপারে আনোয়ার আলির সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচে নজরকাড়া পারফরমেন্স দিয়েছেন সন্দেশ। তাই পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সন্দেশ রক্ষণে থাকলে গোল হজমের সম্ভাবনাটা কমত বলেই বিশ্বাস। সন্দেশ নিজেও খুব ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়ে। ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েওছেন, ব্রাজিল বা উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ জীবনে বারবার আসে না। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলে খারাপ তো লাগবেই।
শুধু সন্দেশ নয়, সম্ভাব্য ভারতীয় দলে সদ্য ডুরান্ড কাপ জয়ী ইস্টবেঙ্গল দলের বিপিন সিংয়ের না থাকাটাও দুর্ভাগ্যজনক। লাল হলুদের সাফল্যের অন্যতম কান্ডারী ছিলেন বিপিন। এটা ঠিক যে বিপিন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচ খেলতে ব্যস্ত থাকবেন ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সে তো লালমুন্ড লালরিনডিকাও থাকবেন, তাহলে সেই ম্যাচ হয়ে গেলে এডমুন্ডের মতো বিপিনও তো দু’দিন বাদে শিবিরে যোগ দিতে পারতেন ডাক পেলে। কোচ খালিদ জামিল ফর্মের দোহাই দিয়ে লিস্টন কোলাসো, রাহুল বেকে, ছাংতে বা গোলকিপার বিশাল কাইথকে বাদ দিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁদের শিবিরে ডাকতে কী সমস্যা ছিল।
সামনের তিনটি ম্যাচ নিয়ে খালিদের প্রতিক্রিয়া, ভারতীয় দলের জন্য পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলাররা এই ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে সক্ষম হবে। বেঙ্গালুরুর শিবিরটা প্রস্তুতির কজে লাগবে। পানামা ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের আরও ভালভাবে গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
