অলস্পোর্ট ডেস্ক: ব্যালন ডি’ওর জেতার দৌড়ে ছিলেন একাধিক রথা মহারথীরা। যার মধ্যে কিলিয়ান এমবাপে , লিওনেল মেসির মতো বড় নাম। সবাইকে পিছনে ফেলে ২০২৬য়ের ব্যালন ডি’ওর ট্রফি হাতে তুলে নিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। ২৫ বছরে এই প্রথম কোনও ইংল্যান্ডের ফুটবলার এই খেতাবের অধিকারী হলেন। এর আগে ২০২১ সালে আইকেল আওয়েন ব্যালন ডি’ওর জিতেছিলেন।
এতদিন পর্যন্ত অধিকাংশ সময় ব্যালন ডি’ওর ট্রফি ঘোরাফেরা করত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর লিওনেল মেসির হাতে। তাঁদের আধিপত্য থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৪য়ে ব্যালন ডি’ওর পান স্পেনের রড্রি ও ২০২৫য়ে ওসুমানে ডেমবেলে। এবার সেই সম্মানের অধিকারী হলেন কেন।
হ্যারি কোনের পরেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। লামিনে ইয়ামাল পরপর তিনবার সেরা প্রতিভাবান ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রড্রি ও মেসি।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ২ ঘন্টার জমকালো অনুষ্ঠান শেষে তুমুল হর্ষধ্বনির মাঝে শেষ খাম খুলে হ্যারি কেনের নাম ঘোষণা করেন ব্রাজিলের সিনিয়র রোনাল্ডো। তার কিছুক্ষণ আগে মহিলা ব্যালন ডি’ওর খেতাব পান লন্ডন সিটি লায়নেসের ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুটেলাস। পাঁচ বছর আগে বার্সিলোনার হয়ে প্রথম ব্যালন ডি’ওর জিতেছিলেন তিনি।
পুরুষ বিভাগে ব্যালন ডি’ওর খেতাব অর্জনের ভোটে হ্যারি কেন পিছনে ফেলেন রিয়েল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে ও বার্সিলোনার লামিনে ইয়ামালকে। লা’ ইয়ুইপের স্পনসরভুক্ত ব্যালন ডি’ওর ট্রফির বিজয়ী নির্ধারিত হয়েছে সাংবাদিক ও ফুটবল প্রশাসনের প্রতিনিধিদের ভোটে। এটা কেনের চলতি বছরে দ্বিতীয় খেতাব। এর আগে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে বুন্দেশলিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তিনি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের অধিকারী হন। এছাড়া ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন কেন নেতৃত্ব দিয়ে। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারলেও ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬য়ে এমবাপের ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান পায় ইংল্যান্ড। গত ৬০ বছরে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য বিশ্বকাপে।
স্ট্রাইকার হিসেবে ২০২৫য়ের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাব ও দেশের হয়ে ৮৯ গোল করেছেন হ্যারি কেন। বার্য়ানের সাফল্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিন বছর আগে আগের সব রেকর্ড ভেঙে বিশাল ট্রান্সফার ফি দিয়ে তাঁকে দলে নিয়েছিল বায়ার্ন। সেই সিদ্ধান্ত যে নির্ভুল ছিল, এটা তার প্রমাণ। ইংল্যান্ডর জার্সিতে ১২৫ ম্যাচে কেনের গোল ৯১। বয়স ৩৩। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে সামনে ইওরো কাপে কেন নিজের সেরাটা দিতে তৈরি থাকবেন, এটা ধরেই নেওয়া যায়। সবমিলিয়ে তাঁর পারফরমেন্স নজর কেড়েছিল। আর তাই তাঁর হাতেই উঠেছে ব্যালন ডি’ওর সম্মান।
ব্যালন ডি’ওর ট্রফি হাতে অভিভূত হ্যারি কেন বলেন, ‘ আমি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এই মূহূর্তে ট্রফি হাতে মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভুতি যে কী সেটা বলে বোঝাতে পারব না। বিশেষ করে নিজের প্রিয় শহর লন্ডনে এই পুরস্কার পাওয়া একটা অন্য মাত্রা যোগ করেছে। এই বছরটা সত্যি খুব কঠিন ছিল। এই সম্মান পাওয়ার লড়াইয়ে অনেক বড় বড় নাম ছিল। তাই এটা বিশেষ প্রাপ্তি। যারা ব্যালন ডি’ওর সম্মানের দৌড়ে ছিলেন, সেই সমস্ত দিকপাল ফুটবলারদের অভিনন্দন। ধন্যবাদ জানাই আমার স্ত্রী, পরিবার ও দেশ-ক্লাব ফুটবলের কোচ, কোচিং স্টাফ ও সতীর্থ ফুটবলারদের আমাই এই সম্মান প্রাপ্তিতে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না।’
ব্যালন ডি’ওর ট্রফি ছাড়াও গার্ড মুলার খেতাব পেয়েছেন হ্যারি কেন। বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন স্পেনের লুই দে লা ফুয়েন্তে। সেরা ক্লাব প্যারিস সা জাঁ। সেরা গোলকিপার উনাই সিমোন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
