Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে দাবা বিশ্বকাপ জেতা হল না প্রজ্ঞানন্ধা-র। ফাইনালে ম্যাগনাস কার্লসেনের কাছে হেরে গেলেও তাঁর লড়াইয়ে মুগ্ধ দেশ। ১৮ বছরের এই ছেলেটাকে হারাতে ভালই ঘাম ঝড়াতে হয়েছে কার্লসেনকে। প্রজ্ঞার এই সাফল্য স্বপ্ন দেখাচ্ছে আগামী প্রজন্মকে।

এফআইডিই বিশ্বকাপে রানার্স আপ হওয়ার পর প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘ফাইনাল পর্যন্ত আসতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি। আমি আজ জিততে পারিনি। কিন্তু দাবায় হার-জিত স্বাভাবিক।’’ জেতার জন্য প্রজ্ঞা ফইনালে কোনও চেষ্টারই খামতি রাখেনি। বিশ্বের এক নম্বর চ্যাম্পিয়ন এবং পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে তিনি ক্লাসিক্যালের দুটো ম্যাচেই ড্র করেন।

নরওয়ের গ্র্যান্ডমাস্টারের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় তাঁকে ঘিরে ছিল একদল কচিকাচা। সবাই প্রজ্ঞার খেলায় মুগ্ধ। তারা প্রজ্ঞার একটা অটোগ্রাফ পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। এখন তিনি সবার নজরে। কেমন লাগছে জনপ্রিয়তা পেয়ে এই প্রশ্নর উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি এটা দাবার জন্য ভাল। আমি খুব খুশি যে সবাই দাবা পছন্দ করছে। অনেকেই এখন এই খেলাটা শিখতে চায় তার জন্য আমি খুবই খুশি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি ফাইনালে পৌঁছতে পেরেছি বলে অনেকেই এখন থেকে দাবা খেলবে। সাধারণ মানুষ ভারতীয় দাবা সম্পর্কে আরও বেশি করে জানার আগ্রহ দেখাবে। অনেকেই এখন দাবা সম্পর্কে জানছে। অনেকেই এই দাবার জগতে আসছে। তার জন্য আমি অত্যন্ত খুশি।’’

দ্বিতীয় বিশ্ব সেরা দাবারু হিকারু নাকামুরা এবং তৃতীয় বিশ্বসেরা ফাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে তিনি বিশ্বকাপে উঠেছেন। এখানেই তাঁর সাফল্য সীমাবদ্ধ থাকিনি। ববি ফিশার এবং কার্লসেনের পর তিনিই তৃতীয় কনিষ্ঠতম দাবারু যিনি ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্টের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

শেষ দু’মাস প্রজ্ঞা শুধু টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টই খেলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি পর পর টুর্নামেন্ট খেলেই গিয়েছি। যার কারণে আমি এই ইভেন্টের জন্য বেশি সময় পাইনি। অন্যদের খেলা দেখে আমি শেখার চেষ্টা করতাম। আমি তো ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারব তা ভাবতেও পারিনি। কিন্তু সত্যি কথা আমি সত্যিই খুব খুশি।’’ এই বিশ্বকাপের জন্য তিনি একটা ভাবনায় মাথায় রাখতেন, ‘শুধু নিজের ওপর ভরসা করো আর খেলে যাও।’ অনেকেই মনে করছেন এত বড় সাফল্যের পর প্রজ্ঞা নিশ্চয়ই এখন কিছুদিন ছুটি কাটাবেন। কিন্তু তেমনটা হচ্ছে না। সোমবার থেকেই আর একটি টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেবে।

প্রজ্ঞার কথায়, ‘‘আমি ক্লান্ত এবং আমি এখন কিছুদিন বিশ্রাম নেব। আমার সোমবার থেকে আর একটা টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে।’’ দাবা মস্তিস্কের খেলা। স্ট্র্যাটেজি মেনে খেলতে হয়। কার্লসেনের বিরুদ্ধে নামার আগে তিনি নানাভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস খেলতাম। আমি নিজেকে শান্ত রেখেছিলাম। আমি শুধু আমার সেরাটা দিতে চেয়েছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘টাইব্রেকারে এর থেকে আমি আরও ভাল খেলতে পারতাম। কিন্তু যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। প্রথম গেমটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গেমের মাঝে আমি ভাল করছিলাম। কিন্তু আমি আমার সুযোগ নষ্ট করেছি।’’

তিনি নিজের পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর পাশে থাকার জন্য। তিনি বলেন, ‘‘পরিবারের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পরিবার সবসময়ই আমাকে সমর্থন করে গিয়েছে। আমার বোনের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। এই লম্বা ইভেন্টে ও আমাকে অনেক সময়ই রান্না করে দিত।’’

প্রজ্ঞানন্ধা গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন ১২ বছর বয়সে। কোভিডের সময় তিনি নিজেকে আরও তৈরি করেছেন। চেন্নাইয়ের এই কিশোর অনলাইন টুর্নামেন্ট খেল খেলে নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি সেই সময় নিজেকে অনেকটা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় এই অভিজ্ঞতাগুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...