অলস্পোর্ট ডেস্ক: কিছু সময়ের অপেক্ষা। এলিট ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েও সেই সাফল্য পাওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩-এ শেষ পর্যন্ত সেই সাফল্য এল ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তান অবশেষে দেখিয় দিল যে তারা ক্রিকেটের অভিজাতদের তালিকার মধ্যেই রয়েছে, এবং ভারতের মাটিতে ভারতেরই সাহায্যের হাত বাড়িযে দেওয়ার পর এই সাফল্য। কয়েক বছর ধরে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিধ্বস্ত দেশটি নিজেদের দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলতে পারেনি। সেই সময় ভারতই ছিল তাদের হোম গ্রাউন্ড।
রবিবার সেই ক্রিকেট দলটি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। তারা হোল্ডারদের ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ৬৯ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় জয়ের মুখ দেখেছে। আফগানিস্তান ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে প্রচুর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনকি সীমান্তের অপর প্রান্তে শরণার্থী শিবিরগুলিতে থেকে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। এমনকি পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে অভিষেকও হয়েছিল এই দেশটির।
তবে, পরবর্তী সময়ে বিসিসিআই আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। যা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের খেলার দ্রুত উত্থানে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।
গ্রেটার নয়ডায় শহীদ বিজয় সিং পাঠক স্পোর্টস কমপ্লেক্সটি ২০১৫ সালে বিসিসিআইয়ের সহায়তায় আফগানিস্তান দলের অস্থায়ী “হোম-গ্রাউন্ড” হয়ে ওঠে। তারা শারজাহ থেকে নয়ডায বেস স্থানান্তরিত করে এবং এমনকি ২০১৭ সালে গ্রেটার নয়ডায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে।
আফগানিস্তান দেরাদুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টি -টোয়েন্টি সিরিজের আয়োজনও করেছিল। এছাড়াও ভারতের প্রাক্তন খেলোয়াড় লালচাঁদ রাজপুত এবং মনোজ প্রভাকর আফগানিস্তান দলকে কোচিং করিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য, বিসিসিআই তৎকালীন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে বেঙ্গালুরুতে দলের প্রথম টেস্ট খেলা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
তারপর থেকে দলটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে, নিয়মিতভাবে তাদের টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব ইভেন্টে খেলছে। আইপিএলে আফগান খেলোয়াড়রাও দেশে খেলাধুলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে।
আফগানিস্তান সবসময় একটি ক্রিকেট দেশ হিসেবে তাদের উন্নয়নে ভারতের ভূমিকা স্বীকার করেছে। পাঁচ বছর আগে যখন আফগানিস্তান ১২তম টেস্ট খেলিয়ে দেশ হয়ে ওঠে, তখন দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াইয়ের ফল পায় যা ১৯৯৫ সালে শুরু হয়েছিল, যখন আফগানিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
গত কয়েক বছরে যখনই তারা মাঠে নেমেছে তখনই বড় দলগুলিকে বেগ দিয়েছে। তবে বড় দলের বিরুদ্ধে সাফল্য আসেনি তেমনভাবে। যা রবিবার এল, তাও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতেরই মাটিতে। অন্যতম বড় দলের বিরুদ্ধে এই ফলাফলের লক্ষ্যেই ছিল আফগানিস্তান।
এই ম্যাচে প্রথম থেকেই দাপট দেখিয়েছে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখতে সক্ষম হয় দল যা ছাপিয়ে যেতে পারেনি ইংল্যান্ড। এই উইকেট সম্প্রতি বড় রান দিয়েছে যা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন আফগান ব্যাটাররা। আফগানিস্তান ব্যাটাররা প্রথমে জয়ের লক্ষ্যে বড় রান তুলে বোলারদ কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল বাকি কাজ করে দেন তাদের স্পিন ত্রয়ী। যা শক্তিশালী ইংলিশ ব্যাটিং লাইন আপকে আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি।
দলের সবচেয়ে বড় অ্যাম্বাসেডর রশিদ খান শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে বিখ্যাত জয় নিশ্চিত করেন। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি ম্যাচ জিতে বলেন, ‘’আমি খুব খুশি, দলের সবাই খুশি। এটি আমাদের জন্য সেরা জয়, পরের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস থাকবে এবং আমি খুব গর্বিত।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
