ছবি— মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: পঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে দলের জয়ের পর, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অলরাউন্ডার শার্দুল ঠাকুর জানিয়েছেন যে দলের নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যের চোট রয়েছে; তবে তিনি আশা করছেন যে আগামী বুধবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে হার্দিক দলে ফিরবেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই হার্দিক দলের বাইরে ছিলেন। এর ওপর আবার নিজের সন্তানের জন্মের কারণে পঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব। এমন পরিস্থিতিতে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দেন যশপ্রীত বুমরাহ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য ম্যাচটি ছিল এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা—যেখানে শার্দুলের চার উইকেট শিকার এবং তিলক ভার্মার অটল মানসিকতা ছিল এই মরসুমে মুম্বইয়ের চতুর্থ জয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে শার্দুল বলেন, ‘‘হার্দিক চোটগ্রস্ত, তাই সে গত কয়েকটি ম্যাচে দলের সঙ্গে সফর করতে পারেনি। সে রায়পুরে গিয়েছিল [১০ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য], কিন্তু খেলতে পারেনি। সে এখন মুম্বইতে অনুশীলন করছে এবং আমি আশা করছি যে সে কলকাতায় দলের সঙ্গে যোগ দেবে এবং আগামী বুধবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেলবে। তার মতো খেলোয়াড়দের অভাব আমরা সবসময়ই অনুভব করি।’’
হার্দিককে অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ‘ট্রেড’ বা বদলি করে দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে শার্দুল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের গুঞ্জন সবসময়ই চলতে থাকে।’’
অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়—উভয় ভূমিকাতেই হার্দিকের এই মরসুমটি ছিল বেশ সাদামাটা। দলে তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তার দল পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। শুধু তাই নয়, আটটি ইনিংসে ব্যাট করে তিনি মাত্র ১৪৬ রান করেছেন, যার গড় ২০.৮৫। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৬-এর বেশি হলেও, তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর মাত্র ৪০। বোলিংয়েও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক; তিনি মাত্র চারটি উইকেট পেয়েছেন, যার বোলিং গড় ৬১.৫০ এবং ইকোনমি রেট প্রায় ১২।
ম্যাচে মুম্বইকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া তিলক ভার্মার ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসটিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন শার্দুল। তিনি বলেন, “তিলক খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শট খেলার জন্য নির্দিষ্ট এলাকা এবং বল বেছে নিয়েছিল। (রায়ান) রিকলটনও তাঁর বড় বড় শটগুলোর মাধ্যমে তিলককে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছে।’’ এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, ‘‘ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতি বারবার ওঠানামা করেছে।’’
‘‘পাওয়ার-প্লেতে আমরা দারুণ শুরু করেছিলাম; কিন্তু পাওয়ার-প্লে-র শেষ দিকে এবং মাঝের ওভারগুলোর শুরুতে বেশ কিছু রান খরচ হয়ে গিয়েছিল। এরপর অবশ্য আমরা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলাম। আর তারপর ডেথ ওভারগুলোতে আবারও কিছু রান উঠেছে,’’ তিনি বলেন।
‘‘আমাদের ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে—পাওয়ার-প্লেতে আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, এরপর কিছুটা ধুঁকতে হয়েছে, এবং সবশেষে আমরা আবারও রানের গতি বাড়িয়েছিলাম। খেলার গতি বা ‘টেম্পো’ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছিল। বোলার হিসেবে বারবার ম্যাচে ফিরে আসাটা বেশ কঠিন, কারণ হঠাৎ করেই খেলার গতিপথ বদলে যায়; তখন আপনাকে ভাবতে হয় যে প্রতিপক্ষের রানের চাকা থামানোর জন্য আপনার হাতে কী কী বিকল্প রয়েছে। আবার হঠাৎ যখন এক-দু’টি উইকেট পড়ে যায়, তখন আপনি উইকেট শিকারের সুযোগ খুঁজতে থাকেন।”
“ম্যাচে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে বারবার। বোলারদের নিজেদের মানসিকতা বা রণকৌশল বেশ কয়েকবার বদলাতে হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য এটি ছিল ধৈর্যের এক পরীক্ষা—তারা আলগা বলের অপেক্ষায় থাকে এবং সুযোগ পেলেই সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে বড় স্কোরে রূপান্তর করার চেষ্টা করে,’’ তিনি যোগ করেন।
এমআই দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা যতটা রান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, শেষমেশ তার চেয়ে ২০ রান বেশি খরচ করে ফেলেছে। রোহিত শর্মা, হার্দিক এবং বর্তমানে বুমরাহ—এই তিন অধিনায়কের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শার্দুল বলেন যে, অধিনায়ক হিসেবে তাঁদের মূল্যায়ন করাটা বেশ ভিন্নধর্মী একটি বিষয়।
‘‘ক্রিকেটে এমন কোনও নির্দিষ্ট ‘মন্ত্র’ নেই যা আপনাকে নিশ্চিত সাফল্য এনে দেবে। একজন খেলোয়াড় এবং একজন অধিনায়ক—উভয়কেই সর্বদা সক্রিয় ও দূরদর্শী হতে হয়। খেলোয়াড় হিসেবে আমরাই একজন অধিনায়ককে সফল করে তুলি। খেলোয়াড় হিসেবে, এমন অনেক ম্যাচ আছে যেখানে আমরা দারুণ খেলেছি; আবার এমন কিছু ম্যাচও আছে যেখানে আমরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছি। তাঁদের সবারই প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাঁরা এই দলের পাশাপাশি ‘টিম ইন্ডিয়া’-র হয়েও ম্যাচ জয়ী ভূমিকা পালন করেছেন,’’ তিনি বললেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
