Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায় :‌ সত্যি সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ!‌ বলা ভাল এই দেশের ফুটবল ফেডারেশন। ভাবা যায়, শুক্রবার ঢাকুয়াখানায় আসামের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে সকাল ৯টায় হোটেল থেকে বেরিয়ে দূপুর ১টা ৫০ মিনিটে, অর্থাৎ ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিট আগে মাঠে পৌঁছেছিল বাংলা ফুটবল দল। এতটা সময় লাগার কারণ ছিল, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের র‌্যালি ও সভার কারণে রাস্তার বিশাল যানজট। সংগঠকদের বলে ম্যাচটা সামান্য দেরিতে শুরু করা সম্ভব হলেও, ম্যাচ খেলে বাংলা দলের হোটেলে ফেরার সময় যা অভিজ্ঞতা হল, তা ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক। ওই রাজনৈতিক দলের দাপাদাপিতে বিকেল ৫টায় ম্যাচ শেষে ঢাকুয়াখানা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোর ৫টায় হোটেলে পৌঁছন সঞ্জয় সেন ও তাঁর ফুটবলাররা। গোটা রাত মিলিয়ে ১২ ঘন্টা তাঁদের বাসে কাটাতে হয় বিনা খাবার ও জলে। এটা কোনও সভ্য দেশের ফুটবলের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন হতে পারে?‌

আসামের ঢাকুয়াখানা আর শিপাপোতায় সন্তোষ ট্রফির খেলা নিয়ে এমনিতেই অসন্তোষ দেখিয়েছিলেন বাংলা ফুটবল দলের কোচ সঞ্জয় সেন। রোজ ডিব্রুগড় থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়া ও হোটেলে ফিরে আসার ধকল তো ছিলই। একদিন অন্তর ম্যাচ খেলা আর জেতার চাপ নিতে হয়েছে গতবারের বাংলা দলকে। এরপর আসামের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে যাওয়ার যা অসহনীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলা ফুটবলারদের, তা এককথায় অমাননবিক। বাংলার কোচ সঞ্জয় সেনের ক্ষোভে ফেটে পড়াটা স্বাভাবিক। তিনি সরাসরি এই অবস্থার জন্য দায়ি করেছেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যান চৌবেকে। চুপ করে থাকেননি আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত। তিনিও ক্ষোভে ফুঁসছেন। এআইএফএফ ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণকে চিঠি দিয়ে ওই অব্যবস্থা ও বাংলা দলের অসহনীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। এর প্রতিকার চেয়েছেন। এইমুহূর্তে যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেটা হল ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলা দলের কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া। চিঠিতে সেই কথা বলেছেন আইএফএ সচিব।

ক্ষোভে ফুঁসছেন সঞ্জয় সেন। শনিবার সন্ধেতে ঘুম জড়ানো গলায় বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন বলেন, ‘‌ এভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি হবে?‌ যে ফেডারেশনের মাথায় কল্যান চৌবের মতো কোনও জ্ঞান না থাকা লোক বসে থাকে, সেখানে এর বেশি কিছু আশা করা ভুল?‌ কোথায় খেলা দিচ্ছে, তা নিয়ে আদৌ কোনও ধারনা আছে বলে মনে হয় না। হোটেল থেকে রোজ ৩ঘন্টা দূরের মাঠে খেলতে যেতে হয়। এতে ফুটবলাররা এমনতিই কাহিল। তার মধ্যে একদিন অন্তর খেলা। আর এবার যেটা ঘটল, সেটা তো রীতিমতো অত্যাচার?‌ রাজনেতিক সমাবেশ আছে জেনেও সেদিন ম্যাচ দিল কীভাবে?‌ হোটেল থেকে মাঠে যাওয়ার সময় কোনও এসকর্ট ভ্যান দেওয়া হয়নি আমাদের টিম বাসের সঙ্গে। আসার সময়ও ছিল না। বিকেল ৫টায় বেরিয়ে ১২ ঘন্টা বাসে পা মুড়ে বসে থেকে পরদিন ভোর ৫টায় হোটেলে ফিরেছি। এরপর ফুটবলারদের কাছে সেরা দিতে বলাটা সম্ভব?‌ সন্তোষ ট্রফির নামে একটা প্রহসন চলছে। ২ ফেব্রুয়ারি কোয়ার্টারফাইনালের খেলা আছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সার্ভিসেস বা মেঘালয়। তবে ম্যাচের দিন না পিছিয়ে দিলে কীভাবে ১২ ঘন্টা বাসের মাঝে না ঘুমিয়ে, না খেয়ে , জল না পেয়ে কাটানো ফুটবলাররা কীভাবে মাঠে নামবে সেরা দিতে?‌’‌

আশা করা যায় আইএফএর চিঠি পেয়ে ফেডারেশনের টনক নড়বে। বাংলা দলের কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচের দিন বদলাতে পারে। তবে ৮০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার যন্ত্রণা এতটুকু কমবে না বাংলা দলের ফুটবলারদের।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *