ছবি: এএফএসেলেসিওন
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ব্যাপারটা এতদিন চাপাই ছিল। তবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে এবার সেটা সামনে এসেছে। পুলিশ মহল থেকে পাওয়া এক তথ্য হাতে এসেছে প্রচারমধ্যমের। তাতে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো এবং তাঁদের পরিবার, কোচিং স্টাফের ওপর একাধিক বোমা ও বন্দুক হামলার হুমকি ছিল।
ফোনের মাধ্যমে দেওয়া একটি হুমকিতে নাকি বিশ্বকাপের সংগঠকদের বলা হয়েছিল, তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছে, তারা ডালাসের স্টেডিয়ামে যাচ্ছে ঘরে তৈরি বোমা ও এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে। তাদের মূল লক্ষ্য হল মেসি, এছাড়াও ম্যাচে অংশ নেওয়া দু’দল ফুটবলার , কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের পরিবারের লোকজন।
আর একটি হুমকি দেওয়া হয়, ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও মিশর ম্যাচের দিন। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে দাবি করে এক ব্যক্তি, সে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকছে চারটি বোমা নিয়ে মেসিকে মারতে। সে লেখে, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকছি শরীরে বাঁধা চারটি বোমা নিয়ে। আমি মেসিকে উড়িয়ে দেব সেই বোমার সাহায্যে।’ আর একজন ফোনে হুমকি দিয়ে বলে, আটলান্টা স্টেডিয়ামের ময়লা জমা করার ড্রামে তিনটি বোমা লুকিয়ে রেখেছে। সময়মতো সেগুলো ফেটে গোটা স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
এসব হুমকিকে হাল্কাভাবে না নিয়ে আমেরিকার উন্নতমানের নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মী, পুলিশ কুকুর, কে-নাইন ইউনিট সেই বোমা খোঁজার কাজে দ্রুততার সঙ্গে নেমে পড়ে। একইসঙ্গে আটলান্টায় খেলা দেখতে আসা দর্শকদের চিরুনি তল্লাসী করে কোনওরকম নাশকতার ছক বানচাল করতে। এই সিকিউরিটি অপারেশনে বিশ্বকাপ সংগঠকদের তরফে নিয়োগ করা নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও এফবিআই ও আইপিসিসি(সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশানাল পুলিশ কর্পোরেশন) অংশ নেয়।
শুধু মেসি নয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো মেগাতারকার ওপর হামলার ছক কষেছিল এক বা একাধিক দুষ্কৃতি। বিশ্বকাপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তারা জানতে পারেন, রোনাল্ডোর ওপর হামলার জন্য ওই ফুটবলারের থাকার জায়গা ও তার গতিবিধি নিয়ে নানা খোঁজখবর চালিয়েছিল একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী সংগঠকদের জানান, এক ব্যক্তি বারবার জানতে চাইছিল, পর্তুগাল অধিনায়ক রোনাল্ডো কোন হোটেলে থাকছে, আর তার ট্রেণিং শিডিউল কী? পরে জানা যায়, হিউস্টনে যেখানে রোনাল্ডো ও পর্তুগাল ফুটবল দল ছিল বিশ্বকাপের সময়, সেখান থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিস প্রশাসন।
আরও একটা ঘটনা ঘটে কানাডার টরোন্টোতে। একজন ব্যক্তি নিরাপত্তার বেষ্ঠনী টপকে এক লিফটে রোনাল্ডোর সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করলে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে থামান ও আটক করেন। কী তাঁর অভিপ্রায় ছিল, সেটা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, সেই ব্যক্তি অবশ্য দাবি করেন, তিনি ফুটবল আইকন রোনাল্ডোর সঙ্গে সেলফি তোলার লোভ সামলাতে পারেননি। তাই লিফটে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করেছিলেন। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এক ব্যক্তি রোনাল্ডোর জার্সি গায়ে ম্যাচের সময় মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ধরে ফেলে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান ও আটক করেন।
শুধু ফুটবলারই নয়, হামলাকারীদের লক্ষ্যে ছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রান্সিস লেটেকশিয়ের। পুলিশ ফাইল থেকে জানা গেছে, আর্জেন্টিনা ও মিশর ম্যাচের ওই রেফারি ৬০০০ হুমকির বার্তা পেয়েছিলেন হোয়াটসঅ্যাপে। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি উইলি ডেলায়ডকে গালিগালাজের সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় মেসেজ করে। তবে এসব হুমকির মাঝে একটাই ভাল ব্যাপার, গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপ। স্বস্তি পেয়েছেন কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকার সংগঠকরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
