Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: লড়াই করেও এএফসি এশিয়ান কাপ অভিযান হার দিয়েই শুরু করল ভারত। শনিবার কাতারে আল রায়ানের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে বিশ্বের ২৫ নম্বর ও এশিয়ার চার নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া ২-০-য় হারাল তাদের। ভারত প্রথমার্ধে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে দূর্গরক্ষা করতে পারেনি ইগর স্টিমাচের দল। ৫০ ও ৭৩ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে তিন পয়েন্ট এনে দেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিন ও তাঁর সতীর্থ জর্ডান বস।

এ দিন প্রথমার্ধে অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ভারত। ভয়ডরহীন ফুটবল বলতে যা বোঝায়, একেবারে তা-ই খেলেন সন্দেশ ঝিঙ্গনরা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ঘন ঘন আক্রমণে ওঠার চেষ্টা না করে নিজেদের রক্ষণকে দুর্ভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েই এ দিন নেমেছিলেন সুনীল ছেত্রীরা। প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিট পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফলও হয় তাঁদের। কিন্তু ৫০ মিনিটে গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মুহূর্তের ভুলে গোল পাওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়া ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে ও ভারতীয় রক্ষণে ফাটল ধরাতে শুরু করে। তাও নীলবাহিনীর রক্ষণের তৎপরতার জন্য আর একটির বেশি গোল করতে পারেনি ‘সকারু’রা।

এ দিন ভারত বল পজেশনে অনেক পিছিয়ে (২৯-৭১) থাকলেও রক্ষণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ২৮টির মধ্যে ছ’টি শট যেখানে লক্ষ্যে ছিল, সেখানে ভারত চারটির মধ্যে একটির বেশি শট গোলে রাখতে পারেনি। এর মধ্যে অজিদের ১৪টি শট ব্লক করেছেন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। বক্সের মধ্যে থেকেই ২২টি শট নেন আরভিন, ডিউকরা। কিন্তু দুটির বেশি গোল করতে পারেননি। ভারত যেখানে সারা ম্যাচে ৩৫ বার আক্রমণ ক্লিয়ার করে, সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে একটিও বল ক্লিয়ার করতে হয়নি।

রক্ষণ সামলেও লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে, মনবীর সিংরা কয়েকবার প্রতি আক্রমণে ওঠেন। একবার সুনীল ছেত্রী ও আর একবার সুরেশ ওয়াংজাম গোলের সুযোগ পান। কিন্তু কোনওবারই সফল হননি। এ ছাড়া আর কোনও ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভারত। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হার এড়াতে না পারলেও ভারত কিন্তু প্রথম ম্যাচেই আশা জিইয়ে রাখল। আগামী বৃহস্পতিবার উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ও ২৩ তারিখে সিরিয়ার বিরুদ্ধে এই মানসিকতা ও ভয়ডরহীন ফুটবল বজায় রাখতে পারলে ইতিবাচক ফল পেতেই পারে তারা।

এ দিন দুই দলই ৪-২-৩-১-এ দল সাজায়। ভারত যেমন সুনীল ছেত্রীকে সামনে রেখে ও তাঁর পিছনে ছাঙতে, সুরেশ ও মনবীরকে রেখে দল সাজায়, তেমন অস্ট্রেলিয়া মিচেল ডিউককে সবার আগে রেখে তাঁর পিছনে মার্টিন বয়েল, কোনর মেটকাফ ও ক্রেগ গুডউইনকে রেখে তাদের আক্রমণ বিভাগ সাজায়। চার ব্যাকে খেলা ভারতের দূর্গরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন রাহুল ভেকে ও সন্দেশ ঝিঙ্গন এবং তাঁদের দু’পাশে শুভাশিস বোস ও নিখিল পূজারি।

প্রথমার্ধে ভারতীয় রক্ষণ বেশ চাপে থাকলেও মাঝে মাঝে ছাঙতেরা প্রতি আক্রমণে ওঠেন। প্রথমার্ধে এ দিন বল দখলে ভারত অনেক পিছিয়ে (২৯-৭১) থাকলেও অস্ট্রেলিয়াকে দু’টির বেশি শট গোলে রাখতে দেননি ঝিঙ্গনরা। ভারতও প্রথম ৪৫ মিনিটে (বাড়তি সময় সহ প্রায় ৫২ মিনিট) একটি শট গোলে রাখে। অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শট ব্লক করেন শুভাশিসরা।

অস্ট্রেলিয়ানরা বারবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও তাদের কোনও ভাবে বিপজ্জনক এলাকায় বা পরিস্থিতিতে পৌঁছতে দেয়নি ভারত। আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে কোচ স্টিমাচ বলেছিলেন, অজিদের মাঠের দুই প্রান্ত থেকে বেশি ক্রস দিতে দেবেন না, এ দিন ঠিক তাঁর দলের ছেলেরা তাঁর নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে ২৯টি ক্রস দেন বয়েল, গুডউইনরা। কিন্তু তার ২৮ শতাংশ সফল হয়। সারা ম্যাচে যেখানে ১৪টি কর্নার আদায় করে অজিরা, সেখানে ভারত একটিও কর্নার পায়নি।

১৬ মিনিটের মাথায় নিখিল পূজারি বাঁ দিক থেকে প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে বল পাঠান এবং সুনীল ছেত্রী সামনে ডাইভ দিয়ে তা হেড করে গোল করার চেষ্টা করলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে সুরেশ সিংয়ের দূরপাল্লার শট দখলে নিয়ে নেন গোলকিপার ম্যাথু রায়ান। এই দু’টি ছাড়া ভারত আর তেমন ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল থার্ডে প্রবেশ করলেই তাঁদের বেশিরভাগ সময়েই কড়া পাহাড়ায় ঘিরে ফেলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। আসলে আক্রমণের সুযোগ বেশি না পেয়ে রক্ষণেই বেশি মনযোগ দেন তাঁরা। তাই অস্ট্রেলিয়া বারবার আক্রমণে ওঠার সময় ভারতের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই নিজেদের এলাকায় নেমে এসে রক্ষণে সাহায্য করেন।

তবে বিরতিতে অন্য পরিকল্পনা তৈরি করে এসে যখন মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া, তখন আরও চাপে পড়ে যায় ভারত। এই চাপ বেশিক্ষণ রাখতে পারেনি তারা এবং ৫০ মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে যায়। অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীতের মুহূর্তের ভুল কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিন।

ডানদিক থেকে বয়েলের উড়ন্ত ক্রস এগিয়ে এসে এক হাতে বক্সের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেন গুরপ্রীত। কিন্তু তাঁর হাতে বল ঠিকমতো না লাগায় তা এসে পড়ে সামনেই আরভিনের পায়ে। তিনি বাঁ পায়ে গুরপ্রীতের ডানদিক দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন সোজা গোলে। গোল লাইনে থাকা নিখিল পূজারি বাঁ পা বাড়িয়ে বল আটকানোর চেষ্টা করেও নাগাল পাননি (১-০)।

দল বেশিরভাগ সময়েই হাইলাইন ফুটবল খেলায় অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার ও অধিনায়ক ম্যাথু রায়ানকে বেশিরভাগ সময়েই বক্সের সামনের দিকে দেখা যাচ্ছিল। ৬৯ মিনিটের মাথায় এমনই এক মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে আসা ব্যাকপাস রায়ানের অনেক দূর দিয়ে গোলে ঢোকার আগে দিক পরিবর্তন করে না ফেললে হয়তো সমতা এনে ফেলত ভারত। এর তিন মিনিট আগেও রায়ান গোল ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ছাঙতে তাঁর সামনে প্রায় ফাঁকা গোল পেয়ে যান। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য দূরপাল্লার শটও নেন তিনি। কিন্তু তা গোলের বাইরে চলে যায়।

৭২ মিনিটের মাথায় একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া। গুডউইনের জায়গায় যিনি মাঠে নামেন, সেই জর্ডন বস ম্যাচের প্রথম টাচেই গোল পেয়ে যান এবং এটিই ছিল দেশের হয়ে তাঁর প্রথম গোল। তবে এই গোলের ক্ষেত্রে ভারতীয় ডিফেন্ডাররাই অনেকটা দায়ী ছিলেন। প্রথমত ডানদিক থেকে বল নিয়ে রিলি ম্যাকগ্রিকে বক্সে ঢুকতে দেন সুরেশ এবং তিনি যখন দ্বিতীয় পোস্টের সামনে বসকে পাস দেন, তখন তিনি ছিলেন কার্যত অরক্ষিত। ফলে গোলে বল ঠেলতে তাঁর কোনও অসুবিধাও হয়নি (২-০)। এ বারও গোললাইনের সামনে ছিলেন নিখিল। কিন্তু তাঁর ডানদিক দিয়ে গোলের দিকে যাওয়া বলের দিকে পা বাড়িয়েও নাগাল পাননি তিনি।

দলকে কিছুটা তরতাজা করে তুলতে শেষ ১৫ মিনিটের মধ্যে রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে আকাশ মিশ্র, লিস্টন কোলাসো, অনিরুদ্ধ থাপা, নাওরেম মহেশ সিং ও বিক্রম প্রতাপ সিংদের নামান স্টিমাচ। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। বরং আরও একটি গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান বস। বক্সের বাঁ দিক থেকে তিনি কোণাকুনি শট নেন গোলের উদ্দেশ্যে, যা দ্বিতীয় পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে আরও ছ’মিনিট বাড়তি সময় দেন, জাপানের মহিলা রেফারি ইয়ামাশিতা ইওশিমি। এর মধ্যে ভারত কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি তবে শেষ দিকে ভারতের বক্সের মধ্যে পরপর চারটি শট ব্লক করেন ভারতীয়রা। না হলে হয়তো আরও বেশি ব্যবধানে হারত তারা।

ভারতীয় দল: অমরিন্দর সিং (গোল), শুভাশিস বোস (আকাশ মিশ্র-৭৪), রাহুল ভেকে, সন্দেশ ঝিঙ্গন, নিখিল পূজারি, লালেঙমাউইয়া রালতে আপুইয়া, দীপক টাঙরি (অনিরুদ্ধ থাপা-৭৯), লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে (বিক্রম প্রতাপ সিং-৮৭), সুরেশ ওয়াংজাম (লিস্টন কোলাসো-৭৪), মনবীর সিং, সুনীল ছেত্রী (নাওরেম মহেশ সিং-৮৭)।

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...