অলস্পোর্ট ডেস্ক: এএফসি এশিয়ান কাপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বমানের দলের কাছে দু’গোলে হারকে নেতিবাচক ভাবে নিতে রাজি নন ভারতীয় দলের দুই সিনিয়র ফুটবলার সন্দেশ ঝিঙ্গন ও গুরপ্রীত সিং সান্ধু। বরং তাঁরা মনে করেন, এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
শনিবার কাতারে আল রায়ানের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে বিশ্বের ২৫ নম্বর ও এশিয়ার চার নম্বর দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ভারত। ভয়ডরহীন ফুটবল বলতে যা বোঝায়, একেবারে তা-ই খেলেন ঝিঙ্গনরা।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষণকে দুর্ভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েই এই ম্যাচে নেমেছিলেন সুনীল ছেত্রীরা। ম্যাচের ৫০ মিনিট পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফলও হয় তাঁদের। কিন্তু তার পরে ২৩ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল খেয়ে যায় তারা। আরও গোল হতে পারত। তবে ভারতের দুর্দান্ত রক্ষণ অস্ট্রেলিয়াকে আরও বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিততে দেয়নি।
শনিবারের এই হার নিয়ে ভারতীয় দলের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ঝিঙ্গন indiansuperleague.com কে বলেন, “হারের জন্য হতাশ ঠিকই। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় থাকা একটা দলের বিরুদ্ধে খেলেছি আমরা। তাই এ রকমই প্রত্যাশা ছিল। অনেক কিছু শিখলাম। এখনও আমাদের দুটো ম্যাচ বাকি রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য পরের রাউন্ডে ওঠা। মাথা উঁচু রেখে পরিশ্রম করে যেতে হবে”।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেও যে ভারতীয় দলের ফুটবলাররা ইতিবাচকই রয়েছেন, তা জানিয়ে ঝিঙ্গন বলেন, “ড্রেসিংরুমে এখনই সবার সঙ্গে কথা হচ্ছিল, প্রত্যেকের মধ্যেই ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। আমরা বুঝতে পারছিলাম, ওরাও (অস্ট্রেলিয়া) চাপে ছিল। ওরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ওদের কাছ থেকে অনেক শেখার আছে। আমরা হেরে গিয়ে কাঁদতে বসে যাওয়ার পাত্র নই। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল রয়েছি। পরিশ্রম করব। মাটিতে পা থাকবে। চেষ্টা করে যাব”।
তিনি ভাল খেললেও দল না হারায় কিছুটা মনমরা ঝিঙ্গন বলেন, “আমি বলি দল জিতলে আমিও ভাল খেলেছি, দল হারলে মোটেই ভাল খেলিনি। তাই কে প্রশংসা করল, না করল, আমার কিছু যায় আসে না। আমি যতটা পারি দলকে দিতে চাই, যাতে দল জিততে পারে। দল হারলে আমিও হারি। আমরা আজ গোলের সুযোগ পেয়েছি। ভাল ডিফেন্ড করেছি। অনেক কিছু শেখা গেল এই ম্যাচে”।
এ দিন প্রথমার্ধে একটি উড়ে আসা বল হেড করতে গিয়ে বিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে কপালে চোট পান ঝিঙ্গন, যা নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে তিনি নিজে এই ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নন। পাঞ্জাবের ডিফেন্ডার বলেন, “কখনওই চাই না চোট লাগুক। আমার বাড়িতে আমার মা খুব উদ্বেগে থাকেন। আমার স্ত্রীও। কখনওই চোট পাওয়াটা ভাল ব্যাপার নয়। তবে আমার কাজ আমাকে করতেই হবে। এরকম ছোটখাটো চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ সব হতেই থাকে। তবে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ”।
অন্যদিকে দলের অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুও বলছেন, এই হার থেকে শিক্ষা নিতে হবে তাঁদের। এ দিন প্রথম অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোলটির ক্ষেত্রে গুরপ্রীতের ভুলকে কাজে লাগান অস্ট্রেলীয় মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিন। গোল থেকে এগিয়ে এসে এক হাতে ডানদিক থেকে উড়ে আসা ক্রস ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন গুরপ্রীত। কিন্তু তাঁর হাতে বল ঠিকমতো না লাগায় তা এসে পড়ে সামনেই আরভিনের পায়ে। তিনি বাঁ পায়ে গুরপ্রীতের ডানদিক দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন সোজা গোলে।
ম্যাচের পর আইএসএলের ওয়েবসাইটকে তিনি বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা যা খেলেছি, তাতে আমাদের গর্বিত হওয়ার কথা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো অসাধারণ দলকে যদি একটু জমিও ছাড়া হয়, তা হলে তারা সেই সুযোগ ছাড়ে না। প্রথম গোলটার ক্ষেত্রে আমার আরও ভাল কিছু করা উচিত ছিল। তবে আমাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে যতটা সম্ভব শিক্ষা নিতে হবে। এ বার আমাদের পরের দুটো ম্যাচের কথা ভাবতে হবে”।
এই ম্যাচের ভুলগুলো আগামী ম্যাচগুলিতে শুধরে নিতে চান তৃতীয় এশিয়ান কাপ খেলা গোলকিপার। বলেন, “আজ দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম। পরের ম্যাচগুলোতে এটা করলে চলবে না। আমাদের আরও কিছুটা আক্রমণাত্মক হতে হবে। আরও নিখুঁত হতে হবে। আজ প্রথমার্ধে দু-তিনটে সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে ভাল হত। আশা করি পরের ম্যাচগুলোতে এমন ভুল আর হবে না”।
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
