অলস্পোর্ট ডেস্ক: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৩ অক্টোবর ভারতীয় সিনিয়র দলের মুখোমুখি হবে পাঁচবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের জাতীয় দল। নেহরু কাপের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এত এগিয়ে থাকা কোনও দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পায়নি ভারতীয় সিনিয়র ফুটবলাররা। নেহরু কাপে আর্জেনটিনা, উরুগুয়ের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলের মোকাবিলা করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় ফুটবলাররা। তাই দীর্ঘসময়ের পর ব্রাজিলের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা ভারতীয় সিনিয়র দলের কাছে দুর্লভ সুযোগ। আর এই ম্যাচ আয়োজন করাটাও একটা বড় চাপ সংগঠকদের কাছে। বিশেষ করে ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতিনিধি দল কলকাতায় ঘুরে যাবতীয় পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পর। এব্যাপারে তাঁরা নিজেদের পছন্দ ও কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, তা বিশদভাবে জানিয়ে গেছেন। আর সেগুলো ঠিক হল কিনা, তা দেখতে ১৫দিন বাদে আবার তারা কলকাতা আসবেন।
বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর সঙ্গে যুবভারতীর মাঠ পরিদর্শন শেষে ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলে যান, মাঠের পরিকাঠামো, সাজঘর, ট্রেণিং গ্রাউন্ড ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় খুশি। তবে যুবভারতীর দায়িত্বে থাকা এক কর্তা জানান, ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠের ঘাসের ঘনত্ব বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যুবভারতী মাঠের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিরা কথা দিয়েছেন, ঘাসের ঘনত্ব বাড়ানোর কাজে হাত দেবেন ডুরান্ড কাপ শেষ হলেই। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে মাঠের ঘাসের ঘনত্ব শুধু নয়, ঘাসের উচ্চতার মাপটাও বিচার্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেই মাপ ১৮ থেকে ৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মাপটা কী হবে, সেটা ঠিক হবে ভারত ও ব্রাজিল দলের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে।
ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতিনিধিরা কলকাতায় এসে কোচ, ফুটবলার ও অন্যান্য সদস্যদের থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল ঘুরে দেখে গেছেন। খেলতে আসার ঠিক আগে তাঁরা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন সংগঠক কমিটির কর্তাদের। ট্রেণিং গ্রাউন্ডের উন্নতির পরামর্শও দিয়ে গেছেন তাঁরা। এমনকি ট্রেণিং গ্রাউন্ডে ক্লোজড ডোর প্র্যাকটিসের জন্য চারধার ঘেরার কথাও জানিয়েছেন।
ভারত ও ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এখন থেকে, তাতে বাড়তি টিকিটের চাহিদা মেটাতে ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন সংগঠকরা। তার মধ্যে অন্যতম হল, যুবভারতী স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা বাড়ানো। এইমুহূর্তে যুবভারতীর দর্শকাসন সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। তার মধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার টিকিটই বাজারে ছাড়া হয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। যেহেতু ক্লাব দলের খেলায় দু’দলের সমর্থকদের মাঝে একটা বাফার জোন থাকে, সেটা ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেছেন না আয়োজকরা। এতে ওই জায়গায় দর্শকাসন সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমন একবারে ওপরের দিকে বেশ কিছু জায়গা ফাঁকা রাখে থাকে অন্য ম্যাচে। ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে সেই জায়গার টিকিটও বিক্রি হবে। তাছাড়া বসানো হচ্ছে আরও নতুন সিট।এতে আসন সংখ্যা বেড়ে ৭৫য়ের বেশি হতে পারে। ব্রাজিল প্রতিনিধি দল ভিভিআইপি ও ভিআইপি আসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অত্যাধুনিক ব্যবস্থার আবেদন জানিয়েছেন।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হতে চলেছে। যেহেতু এই ম্যাচ আয়োজনের খরচ প্রায় ৬০ কোটির কাছাকাছি, টিকেটের দাম ৫, ৭ হাজার থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত করার ভাবনা চিন্তা চলছে। তবে টিকিটের দাম বেশি বলেই দর্শকাসনে বসে খাবারের প্যাকেট দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে। জলের বোতল নিয়ে যুবভারতীতে ঢোকার অনুমতি থাকবে না বলেই, গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে, সঙ্গে কাগজের গ্লাস।
আরও একটা ব্যাপারে সংগঠকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাঁরা চান না মাঠে অযথা ভিড় থাক। ফিফার নিয়ম মেনে যেক’জনের মাঠে থাকা দরকার, সেটাই যেন থাকে। যেহেতু কোচ কার্লেল আনসেলোত্তি পূর্ণ শক্তির ব্রাজিল জাতীয় দল নিয়েই কলকাতা আসবেন, তাই কোচ, কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনওরকম শিথিলতা চলবে না বলে জানিয়েছেন জোরালোভাবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
