Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

ইস্টবেঙ্গল ০(‌৫)‌                     স্পোর্টিং দিল্লি ০(‌৩)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ রাখে প্রভুসুখন গিল তো মারে কে?‌ নির্ধারিত সময়ে রডড্রিগোর পেনাল্টি রুখে দেওয়ার পর টাইব্রেকারে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির ফুটবলার পেনার নেওয়া প্রথম পেনাল্টি শট ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে বুধবার যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে তুললেন গোলকিপার গিল। গতবার কোয়ার্টারফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারিয়েও সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবারের কাছে হেরে ডুরান্ড কাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল গোলশূণ্য। টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলের ৫ ফুটবলার আনোয়ার, রোহিত দানু, লালচুংনুংগা, ইকোনোমিডিস ও রশিদ গোল করায় ম্যাট জেতে লাল হলুদ ৫-‌৩ ফলে। দিল্লির পক্ষে টাইব্রেকারে গোল করেন রডড্রিগো, ডুভান, আইমেন। দিল্লি পঞ্চম পেনাল্টি শট নেওয়ার সুযোগ পায়নি আগেই ফয়সালা হয়ে যাওয়ায়।

পরপর ম্যাচ খেলার ধকল। স্বাভাবিকভাবেই দলে কয়েকটা বদল আনতে বাধ্য হয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। গত ম্যাচে চোট পাওয়ায় দলে ছিলেন না বিষ্ণু। এটা লাল হলুদের পক্ষে ড্রব্যাক হয়ে দেখা দেয়। বিষ্ণু গোল করতে ও করাতে পারদর্শী। তিনি না থাকায় আর গোল মিসের প্রদর্শনীতে ভুগতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির কোচ টমাস ঠুস প্রতিআক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলার পথেই হাঁটেন আগাগোড়া। তার জোরেই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

অথচ ৩ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে যাওয়ৈর সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। জেসিন টিকের বাড়ানো বলে বাঁদিক থেকে এডমুন্ডের তোলা বলে ফাঁকায় হেড মিস করেন বিপিন। ১৬ মিনিটে লাল হলুদের গোল না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যের। বক্সের ঠিক বাইরে বাঁদিক থেকে নেওয়া রশিদের ফ্রিকিক দিল্লি গোলকিপার নোরা ফার্নান্ডেজকে দাঁড় করিয়ে রেখে ক্রশপিসে লেগে ফিরে আসে। ১৯ মিনিটে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়ে ডানপায়ে জেসিন টিকে জোরালো শট নিলে, তা ক্রশপিশ ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

এত গোল মিস করলে তো সমস্যা হবেই। স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি প্রতিআক্রমণ তুলে এনে ইস্টবেঙ্গলকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। ৩০ মিনিটের মাথায় গোল করার জায়গায় পৌঁছে যান দিল্লির ব্রাজিলিয় ফুটবলার রডড্রিগো। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের আলগা ভাবে বক্সে বল পেয়ে তিনি কোনকুনি গড়ানো শট নিলে তা গোলকিপার প্রভুসুখনের নাগাল এড়িয়ে পোস্টের কোন ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়। ৩৪ মিনিটে বক্সের মধ্যে রডড্রিগোকে ইস্টবেঙ্গলের স্টপার সন্দীপ মান্ডি বিশ্রিভাবে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় দিল্লি। কিন্তু রডড্রিগোর নেওয়া পেনাল্টি দুরন্তভাবে রুখে দিয়ে লাল হলুদ সমর্থকদের স্বস্তি এনে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভুসুখন গিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ২ মিনিটের মধ্যে আনোয়ার ও সন্দীপের ভুল বোঝাবুঝিতে ইস্টবেঙ্গল অর্ধে বল পেয়ে যান রডড্রিগো। সামনে অনেকটা অরক্ষিত অঞ্চল পেয়ে বল নিয়ে গোলের দিকে ধেয়ে যান দিল্লির বিদেশি ফুটবলার। গোলের কোন ছোট করতে এগিয়ে আসেন প্রভুসুখন গিল। রডড্রিগো ইস্টবেঙ্গল বক্সে পৌঁছে শট নেওয়ার মুহূর্তে মোক্ষম সময়ে আনোয়ার ব্লক করলে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের ধার দিয়ে। জোর বাঁচে ইস্টবেঙ্গল গোল খাওয়ার থেকে।

নিজের দলের ওপর চাপ কমাতে ও আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস দলে একাধিক বদল আনেন। এতে লাল হলুদের আক্রমণের ধার বাড়ে। ৭৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে রশিদের নেওয়া দুরন্ত শট পোস্টে লেগে ফেরে আবার। পরের মিনিটে ইকোনোমিডিসের মাইনাস গোললাইনের ৬ গজ দূরে ফাঁকায় পেয়েও জেসিনের বদলি হিসেবে নামা ডেভিড অবিশ্বাস্যভাবে গোলকিপার নোরার গায়ে মেরে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ফিরতি আলগা বলটাও ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারেননি ডেভিড। তিনি বল ক্রশপিসের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন।

ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও পেনার নেওয়া প্রথম পেনাল্টি রুখে ম্যাচের নায়ক ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখন গিল। ম্যাচে জোড়া পেনাল্টি রুখে দলকে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে তুললেন তিনি।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, হার্দিক(লালচুননুংগা)‌, আনোয়ার, সন্দীপ, জয়, বিপিন(‌রোহিত দানু)‌, রশিদ, জিকশন, এডমুন্ড(‌ ইকোনোমিডিস)‌, রামিরেজ(‌আসিফ)‌, জেসিন(‌ডেভিড)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...