অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় টি২০ ও টেস্ট ক্রিকেট দলে মহম্মদ শামির থাকা উচিত। এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর। বিশেষ করে ভারতীয় দলে চার বছর পর পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তনের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বক্তব্য রেখেছেন। এক চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাতকারে। ডানহাতি পেসার ভুবনেশ্বর কুমার নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় টি২০ দলে জায়গা পেয়েছেন। শেষবার ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে সিরিজে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার।
সেখানে মহম্মদ শামি শেষবার ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপর থেকে জাতীয় নির্বাচকের তরফে শুধু জুটেছে একরাশ উপেক্ষা। বাংলার হয়ে ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখানো সত্ত্বেও। শামি ইস্যুতে বিসিসিআই নির্বাচক কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অজিত আগারকারের কাছে এনিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, তিনি শামির ফিটনেস সমস্যাকে ইস্যু করতেন বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে।
এখন অজিত আগারকারের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান পদে না থাকা ও ভুবনেশ্বর কুমারের ভারতীয় দলে ফেরার কারণে ওয়াসিম জাফরের বিশ্বাস, মহম্মদ শামির ভারতীয় দলে বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটের ফরম্যাটে সুযোগ পাওয়া উচিত। কারণ নবীন পেসাররা প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেনি এখনও পর্যন্ত। জাফরের মতে, ‘ যশপ্রীত বুমরা দলের এক নম্বর পেসার। কিন্তু একদিনের দলে বাকিরা এখনও নিজেদের সেরা দিতে পারেনি। গুরনুর ব্রার, প্রসিদ কৃষ্ণা, নীতিশ কুমার রেড্ডিকে দিয়ে বল করালেও, টিম ম্যানেমেন্ট যে তাদের পারফরমেন্সে খুশি বা আস্থা রাখছে, এমনটা মনে হয়নি। মহম্মদ সিরাজকেও খুব বেশি গেম টাইম দেওয়া হয়নি। বুঝতে পারছি না ভারতীয় দলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সিমার কে, যশপ্রীত বুমরার সঙ্গে? হার্দিক পান্ডিয়া এখনও রেডি নয়। তাই মনে করি, একদিনের দলে মহম্মদ শামিকে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে আগামী বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে।’
বুমরাকে ছাড়া ভারতীয় বোলিং অ্যাটাক বিশেষ করে পেস ব্যাটারির পারফরমেন্স একবারেই আশাপ্রদ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাম্প্রতিক সিরিজে একদিনের ক্রিকেটের তিনটি ম্যাচে ২৯৫-৭, ৪০৫-৭ ও ৩২৫-৭ রান তোলে। ২০২৭ বিশ্বকাপের বেশি দেরি নেই। তার আগে বোলিং শক্তিটা ভাল কর গুছিয়ে নেওয়া দরকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে।
জাফরের মতে, বিশ্বকাপের কথা ভেবে নবীন পেসারদের দলে রেখে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর থেকে অভিজ্ঞদের দলে সুযোগ দিয়ে টিমটা সেট করে নেওয়া জরুরি। যাদের কোয়ালিটি আছে, তাদের কেন ব্যবহার করা হবে না? আমার প্রথম পছন্দ হল, বুমরার সঙ্গে শামি ও সিরাজ। পরে বাকিদের তুলে আনার কথা ভাবা যাবে। দলের স্বার্থে তাদের সময়মতো খেলালেই হল।’
জাফর ভুল কিছু বলেননি। শামি ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের হয়ে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে দারুনভাবে সদ্ব্যবহার করেছিলেন শুধু নয়, ভারতীয় দলের খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম ৪ ম্যাচ মাঠের বাইরে কাটানোর পর প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান হার্দিক পান্ডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোড়ালিতে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায়। শামি খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই ধর্মশালার মাঠে নিউজিল্যান্ডের ৫ উইকেট তুলে নেন ৫৪ রানের বিনিময়ে। শুধু তাই নয়, লিগ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ১৮ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে জয় এনে দেন। সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করেন শামি ৫৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে। যা এখনও পর্যন্ত একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে একটা রেকর্ড।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
