অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়া কাপ ২০২৫ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ভারত ও ওমান। যদিও দুই দলের কাছে এই ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। ইতিমধ্যেই ভারত যখন সুপার ফোরের দরজা খুলে ফেলেছে, ওমান সেখানে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে। তবুও সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রবিবার নামার আগে জিতেই গ্রুপ পর্ব শেষ করতে চেয়েছিল। গ্রুপ এ থেকে ইতিমধ্যেই ভারত ও পাকিস্তান সুপার ফোরের দরজা খুলে ফেলেছে। একগুচ্ছ বিতর্ক কাটিয়ে শুক্রবার আবু ধাবিতে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ওমান। যেখানে শেষ পর্যন্ত লড়াই দিল ওমান। এল জোড়া হাফসেঞ্চুরি। তবে টি২০ ক্রিকেট ১৮৮ রান তাড়া করার জন্য যথেষ্টই কঠিন। একটা সময় অবশ্য মনে হচ্ছিল সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যেতেও পারে ওমান কিন্তু ২১ রান বাকি থাকতেই থামতে হল তাদের। তবে মন জিতে নিল ওমানের ফিয়ারলেস ক্রিকেট।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৮৮ রান তোলেন ভারতের ব্যাটাররা। তবে ওপেন করতে নেমে ব্যর্থ শুভমান গিল। মাত্র ৫ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। এর পর অভিষেক শর্মার সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন। যখন অভিষেক ১৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তখন সঞ্জুর ব্যাট থেকে আসে হাফ সেঞ্চুরি। তিনি যখন আউট হন তখন তাঁর নামের পাশে ৫৬ রান লেখা হয়ে গিয়েছে। তিনি তিন নম্বরে নেমেছিলেন ব্যাট করতে, যখন মাঠ ছাড়লেন ততক্ষণে পাঁচ উইকেট লেখা হয়ে গিয়েছে ভারতের রানের পাশে। তবে ভারতেরও রানও চ্যালেঞ্জিং১৭১ রানে পৌঁছে গিয়েছে।
তবে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান আসে অভিষেক আর স্যামসনের ব্যাট থেকেই। এছাড়া ভারতের রানের তালিকায় হার্দিক পাণ্ড্যে ১, অক্ষর প্যাটেল ২৬, শিভম দুবে ৫, তিলক ভর্মা ২৯, অর্শদীপ সিং ১ রানে আউট হন। ১৩ রানে হর্ষিত রানা ও ১ রানে কুলদাপ যাদব অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ১৮৮-৮-এ শেষ হয় ভারতের ইনিংস। ওমানের হয়ে দুটো করে উইকেট নেন শাহ ফয়জল, জিতেন রামানন্দি ও আমির কলিম।
তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই বড় ইনিংস গড়ারই চেষ্টা শুরু করে ওমান। বাকি দুই ম্যাচের মতো ভারতীয় বোলারদের জন্য সহজ ছিল না এবারের প্রতিপক্ষের উইকেট। যেখানে ভারত ১০০ রানের গন্ডি পেরনোর অনেক আগেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল সেখানে মাত্র ১ উইকেটে ১০০ রান পেরিয়ে গেল ওমান। ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো চাপে রাখল ওমানের টপ অর্ডার। ওপেনার, অধিনায়ক যতিন্দর সিং ৩২ রান করে আউট হওয়ার পর আর এক ওপেনার আমির কালিমের সঙ্গে হামাদ মির্জা দলের রানকে সহজেই এগিয়ে নিয়ে যান। আর সেই লক্ষ্যেই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন দুই ব্যাটার। যা ওমান দলের জন্য ছিল বাড়তি পাওনা।
পুরো রিজার্ভ বেঞ্চকে দেখা যায় উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে। মাঠের মধ্যে দুই ক্রিকেটারের উচ্ছ্বাসও ছিল দেখার মতো। ভারতের মতো ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলের বিরুদ্ধে হাফ সেঞ্চুরি ওমানের মতো নবাগত দলের বিরুদ্ধে অনেক বড় প্রাপ্তি। কে বলতে পারে পরের আইপিএল-এ এই দু’জনের কাউকে দেখা যেতেই পারে কোনও দলে। দু’জনে মিলে ভারতের তারকাখচিত বোলিংকে নিয়ে একটা সময় ছেলে খেলা করল। পর পর বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি দেখে মনে হচ্ছিল বল আর রানের ব্যবধান ঘুঁচে যাবে যে কোনও সময়। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে হার্দিকের অসাধারণ একহাতের ক্যাচই শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল। যেখানে সাতটি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬৪ রান করা আমিরকে ফিরতে হল প্যাভেলিয়নে।
তার পর হাফসেঞ্চুরি এল হামাদ মির্জার ব্যাটেও। ৩০ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। তখন ১০ বলে জিততে হলে ৩৬ রান দরকার ওমানের জন্য। ৫১ রান করে ফিরলেন মির্জা, যদিও ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। এর মধেই বিনায়ক শুক্লাকে ১ রানে ফিরিয়ে ৬৪ ম্যাচে নিজের টি২০ ক্রিকেটে ১০০ উইকেট পূর্ণ করলেন অর্শদীপ সিং। এছাড়া ১২ রানে জিতেন রামানন্দি ও রানের খাতা না খুলে জিকরিয়া ইসলাম অপরাজিত থাকলেন। নির্ধারিত ওভারে ১৬৭-৪-এ শেষ হল ওমানের ইনিংস। ভারতের থেকে ২১ রান পিছিয়ে। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নিলেন কুলদীপ সিং, হার্দিক পাণ্ড্যে, অর্শদীপ সিং ও হর্ষিত রানা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
