Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারত শনিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। অতুলনীয় ব্যাটিং গভীরতা, ঈর্ষণীয় অলরাউন্ডার এবং সেরা ফর্মে থাকা স্পিনারদের নিয়ে ভারতের হাতে এমন সবকিছুই আছে যা দিয়ে তারা টানা দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দেশ হতেই পারে এবং নিজেদের মাটিতেই শিরোপা ঘরে তুলতে পারে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে দাপুটে সিরিজ জয়ের পর মাঠে নামছে। বার্বাডোসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে শীর্ষ দশটি দলের মধ্যে তাদের জয়ের হারই সর্বোচ্চ।

বিশ্বকাপের আগে ভারত সব পজিশনেই আধিপত্য বিস্তার করছে – তারা টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে, এবং অভিষেক শর্মা ও বরুণ চক্রবর্থীর মতো সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলারও তাদের দলে রয়েছে। তাদের অতি-আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পদ্ধতির ফলে তাদের রান রেট দুর্দান্ত এবং তারা অত্যন্ত সহজে বড় স্কোরে পৌঁছতে পারছে।

২০২৪ বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে ভারতের রান রেট সর্বোচ্চ ৯.৯-তে পৌঁছেছে। প্রতি বাউন্ডারিতে বলেরহিসেবেও ভারত ৪.৪-এর মতো চিত্তাকর্ষক গড় নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ২০০-এর বেশি স্কোরের সংখ্যায় ভারতের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয় – ২০২৪ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে তারা ১৩টিরও বেশি এমন স্কোর করেছে, যার মধ্যে ১২টিই এসেছে প্রথমে ব্যাট করে।

অভিষেক ছাড়াও, ভারতের দলে ঈশান কিষাণ, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, রিঙ্কু সিং-এর মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এবং হার্দিক পাণ্ড্যো, অক্ষর প্যাটেল ও শিবম দুবের মতো অলরাউন্ডার ত্রয়ী রয়েছে, যা দলকে দারুণ ভারসাম্য এনে দিয়েছে। বরুণ ছাড়াও, যশপ্রীত বুমরাহ এবং অর্শদীপ সিং মিলে একটি দুর্দান্ত ফাস্ট বোলিং জুটি গড়ে তুলেছেন।

তবে অনেক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও, ভারতের টপ-অর্ডার এখনও কিছুটা ভঙ্গুর, বিশেষ করে যেহেতু দলটি এখনও অভিষেকের জন্য সঠিক ওপেনিং পার্টনার খুঁজে পায়নি। ঈশান কিষাণের সাম্প্রতিক ভালো ফর্ম সঞ্জু স্যামসনের ফর্মহীনতার সম্পূর্ণ বিপরীত। দল তাদের ওপেনিং জুটি নিয়ে এখনও নীরব থাকায়, এটি প্রতিপক্ষের জন্য কাজে লাগানোর মতো একটি দুর্বল দিক হতে পারে। পাওয়ার-প্লে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত মাঝে মাঝে বেশ খরুচে প্রমাণিত হয়েছে এবং এই পর্যায়ে উইকেট নিতেও হিমশিম খেয়েছে, যা ডেথ ওভারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর এটিই উচ্চ চাপের ম্যাচগুলিতে তাদের পতনের কারণ হতে পারে। আট নম্বর স্থানটি কে দখল করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ এটি নির্ভর করে টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাটিং বা বোলিং, কোনটিতে গভীরতা চায় তার উপর।

২০০৭ সালে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর, ভারত ২০২৪ সালে এটি জিতে দীর্ঘ খরা কাটিয়েছে এবং এখন তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সবাই যখন ভারতকে অপ্রতিরোধ্য ফেভারিট বলছে, তখন ভারতের সামনে তিনটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে। এক, শিরোপা ধরে রাখা, দুই, তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতা এবং তিন, ঘরের মাঠে কোনও দলের ফাইনালে না জেতার অপবাদ ঘোচানো।

সাইড স্ট্রেনের কারণে পুরো নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিস করার পর ওয়াশিংটন সুন্দরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি ওয়াশিংটন সময়মতো টুর্নামেন্টের জন্য উপলব্ধ না হন, তবে এর অর্থ হবে তাদের একজন অলরাউন্ডার কম থাকবে এবং এটি তাদের দল নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রথম একাদশের কোনও খেলোয়াড় আহত হন।

টুর্নামেন্টে নামার আগে সম্পূর্ণ ফিট হার্দিক পাণ্ড্যে নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, এবং অনেকেই আশা করবেন যে তিনি টুর্নামেন্টে ফিট থাকবেন এবং নিজের সেরা ফর্মে থাকবেন, কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর অনুপস্থিতি দলের জন্য কতটা ক্ষতিকর ছিল তা সবারই জানা। তবে ইতিমধ্যেই যা খবর পাওয়া যাচ্ছে অনুশীলন ম্যাচে চোট পাওয়া হর্ষিত রানা হয়তো টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন না। এই অবস্থায় টিম ম্যানেজমেন্ট কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই এখন দেখার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *