Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ভারতীয় খেলাধুলোয় খেলোয়াড় ও স্পোর্টস মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে ডাঃ ভেস পেজের নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। ভেস পেজ হকি বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক্সে পদক জয়ের পাশাপাশি বাংলার হয়ে ১৮ বছর ও বিএইচএ প্রথম ডিভিশন লিগে ৩৮ বছর সুনামের সঙ্গে খেলেছিলেন। এছাড়া সিএবি প্রথম ডিভিশন লিগে ১৮ বছর ও কলকাতা ফুটবল লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনে ১৬ বছর খেলার কীর্তি রয়েছে তাঁর। রাগবি দলের হয়ে দু’‌বার নেতৃত্ব দেন সর্বভারতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে। ডাক্তার হিসেবে ভেস পেজের খ্যাতি ছিল সর্বস্তরে। মেডিকেল কনসালটেন্ট হিসেবে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ২৫ বছর, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে ১০ বছর, ভারতীয় ডেভিস টিমের সঙ্গে ২৫ বছর কাজ করার পাশাপাশি তিনি ২০১৪ সাল থেকে আমৃত্যু আইএসএলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, ছেলে লিয়েন্ডারপ পেজের অলিম্পিক ব্রোঞ্জ জয় থেকে টেনিসে যাবতীয় সাফল্যের পিছনে বাবা ভেস পেজের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

ডাঃ ভেস পেজের মতো এমন একজন গুনী মানুষের প্রয়াণ ঘটে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডাঃ মনোজ খান্না সহ কলকাতার প্রতিথযশা চিকিৎসকরা ও সিসিএফসি সভাপতি সৌরভ চ্যাটার্জি রবিবার সিসিএফসির মাঠে একটি বিশেষ ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেছিলেন। ডাঃ ভেস পেজ ক্রিকেট কাপের এই ম্যাচে অংশ নেন সিসিএফসি ও ডাঃ ভেস পেজ একাদশের খেলোয়াড়রা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম লিয়েন্ডার পেজ, ইউসুফ পাঠান, সুব্রত পাল, চিত্রতারকা দেব প্রমুখ। এই বার্ষিক ক্রিকেট ম্যাচের প্রথমটি আয়োজিত হয়েছিল ২০২১ সালে। ডক্টরস একাদশের হয়ে সেবার অংশ নিয়েছিলেন লিয়েন্ডার পেজ ও ইরফান পাঠান। ২০২২য়ে খেলেছিলেন ইউসুফ পাঠান।

তবে খেলার মূল আকর্ষণ ছিলেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের কিংবদন্তী অলরাউন্ডার কপিল দেব। সিসিএফসিতে পা দেওয়া মাত্রই তাঁকে ঘিরে কচিকাঁচা, যুবক-‌যুবতী, বয়স্ক ভক্তদের মাঝে প্রবল উন্মাদনা। অটোগ্রাফ নেওয়ার হুড়োহুড়ি। সঙ্গে ছবি তোলার আবদার। কপিল দেব সকলের ইচ্ছাপূরণ করেন হকি অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং, ক্রিকেটার অরুনলাল, অশোক মালহোত্রা, প্রণব রায় ও অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর। ওই পর্ব শেষে সংগঠকরা কপিল দেবকে নিয়ে যান মাঠে। অংশ নেন টসে। তারপর মিলিত হন দু’‌দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গে, সারেন ফটো সেশন।

প্রচারমাধ্যমের মুখোনুখি হয়ে কপিল দেব বলেন, ‘‌ ভেস পেজের মতো একজন নামী চিকিৎসকের স্মরণে এই ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন সত্যি মহৎ উদ্যোগ। এর থেকে ভাল শ্রদ্ধার্ঘ আর কী হতে পারত?‌ ভারতীয় খেলাধুলোয় ডাঃ ভেস পেজের অবদানের কথা জানি। সবচেয়ে বড় অবদান লিয়েন্ডার পেজের মতো একজন সফল পদকজয়ী অলিম্পিয়ান গড়ে তোলা। ক্রিকেট তো বিশ্বে ১০ থেকে ১২টা দেশ খেলে। সেখানে টেনিস খেলে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ। তাতে সর্বোচ্চ স্তরে সাফল্য পাওয়াটা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। লিয়েন্ডার সেই কৃতিত্ব অর্জন করেছে নিজের পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দক্ষতার জোরে। ডাঃ ভেজ পেজের গর্বিত সন্তান লিয়েন্ডার।’‌

কপিল দেবের মুখে ছিল বাংলার খেলাধুলো ও সংস্কৃতির কথা। বলেন, ‘‌ বাংলা বলা ভাল কলকাতা চিরকালই পরিচিত ছিল ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডনস ও দর্শকদের উন্মাদনার জন্য। যা আজ বেড়েছে বই কমেনি। তবে তার থেকেও বড় কথা, বাংলা থেকে এখন ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলোয় আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসেছে। ভবিষ্যতে আরও আসবে আশা করি। বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য আমাকে আকর্ষণ করে। তাই এখানে বারবার আসতে ইচ্ছা হয়। এখানকার মানুষের ভালবাসা ও উষ্ণতা উপভোগ করি।’‌

লিয়েন্ডার পেজের মুখে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে বাবা ভেড পেজের কথা। সিসিএফসির মাঠে জড়িয়ে থাকা স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে লিয়েন্ডারের গলা আবেগে বুজে এসেছিল। বলেন, এখানে পা দিয়ে মা বললেন, মনে হচ্ছে বাবা আমাদের মধ্যেই আছেন। আমিও সেটা অনুভব করছি। বাবা আমার কাছে ছিলেন ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড। তাঁর মতো বাবা পাওয়া সত্যি খুব ভাগ্যের ব্যাপার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *