Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
ফিফা

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি পিএস নরসিমা ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সংশোধিত নতুন সংবিধানের ওপর রায়দানের পর অনেকটা স্বস্তি এলেও, তা যে পুরোপুরি এসেছে এমনটা নয়। তার বড় কারণ সংশোধিত সংবিধানে অল্প হলেও কিছু রদবদল ঘটিয়েছেন তাঁরা, সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাওয়ের সুপারিশ করা ও ফিফায় অনুমোদন পাওয়া আগের খসড়া সংবিধানে। এটা খুশি করেনি এএফসি ও ফিফাকে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জেনারেল বডি ও কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সংশোধিত সংবিধানের পূর্ণ অনুমোদনের কাজটা সেরে নিতে চাইলেও, তা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা রয়েছে এএফসি বা ফিফার তরফে সবুজ সংকেত না আসা পর্যন্ত।

বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাওয়ের দেওয়া খসড়া সংশোধিত সংবিধানের ভিত্তিতে সেসময় ফেডারেশনের নির্বাচন হয়েছিল। সভাপতি পদে নির্বাচিত হন কল্যান চৌবে ও তাঁর কমিটির সদস্যরা। এবার সুপ্রিম কোর্ট শুরুতে বর্তমান কমিটিকে ক্ষমতাহীন বলে আখ্যা দেওয়ার পর তার থেকে সরে এসে নতুন করে রায় দিয়েছে। যার জেরে আগামী বছর পর্যন্ত কল্যান ও বর্তমান কমিটি ক্ষমতায় থাকছে, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এএফসি ও ফিফা এমনটাই চেয়েছিল। নইলে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কারণে আবার এআইএফএফকে নির্বাসনের মুখে পড়তে হত।

কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নতুন সংশোধিত সংবিধানে যে রদবদলের সুপারিশ করা হয়েছে এবার, তা বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাওয়ের খসড়া সংবিধানের থেকে সামাম্য হলেও আলাদা। আসলে নাগেশ্বর রাওয়ের খসড়া সংবিধান যা ফিফা অনুমোদন দিয়েছিল, এক ব্যক্তির দুটি পদে থাকা নিয়ে স্বার্থের কোনও সংঘাত ঘটবে না উল্লিখিত ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন সংশোধিত সংবিধানে সেটাতেই রদবদলের সুপারিশ করা হয়েছে। বিচারপতিরা বলেছেন, এক ব্যক্তির দুটি পদে থাকা ঠিক নয়। অর্থাৎ একইসঙ্গে এআইএফএফ ও রাজ্য সংস্থায় এক ব্যক্তির পদ আঁকড়ে থাকা ঠিক নয়। এতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন এসে যেতে পারে। তাই ফেডারেশনের কোনও পদে এলে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর রাজ্য সংস্থার পদ লোপ পেয়ে যাবে।

এটা অপছন্দ এএফসি ও ফিফা। তারা মনে করে না, এক ব্যক্তির দুটি পদে থাকা সমস্যা তৈরি করবে। বরং সুপ্রিম কোর্টের নতুন সংবিধানে আরও কয়েকটি রদবদলও ফিফার পছন্দ হয়নি। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ঘিরেও একটা জট রয়েছে। সেটা হল, ফেডারেশনকে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তাদের অনুমতি ও অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে যেন না হাঁটে এআইএফএফ। এটাকে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ বলে মনে হয়েছে এএফসি ও ফিফার। যদি ফেডারেশন কর্তারা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, এটা একটা সাময়িক নির্দেশ মাত্র। সুপ্রিম কোর্ট সবসময় হস্তক্ষেপ করবে ফেডারেশনের কাজে এমনটা নয়।

সুপ্রিম কোর্ট সংশধিত নতুন সংবিধান নিয়ে রায়দানের সঙ্গে বেশ জোরের সঙ্গে জানিয়েছে, ঘরোয়া ফুটবলের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ যেন এআইএফএফের হাতেই থাকে। তাছাড়া আইএসএলেও প্রোমোশনের পাশাপাশি অবনমন চালু করা আবশ্যিক। এনিয়ে এএফসি ও ফিফার আপত্তি করার কিছু নেই। কারণ এটা এএফসি ও ফিফার দেওয়া রোড ম্যাপে অনেক আগেই বলা ছিল। বরং চলতি মরশুম থেকে আইএসএলে প্রোমোশনের পাশাপাশি অবনমন চালু করার কথা আগে বলেও, এখন কল্যান চৌবে ও তাঁর কমিটি এনিয়ে কোনও চুড়ান্ত নিয়ে উঠতে পারেননি।

পারবেনই বা কীভাবে?‌ কারণ এফএসডিএলের সঙ্গে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট নিয়ে এআইএফএফ এমন একটা বিতর্কের জায়গায় গোটা বিষয়টা পৌঁছে দেন, ভারতীয় ফুটবলে অচবস্থা তৈরি হয়ে যায়। আইএসএল সহ সমস্ত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা সাময়িক স্থগিত হয়ে রয়েছে। বিড ইভালুয়েশন কমিটির মাধ্যমে নতুন করে গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে বানিজ্যিক সহযোগী খোঁজার কাজ শুরু করে অচলাবস্থা কাটানোর প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। আইএসএলের আগে সুপার কাপ আয়োজন করে ফেডারেশন ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। মাঠে বল গড়ালে ফেডারেশন খানিকটা সময় পাবে নতুন বানিজ্যিক সহযোগী হাতে পেয়ে আইএসএল করার নিজেদের শর্তে ও স্বত্ত্ব বুঝে নিয়ে। সেটা যদি হয়, ভারতীয় ফুটবলের মঙ্গল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *