অলস্পোর্টস ডেস্ক: যা আশঙ্কা ছিল, তাই সত্যি হল। ইরানে গিয়ে সেপাহান ম্যাচ না খেলার জন্য চলতি মরশুমের এসিএল টুর্নামেন্ট থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে বাতিল করে দিল এএফসি। একইসঙ্গে জানিয়ে দিল মোহনবাগানের আগে খেলা ম্যাচের ফল, গোল কোনওটাই গন্য হবে না তাদের জন্য ও গ্রুপ স্ট্যান্ডিংয়ে ক্ষেত্রে। বাকি বিষয়টা নির্ভর করছে এএফসি শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির ওপর। এদিকে, সেপাহান এফসির তরফে তাদের আলট্রাস অর্থাৎ সমর্থকরা একটি পোস্টার সোসাল মিডিয়ায় ছেড়েছে, ‘ কাপুরুষদের এখানে আসার অনুমতি নেই।’ এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে?
এএফসির কোনও চ্যাম্পিয়নশিপে না খেলাটা মোহনবাগানের নতুন নয়। এর আগেও এমন কান্ড ঘটিয়ে নির্বাসন থেকে জরিমানার মুখে পড়েছিল সবুজ মেরুন। গত মরশুমেও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টায়ার টু-র ম্যাচ ইরানের খেলতে না গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাতিল হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এএফসি গত মরশুমের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মোহনবাগানের না খেলার বিষয়টা কিছুটা সহানুভূতির সঙ্গে দেখে শুধুমাত্র এটুকু পদক্ষেপ নিয়েই রেহাই দিয়েছিল। কিন্তু সেই কান্ড এবারও ঘটানোয় এএফসি আর নরম মনোভাব দেখাবে বলে মনে হয় না। মোহনবাগান এসজির জন্য একাধিক কড়া শাস্তি অপেক্ষা করে আছে, যতই সবুজ মেরুন শিবির কোর্ট অফ আর্বিট্রশনের (ক্যাস) দারস্থ হোক।
সকলের নিশ্চয়ই মনে আছে, ১৯৯৯-২০০০ মরশুমে মোহনবাগানকে জরিমানা ও নির্বাসন দুটোর মুখেই পড়তে হয়েছিল এএফসি ম্যাচে অংশ না নেওয়ায়। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে জাপানের মাটিতে প্রথম দফায় জুবিলি আইওয়াতার কাছে ০-৮ গোলে হারার পর ঘরের মাঠে কলকাতায় দ্বিতীয় দফার ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেনি মোহনবাগান। এতে এএফসির শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি মোহনবাগানকে ৩০০০ ডলার আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি এএফসির সমস্ত প্রতিযোগিতা থেকে ৩ বছরের নির্বাসন দিয়েছিল। এর সঙ্গে দু’বছরের জন্য ভারতীয় সব দলের ওপর এএফসির টুর্নামেন্টে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এবার তেমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে এএফসি এবার ভারতীয় বাকি দলগুলোর এএফসিতে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পথে হাঁটবে না বলেই শোনা গেছে।
গত মরশুমে কোচ, ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, দলের কর্মীদের নিরাপত্তার কথা তুলে ইরানের মাঠে ট্র্যাক্টার এফসির বিরুদ্ধে খেলতে যায়নি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তারা এবারও ইরানের মাঠে সেপাহান এফসির বিরুদ্ধে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের পিছনে সেই কারণ দর্শিয়েছে। দেশি ও বিদেশি ফুটবলারদের এক জোট হয়ে ইরানে খেলতে যেতে বাধ্য না করার আবেদনের চিঠি সামনে রেখে। মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট নিরপেক্ষ মাঠে ম্যাচে দেওয়ার জন্য এএফসির কাছে আবেদন রেখেছিল। সেটা মানেনি এএফসি। তারপরই ফুটবলারদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রকের ইরানে খেলতে যাওয়া নিয়ে বিজ্ঞপতিকে হাতিয়ার করে সেপাহান ম্যাচে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মোহনবাগান। একইসঙ্গে শাস্তির হাত বাঁচতে ক্যাসের দারস্থ হয়েছে ফোর্স মেজর ইস্যুকে সামনে রেখে।
তবে এতে যে শাস্তি এড়াতে পারবে মোহনবাগান এসজি, তেমন মনে হচ্ছে না। জানাই ছিল, এসিএল২র বাকি ম্যাচ খেলার সুযোগ সবুজ মেরুন তো হারাবেই, এমনকি শুধু এবছরের জন্যই নয়, বড়সড় আর্থিক জরিমানা ও নির্বাসনের মুখে পড়বে। এই নির্বাসনের মেয়াদ দুই না তিন হবে, সেটা নির্ভর করছে এএফসি শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির আইন ও মনোভাবের ওপর নির্ভর করে। বারবার একই কান্ড ঘটালে, এএফসি সদয় হয়ে মোহনবাগানকে সহজে ছেড়ে দেবে, এমনটা ভাবলে ভুল হবে।
ইরানে খেলতে যেতে হবে, মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট তো জানতই ড্র হয়ে যাওয়া ও সূচী ঘোষণার পরই। তাহলে তখনই তারা এনিয়ে এএফসিকে ইরান খেলতে না যাওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি দেয়নি কেন? সূচী নিয়ে আপত্তি জানায়নি কেন? ধরে নিলাম, মোহনবাগান তলায় তলায় এএফসিকে এসব জানিয়েছিল, চিঠি দিয়েছিল। হয়ত প্রচারমাধ্যমকে কিছু জানায়নি তখন। কিন্তু কেন? আহাল এফকের বিরুদ্ধে হারের পরই কি টনক নড়ল? মনে পড়ল ইরানে দল পাঠানো নিরাপদ নয়, এটা এএফসিকে জানানোর কথা। নানা যুক্তি সামনে এল তখনই। অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপারদের ইরানের খেলতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি। শেষপর্যন্ত সব ফুটবলারদের খেলতে না যাওয়ার আবেদনের চিঠিও। খেলতে না যাওয়ার স্বপক্ষে। সেটা জানানোর প্রয়োজন মনে হল প্রচারমাধ্যমকে। এখানেই শেষ নয়, সদস্য-সমর্থকদের রোষের হাত থেকে বাঁচতে সোসাল মিডিয়ায় ফুটবলারদের দিয়ে লেখানোও হল, না খেলতে যাওয়ার যুক্তিকে জোরালো করতে।
সবচেয়ে মজার কথা, সমর্থকদের ঠান্ডা রাখতে তড়িঘড়ি শিল্ডে খেলার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট টিম ম্যানেজেমেন্ট। কারণ সমর্থকদের একাংশ দাবি তুলেছিল, মোহনবাগানকে শিল্ডে খেলতেই হবে। এখন মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট তো বলার সুযোগ পাচ্ছে, দেখ, তোমাদের কথামত শিল্ডে খেলছি, ইরানে দল না পাঠালেও ফুটবলারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে। কিন্তু এএফসির দরবারে চিড়ে ভিজবে না। শাস্তি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হবেই। এআইএফএফ বা ভারতের অন্য কোনও ক্লাবের ওপর এএফসি কড়া মনোভাব না দেখালেও। কারণ এফসি গোয়া তো এখনও পর্যন্ত এসিএল ২র কোনও ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়নি।
এখন একটাই প্রশ্ন মোহনবাগানের কাছে, এএফসি তাদের নির্বাসন দিলে, ক্যাসের সাহায্যে তা না উঠলে, সুপার কাপ বা আইএসএল খেলে বা চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাভ কী হবে তাদের? খেলবে কোথায়?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
