Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আবার বিপাকে ফেডারেশন। আবার নাম জড়াল কুকীর্তির সঙ্গে। হিমাচল প্রদেশ-ভিত্তিক ক্লাব, খাদ এফসি-র দুই মহিলা ফুটবলার, অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ), দেশের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য দীপক শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন। ফুটবলারদের মতে, গোয়ায় চলতি ইন্ডিয়ান উইমেনস লিগ-২ চলাকালীন শর্মা একটি হোটেলের ঘরে তাদের লাঞ্ছিত করেছিলেন। ফুটবলাররা শুক্রবার এআইএফএফ-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার পরই বৃহস্পতিবার গোয়ার একটি হোটেল রুমে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।

ফুটবলারদের মতে, শর্মা রেগে গিয়েছিলেন কারণ তারা খাবার তৈরি করছিল এবং তখন তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এই ব্যক্তি। শর্মা হিমাচল প্রদেশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং এআইএফএফ-এর প্রতিযোগিতা কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান।

ফুটবলাররা আরও অভিযোগ করেছেন যে ঘটনাটি হওয়ার সময় শর্মা মাতাল ছিলেন এবং হিমাচল প্রদেশ থেকে গোয়া যাওয়ার সময় তিনি তাদের সামনে মদ্যপান করছিলেন।

ফুটবলার পলক ভার্মা ঘটনাটি নিয়ে এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলেছেন। “সেদিন, আমার চোট লেগেছিল। সে কারণে আমি আমার ঘরে ডিম নিয়ে এসেছিলাম। রাত সাড়ে ১০-১১-টার দিকে আমি রান্নাঘরে অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে ডিম তৈরি করছিলাম। এমন সময় স্যার আমাদেরকে তার রুমে ডাকলেন। অন্য মেয়েটি তার রুমে যাওয়ায় তাকে জিজ্ঞেস করা হয় আমরা কী করছি। সে তাকে বলল যে ডিম তৈরি করা হচ্ছে। স্যার মেয়েটিকে বকাঝকা করে আমাকে ভেতরে ডেকে আনলেন। তিনি অভদ্র ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেন ডিম তৈরি করছি এবং আমি কী করছি?’’ বলেন পলক।

“স্যার মাতাল ছিলেন,” তিনি যোগ করেছেন। “আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম যে খাবার শেষ হয়ে গেছে এবং তাই আমি ঘরে ডিম তৈরি করছিলাম। সে সময় সে মাতাল ছিল। সে আমাকে ডিম ফেলে দিতে বলেছিল। আমি কেঁদে ফেলেছিলাম এবং আমার রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিই। স্যার সেটা শুনতে পেয়ে রুমে ছুটে আসেন এবং নক না করে ঘরে ঢুকে পড়েন। সে এসে আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে শুরু করে। আমার রুমমেট তাকে থামালে তিনি চলে যায়,’’ বলেন তিনি।

পলক আরও বলেন, “এর পর তার স্ত্রী, যিনি ক্লাবের ম্যানেজারও, নন্দিতা এসে আমাদের চাপ দেন। তিনি আমাদের বলেন যে আমাদের কোনও সংস্কার নেই। আমরা জিএফএ এবং এআইএফএফ-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। তারা তদন্তের জন্য এসেছে। তারা শর্মাকে বলেছে লিখিত চিঠি দিতে এই বলে যে আমাদের কোনও ক্ষতি হবে না। আমার বয়স ২১ বছর। আমাদের অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।”

পলক জানান, ঘটনার পর তিনি ঘুমাতে পারছেন না। মানসিকভাবে সঠিক অবস্থায় না থাকায় তারা খেলতেও পারছে না।

ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে, জিএফএ ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোনাথন ডি’সুজা বলেছেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর, আমি দলগুলোর সঙ্গে দেখা করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এআইএফএফ-এর কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আমি রাতেও হোটেলে গিয়েছিলাম এবং আমি অনুভব করেছি। যে জিএফএ-র দৃষ্টিকোণ থেকে, পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আমাদের ভূমিকা সীমিত ছিল কারণ আমরা ভিকটিম নই এবং এফআইআর দায়ের করতে পারি না। তবে আমরা মেয়েটির অভিযোগ থানায় পাঠিয়েছি এবং তাদের সম্পর্কে অবহিত করেছি। ঘটনাটি মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরী।’’

“মিস ভ্যালেঙ্কা আলেমাও (এআইএফএফ মহিলা ফুটবল কমিটির প্রধান)ও মেয়েদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি মেয়েদের এমন একটি ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল না। আমরা আশা করি মেয়েরা ন্যায়বিচার পাবে।”

গোয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগের ভিত্তিতে দীপক শর্মাকে মাপুসা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এআইএফএফ পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *