Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ নিজের দল বেঙ্গালুরু এফসি এবার ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে না, তবু প্রতিযোগিতার সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন সুনীল ছেত্রী সংগঠকদের কাছে। ডুরান্ড কমিটিকে দেওয়ার সাক্ষাতকারে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীলের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, ডুরান্ডে খেলাটা খুব মিস করছেন, অতীতে এই টুর্নামেন্টে তাঁর ফুটবল জীবনের উত্থান, প্রতিষ্ঠা ও প্রাপ্তি ঘিরে।

তাঁর জীবনে ডুরান্ড কাপের গুরুত্ব কতটা সেটা উঠে এসেছে সুনীলের আবেগ মেশানো প্রতিক্রিয়ায়। এখনও ডুরান্ড কাপ ফুটবলারদের দক্ষতা তুলে ধরার অন্যতম মঞ্চ, এটা বোঝাতে গিয়ে সুনীল বলেন, ‘‌ আমার জীবনের প্রথম ব্রেকটা এসেছিল ডুরান্ডে। দিল্লির সিটি এফসির হয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে দেশের প্রথম সারির ক্লাবের নামী ফুটবলারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। ওই টুর্নামেন্টে আমরা বেশিদূর এগোইনি। কিন্তু একটা বড় অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যা পরবর্তী ফুটবলজীবনে আমার প্রচন্ড কাজে লেগেছে। সেবছর ৫ জন ফুটবলার টুর্নামেন্টের সেরা পুরস্কার পেয়েছিল। তাদের একজন ছিলাম আমি। ওই টুর্নামেন্টে ভাল খেলার জন্য মোহনবাগানের নজরে পড়ি। কলকাতায় গিয়ে সবুজ মেরুন জার্সিতে খেলা শুরু করি চুক্তি সেরে। সেই পথ চলা শুরু, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’‌

সুনীলের মতে, ‘‌ আইলিগ প্রথম, দ্বিতীয় ডিভিশন, এমনকি সার্ভিসেস দলের ফুটবলারদের কাছে ডুরান্ডের গুরুত্ব অপরীসিম। কারণ এরা বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পায় খুব কম। ডুরান্ড সেই সুযোগটা এদের করে দেয়। আবার ডুরান্ড মরশুমের শুরুর টুর্নামেন্ট হওয়ায়,আইএসএল ক্লাবগুলোও এটাকে প্রিসিজন প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে অংশ নেয় নিজেদের শক্তি বুঝে নিতে। সেইমতো দলের ঘাটতি পূরণে নজর দেয়। নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসার যেমন জায়গা এই টুর্নামেন্ট, তেমন কোচদের জন্য নিজের দলের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার একটা বড় সুযোগ। প্লেয়ার স্পটিং বা ট্যালেন্ট হান্টের টুর্নামেন্টও বলতে পারেন ডুরান্ডকে। বেঙ্গালুরু এফসিতে শিবশক্তির উত্থান এই ডুরান্ড থেকেই। ও নিজেকে এমনভাবে মেলে ধরেছিল এতে, যে এখন ও দলে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে তার জোরে।’‌

মাঝে বেশ কয়েকবছর ডুরান্ড তার গরিমা হারিয়েছিল। বড় দলের অধিকাংশ টুর্নামেন্টে না খেলায়। কিন্তু কলকাতায় ডুরান্ড কাপের আয়োজন শুরু হওয়ার পর থেকে ডুরান্ড তার হৃত গৌরব ফিরে পেয়েছে। তার জন্য টুর্নামেন্টের সংগঠক সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের কৃতিত্ব প্রাপ্য। ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে যা খুব ভাল বলেই মনে করেন জাতীয় দলের জার্সিতে ও আইএসএলে সর্বাধিক গোলের অধিকারী সুনীল। বেঙ্গালুরু অধিনায়ক হিসেবে ২০২২ সালে কলকাতায় যুবভারতীতে ফাইনালে মুম্বই সিটিকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে একমাত্র ডুরান্ড কাপ জিতেছিলেন সুনীল। বলেই দিলেন, ‘‌ সেই কাপ জয়ের মুহূর্ত আজও স্মৃতিতে অম্লান। সেই অনুভূতি ছিস স্বর্গীয়। তার আগে কোনওদিন আমি ডুরান্ড কাপ জিতিনি। তার জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।’‌

নানা কারণে এবার তাঁর দল সহ বেশ কয়েকটি বড় দল টুর্নামেন্টে না পারলেও, ডুরান্ডের লড়াই বাকি দলগুলোর মধ্যে জমে যাবে বলেই সুনীলের বিশ্বাস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *