ইস্টবেঙ্গল ৭( ডেভিড-৩, ইকোনোমিডিস, রোহিত, লোবা, লুকাস) নর্থ ইস্ট ২(আলাদিন-২)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফসির কাছে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই হারটা যে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে যতটা না ব্যথা দিয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি জাত্যাভিমানে লেগেছিল ডুরান্ডজয়ী লাল হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ও তাঁর ফুটবলারদের। কথায় আছে, খোঁচা খাওয়া বাঘ আর ইস্টবেঙ্গল খুব ভয়ঙ্কর। পাঞ্জাবের কাছে হারটা ইস্টবেঙ্গল ব্রিগেডকে তাতিয়ে দিয়েছিল। মশাল বাহিনীর তেজে পুড়ে খাক হয়ে গেল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড শিল্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। কিশোরভারতীতে নর্থ ইস্টকে ৭-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিল্ডের ফাইনালে গেল ইস্টবেঙ্গল, ডেভিডের হ্যাটট্রিক, রোহিত কুমার, ইকোনোমিডিস, রোহিত কুমার, লোবার গোলের সৌজন্যে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে বিশ্রিভাবে হারের পর শিল্ড ফাইনালের আগে লাল হলুদ ফুটবলারদের ফর্ম চিন্তায় রাখল মোহনবাগান এসজিকে। বৃহস্পতিবার শিল্ড ফাইনাল যুবভারতীতে ৮ অক্টোবর।
মোহনবাগান ব্রিগেড যখন শিল্ডের প্রথম ম্যাচে শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জেতার পর গোলের ধারা শুকিয়ে গেছে। রবিবার শিল্ডের প্রথম সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে জিততে কালঘাম ছুটে যায় বাগানের নির্ধারিত সময়ে গোল করতে না পারায়। ম্যাচ জিতেছিল টাইব্রেকারে। আর সেখানে ২ মিনিটের মাথায় আলাদিন আজারের গোলে পিছিয়ে পড়েও বাকি সময় ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে নর্থ ইস্টকে ৭-২ গোলে চূর্ণ করে শিল্ড ফাইনালে উঠে মোহনবাগানের দিকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল। ২৯ মিনিটে ডেভিডকে অবৈধভাবে ট্যাকল করে ফেলে দিলেও রেফারি সুরজিত দাস পেনাল্টি দেননি ইস্টবেঙ্গলকে। দিলে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল হলে লাল হলুদের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ত।
ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস যে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে হারে অখুশি ছিলেন, সেটা বোঝা গেছে নর্থ ইস্ট ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কোচের দল নামানো দেখে। ওই ম্যাচে মাঝমাঠের খেলা দানা বাঁধেনি জিকসন ও রামিরেজ শুরু থেকে না খেলায়। তাঁরা খেলতেই মশাল বাহিনীর খেলার চেহারা পুরো বদলে যায়। সম্ভবত শুরুতে নিজেদের গুছিয়ে নিতে সময় নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। সেই সুযোগে ২ মিনিটে জিবুলিচ আর গোলকিপার ফুরবা লেপচার ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে আলাদিন গোল করে নর্থ ইস্টকে এগিয়ে দেন। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশ তেড়েফুঁড়ে খেলা চালিয়েছিল নর্থ ইস্ট। কিন্তু আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ জ্বলে উঠেই ফস করে নিভে গেল ১০ মিনিট খেলা গড়াতেই।
তারপর গোলটা ম্যাচ জুড়ে শুধু লাল হলুদ ঝড়। গোলের সুনামি বললেও ভুল হবে না। ১২ মিনিটে ইকোনোমিডিসের ক্রশে হেডে ডেভিডের দর্শনীয় গোলে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। ২৪ মিনিটে রামিরেজের সেন্টারে রোহিত কুমারের ডান পায়ের শটের গোলে ২-১। নর্থ ইস্ট এরপর খেলা থেকে একেবারে হারিয়েই গেল। একের পর এক আক্রমণ তুলে এনে গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে যান লাল হলুদ ফুটবলাররা। ২৮ মিনিটে রামিরেজের গোলের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে তন্ডোনবা ফেরান। পরের মিনিটে পেনাল্টি পেত ইস্টবেঙ্গল। রেফারি দেননি। ৪৩ মিনিটে বিষ্ণুর থেকে বল পেয়ে ইকোনোমিডিস গোল করে ৩-১ করেন।
বিরতির পরও গোলের বন্যা থামেনি। ৪৬ মিনিটে বিষ্ণুর পাস থেকে ডেভিডের দ্বিতীয় ও ৫৬ মিনিটে ডেভিডের হ্যাটট্রিক গোলে ইস্টবেঙ্গলের এগিয়ে যাওয়া ৫-১ ফলে। খেলার গতির বিরুদ্ধে আলাদিন গোল করলে নর্থ ইস্টের পক্ষে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-৫। ৮৫ মিনিটে গোল কর নিজের আগমনের জানান দিলেন লোবা(৬-২)। ইকোনোমিডিসের জায়গায় নেমে নিজের জাত চেনালেন আইভরি কোস্টের ফুটবলার। ৯১ মিনিটে লুকাস জোলিনিস্কির গোলে ইস্টবেঙ্গলের ৭-২ গোলে জেতা সম্পূর্ণ।
ইস্টবেঙ্গল: ফুরবা, হার্দিক(আসিফ), জিবুলিচ(রশিদ), লালচুংনুঙ্গা, সন্দীপ, রোহিত কুমার, জিকসন, রামিরেজ(রোহিত দানু), বিষ্ণু, ইকোনোমিডিস(লোবা), ডেভিড(লুকাস)।
