অলস্পোর্ট ডেস্ক: এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ কোয়ালিফাইংয়ের ফাইনাল রাউন্ডে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। যোগ্যতা অর্জন করতে হলে গ্রুপের শীর্ষে শেষ করতে হবে দলকে। এই অবস্থায় প্রতিটি ম্যাচই যে গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য তা নিশ্চিত করেই জানে মানোলোর ছেলেরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও শিলংয়ের মাঠের ৯০ মিনিট সমানে সমানেই টক্কর দিল বাংলাদেশ। তবে তাদের হামজা চৌধুরীকে নিয়ে শুরু থেকে যতটা হাইপ শোনা যাচ্ছিল তা দেখাও গেল। শুরুতেই গোলের বল তৈরি করলেন যা কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। বরং পুরো দ্বিতীয়ার্ধটাই ভারতের পর পর আক্রমণে ব্যস্ত থাকতে হল বাংলাদেশ রক্ষণ ও গোলকিপারকে। প্রথমার্ধে অবশ্য ভারতের সামনে দু’বার রীতিমতো বিপদের সঙ্কেত দিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যে যেখানেই থাকুক না কেন ভারত-বাংলাদেশ ফুটবল ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনার। কারণ দুই দেশের ইতিহাস হোক বা ভৌগলিক অবস্থান, খেলার মাঠে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। যার ফল ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটেই বিশাল কাইথের ভুলে তাঁকে পরাস্ত করেই ফেলেছিলেন হৃদয়। শেষ মুহূর্তে দেশের দূর্গ রক্ষা করেন শুভাশিস বোস। ৪২ মিনিটে পাওয়া যায় সেই চেনা বিশাল কাইথকে। যাঁর হাতে এই মরসুমে সব থেকে বেশি ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হয়েছে মোহনবাগান। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতি থেকে জনির প্রচেষ্টাকে আটকে দেশের গোল রক্ষা করেন তিনি। তার আগে অবশ্য ভারতের সামনেই বেশ কয়েকটি সুযোগ চলে এসেছিল, তবে তা থেকে গোল আসেনি।
যে ভারতীয় দলকে কয়েকদিন আগেই এই একই ভেন্যুতে প্রীতি ম্যাচে মলদ্বীপের বিরুদ্ধে পাওয়া গিয়েছিল তা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাওয়া গেল না। অবসর থেকে ফিরিয়ে আনা সুনীল ছেত্রীও কিছু করতে পারলেন না। সুযোগ তৈরি হল ঠিকই কিন্তু স্কোর বোর্ডে তার প্রতিফলন না হলে সব প্রচেষ্টাই গুরুত্বহীন। ম্যাচ শেষে মানোলো মার্কেজ বলেই দিলেন, ‘‘অত্যন্ত খারাপ পারফর্মেন্স’’। তিনি যে খুশি নন তা তাঁর অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছিল। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে সুনীলকেও দেখা গেল হতাশায় মাথা নাড়তে।
এদিন গোলশূন্যভাবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল গোলের জন্য অলআউট ঝাঁপাবে ভারত। তেমনটাই হল। কিন্তু দলে যে পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব। ছিলেন এক সুনীল ছেত্রী। অবসর থেকে ফিরে তিনিও অনেকটাই ব্যাকফুটে। আইএসএল আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলিয়ে ফেললে যে হবে না তা এদিন প্রমাণ হয়ে গেল বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে। যেখানে দুই দলের পারফর্মেন্সে একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশ কোনওভাবে পিছিয়ে। সমানে সমানে খেলল ভারতের ঘরের মাঠে। রাহুল ভেকে, লিস্টন কোলাসো, মহেশ সিংরা সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন। গোলের সুযোগ পেলেন ডিফেন্ডার শুভাশিসও। আইএসএল-এ এবার অনেক গোল রয়েছে তাঁর নামের পাশে। তবে এত কিছুর পরও গোলের মুখ খোলা হল না ভারতের।
তুলনামূলকভাবে সহজ প্রতিপক্ষের কাছে ঘরের মাঠে আটকে গিয়ে এবার মুখোমুখি হতে হবে কঠিন দলের। এই গ্রুপে আর রয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের মতো। ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ভারত?
ভারতীয় দল: বিশাল কাইথ, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বোস (আশিক কুরুনিয়ান), সন্দেশ ঝিঙ্গন, লিস্টন কোলাসো, ফারুখ চৌধুরী (ব্রাইসন সিং), উদান্তা সিং (নাওরেম মহেশ সিং), আয়ুশ ছেত্রী (সুরেশ সিং), আপুইয়া, বরিস সিং, সুনীল ছেত্রী (ইরফান ইয়াদওয়াড়)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
