মঙ্গলবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে যে, টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক কয়েক দিন আগে ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ইরানের বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে। ফিফার এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ফলে অনেক সমর্থক স্টেডিয়ামের বাইরেই থেকে যেতে পারেন, যদিও তাঁরা ইতিমধ্যেই ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টটি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ইরান দলের সঙ্গেও একটা টানাপড়েন চলেছে তবে সব সমস্যা মিটিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল এবং সেখানে ভালভাবেই তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে এফএফআইআরআই জানিয়েছে, ‘‘অথচ অনেক ইরানি ফুটবল ভক্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ম্যাচগুলো দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করেছিলেন।’’ কিন্তু শেষ মুহূর্তের এমন সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিপাকে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে জড়িত সমস্যাগুলোর তালিকায় এই নতুন বিতর্কটি যুক্ত হল। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এই নতুন ঘটনাটি ঘটল।
টিকিট সংক্রান্ত এই জটিলতা ইরানি ফুটবল সমর্থকদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা; কারণ তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিয়মকানুন ও ভ্রমণ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।
এই সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক মাস আগে, ১২ মার্চ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি বিবৃতির মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ইরানের জাতীয় দলকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া উচিত কি না।
ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে স্বাগত, তবে তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের এখানে আসাটা আমি খুব একটা সমীচীন মনে করি না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য ধন্যবাদ!’’
ইরানের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও, ফিফা দলটির ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা যে ইরানের ফুটবল দলকেও প্রভাবিত করেছে, তা বুঝতে কোনও বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে খেলোয়াড়রা ভিসা পেয়েছিলেন, যার ফলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় তাঁরা হারিয়েছিলেন।
তবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, ইরানি দলের বেশ কয়েকজন সদস্য—যার মধ্যে “গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও” অন্তর্ভুক্ত—ভিসা পাননি। ফেডারেশন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আয়োজক হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং ফিফার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি পাসানদিদেহ জানিয়েছেন, তিহুয়ানায় পৌঁছানো ৭০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের ১৫ জন সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। এই বিতর্ক নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ফিফা কোনও সাড়া দেয়নি।
টিকিট বরাদ্দ নিয়ে সৃষ্ট এই নতুন বিতর্ক ইরানি সমর্থকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি; অথচ অনেক সমর্থক—যারা গ্যালারিতে বসে নিজেদের দলকে সমর্থন করার আশা করেছিলেন—তারা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যদিও তাঁরা ফুটবল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মেনেই সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিলের যে খবর পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে ফিফা বা টুর্নামেন্ট আয়োজকরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। মাঠের বাইরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়, ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান এমন সব বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে যার সঙ্গে ফুটবলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
