ছবি: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: দিদিয়ের দেঁশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি আর ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে থাকবেন না। ফ্রান্স ফুটবল সংস্থার কর্তারাও সেটা মেনে নিয়েছিলেন। তাঁরা ঠিক করেও ফেলেন ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচ দেশঁর জায়গায় ফ্রান্স দলের দায়িত্ব নেবেন আর এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলার জিনেদিন জিদান। সেটাই হতে চলেছে খুব শিগ্গিরি। তবে এখানে যেটা বলার, সেটা হল জাতীয় দল থেকে দেশঁর বিদায়টা স্মরণীয় করতে চেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে সহ ফ্রান্সের ফুটবলাররা। অর্থাৎ আরও একটা বিশ্বকাপ দেঁশকে উপহার দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তাঁদের। সেই লক্ষ্যপূরণ হল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়া দূরে থাক ফ্রান্স ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করল ৪ নম্বর স্থানে। ইংল্যান্ডের কাছে প্রথমার্ধে ০-৪ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষপর্যন্ত রং মশালের মতো খানিকটা জ্বলে উঠে ৪-৬ গোলে হেরে। এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বুকায়ো শাকার হ্যাটট্রিক ফ্রান্সের হারের অন্যতম কারণ।
দেঁশর কোচিংয়ে রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার থেকে একটা ধারাবাহিক সাফল্য পেয়ে এসেছে ফ্রান্স বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। সবগুলোতে চ্যাম্পিয়ন না হলেও প্রথম ২য়ে থেকেছে অধিকাংশ সময়। এমনকি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়ে শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে রানার্স হয়েছিল ফ্রান্স। এবারও ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ছিল হট ফেবারিট। কাপ জেতার অন্যতম দাবিদার। শুরুও করেছিল দারুনভাবে। সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত এমবাপে ও দলের অন্যদের খেলা দেখে মনে হয়েছিল ফ্রান্সের কাপ জেতা শুধু সময়ের অপেক্ষা। পরপর তিনবার ফাইনালে উঠে, দু’বার কাপ জিতে বুঝি এক অনন্য নজির গড়ে ফেলবে ফ্রান্স। একইসঙ্গে এমবাপে ও কোচ দেশঁও এক নতুন রেকর্ড গড়বেন।
কিন্তু সেমিফাইনালে ফ্রান্সের স্বপ্নের দৌড় থামিয়ে দেয় স্পেন। বলতে গেলে একপ্রকার ফ্রান্সকে খেলতে না দিয়ে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন চলে যায় ফাইনালে। স্পেনের সামনে কাপ জেতার লড়াইয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যারা সেমিফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় শেষমুহূর্তে ২ গোল করে। তবে সেমিফাইনালে হারটা হজম করতে পারেননি ফ্রান্সের ফুটবলাররা। আর সে কারণেই সম্ভবত তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের লড়াইতে নেমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ফুটবলারদের খেলায় কোনও মন ছিল না। নইলে প্রথমার্ধেই ০-৪ গোলে কেন পিছিয়ে পড়বে ফ্রান্স?
বিরতিতে সাজঘরে ফিরে ফ্রান্স ফুটবলারদের নিশ্চয়ই মনে হয়েছিল এত গোলে হারটা শুধু তাঁদের পক্ষে অসম্মানের নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলার ও কোচ দেশঁর পক্ষেও। একইসঙ্গে এমবাপেরও হয়ত মনে পড়ে গিয়েছিল, বিশ্বকাপ ট্রফি হাতছাড়া হলেও, তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্যপূরণের বিষয়টা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পেয়ে গোল্ডেন বুট জেতা। আর্জেন্টিনার মসীহার মেসির ফাইনালে মাঠে নামার আগে পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ৮। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসি ফাইনাল খেলার আগে পর্যন্ত করেছেন ২১ গোল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামার সময় এমবাপে সম্ভবত সেটাই মাথায় রেখেছিলেন। ঠিক করে নিয়েছিলেন চলতি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই গোলসংখ্যা দুটোই ছাপিয়ে যেতে হবে। ছাপিয়ে গেলেনও এমবাপে। দলের হার বাঁচাতে না পারলেও ২ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ব্যক্তিগত গোল সংখ্যা নিয়ে গেলেন ১০য়ে। আর তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে এমবাপের মোট গোলসংখ্যাও পৌঁছে গেছে ২২য়ে। গার্ড মুলারের পর এমবাপে এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় ফুটবলার, যিনি এক বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছেন। স্পেন ম্যাচে মেসি ২ গোল করলে গার্ড মুলার ও এমবাপেকে ছোঁবেন, আর ২য়ের বেশি গোল করলে দু’জনকেই ছাপিয়ে যাবেন।
একটা বিষয় খুব পরিষ্কার, ২০২৬ ফাইনালের আগে মেসিকে একটা অন্য চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন এমবাপে। পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানির পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গোল্ডেন বুট পেতে মেসিকে এখন নিউ জার্সির মাঠে স্পেনের বিরুদ্ধে অন্তত ২ গোল করতেই হবে। তবেই তিনি এমবাপের ১০ গোলকে ছুঁতে পারবেন। মেসির অবশ্য অ্যাসিস্টের সংখ্যা অনেক বেশি এমবাপের তুলনায়। আর সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়তেও মেসিকে ২ গোল করতে হবে স্পেন ম্যাচে। ১ গোল করলে এমবাপের সঙ্গে সমান জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবেন মেসি। এটুকু বলাই যেতে পারে, এমবাপের ফুটবল জীবন যদি অকালে থেমে না যায়, তাহলে পরের বিশ্বকাপে মাঠে নামলে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করার রেকর্ড তাঁর দখলে চলে যাবে। সেটা আর কারও পক্ষে ভাঙা সম্ভব হবে কিনা, বলা মুশকিল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
