Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
লিওনেল মেসি

অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিওনেল মেসি আমেরিকায় তার কেরিয়ারের সূচনা করে দিলেন এক্কেবারে হলিউডি ফিল্মি কায়দায়। শুক্রবার ইন্টার মিয়ামির হয়ে তাঁর অভিষেক ম্যাচে দলের হয়ে দুরন্ত ফ্রি-কিকে তাঁর সেই চেনা গোল মাতিয়ে দিল মিয়ামিকে। স্টপেজ টাইমের চতুর্থ মিনিটে, মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিরুদ্ধে লিগস কাপের ম্যাচটি ১-১ ছিল। মেসি তাঁর বিখ্যাত বাঁ-পায়ের নিখুঁত রেঞ্জে বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিককে দারুণভাবে কাজে লাগালেন। সাতবারের ব্যালন ডি’ওর অবশ্য আগেই মেপে নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ ক্রুজ আজুল গোলরক্ষক আন্দ্রেস গুডিনোর অবস্থান। আর তাঁর শট গোলরক্ষকের ডান দিকের মাথার উপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

মিয়ামির ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়াম ২০ হাজারের দর্শকাসন বিশিষ্ট। সেখানে তিলধারণের জায়গা ছিল না এদিন। মেসিকে দেখতে পাগলের মতো ভিড় জিয়েছিলেন ভক্তরা। আর মেসিক সেই অসাধারণ গোলের পর তো অনেকেই লাফিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। মেসি অবশ্য গোল করার পর দৌঁড়ে চলে যান সাইড লাইনের কাছে মানে গ্যালারির কাছাকাছি উত্তাল জনতার থেকে শুভেচ্ছা নিতে। তাঁর পিছন পিছনই সেখানে পৌঁছে যান দলের অনেকেই।

মিয়ামি এবং মেজর লিগ সকার যে মেসির আগমনে বদলে যাবে তা প্রথম দিনের খেলার পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। কথায় আছে প্রতিভা সে যেখানেই যাক না কেন একই থেকে যায়। তাই বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র বিশ্বের তাবড় তাবড় দল ছেড়ে যখন আমেরিকার তলার দিকের ক্লাবকে বেছে নিয়েছিলেন তখন ভরসা তো ছিলই। তিনি খেল দেখাবেন এখানেও।

মেসির অভিষেক যদি কোনও পথপ্রদর্শক হয়ে থাকে, তাহলে বার্সেলোনা তারকার এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। এমনকি তাঁর দুর্দান্ত গোলের আগেও তাঁকে খুব সিরিয়াস এবং সতর্ক দেখাচ্ছিল। তাঁ ফুটবল মাঠের ছন্দ এটা বুঝতে দেয়নি যে তিনি এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটাচ্ছিলেন এবং তিনি এই দলের সঙ্গে অনুশীলনই করেননি।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার এবং প্রাক্তন বার্সা সতীর্থ সার্জিও বুস্কেটস, যিনি মেসির সঙ্গে একই দলে যোগ দিয়েছেন, তাঁরও এদিন ইন্টার মিয়ামির হয়ে অভিষেক হয়ে গেল। ভেনেজুয়েলার জোসেফ মার্টিনেজের পরিবর্তে ৫৪ মিনিটে মাঠে নামেন তবে তাঁর নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এই অল্প সময়ই যথেষ্ট ছিল।

বুস্কেটস মেসির সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত, প্রায় টেলিপ্যাথিক বোঝাপড়া প্রথম ম্যাচেই দেখিয়ে দিয়েছেন। দুই বছরেরও বেশি সময় পর একে অপরের থেকে দূরে থাকার পর, এই মিডফিল্ডার আর্জেন্টিনাই তারকার সায়ে ঠিক মাপা পাস দিয়ে গিয়েছেন। তবে মেসি যে গোলটি করলেন সেটি তাঁর একটা জাদুকরী ফিনিশ যা ইন্টার মিয়ামি ভক্তদের স্মৃতিতে দীর্ঘকাল থাকবে।

ম্যাচ জিতিয়ে মেসি বলেন, “আমি জানতাম আমাকে গোল করতে হবে, এটা ছিল খেলার শেষ মুহূর্ত। আমাকে গোল করতে হত যাতে ম্যাচ পেনাল্টিতে না যায়। এই জয়টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এটা একটা নতুন টুর্নামেন্ট, এটা আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

লিগস কাপের নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপের দলগুলিকে ড্র করার জন্য এক পয়েন্ট দেওয়া হয় এবং তারপরে পেনাল্টি শুট-আউটে যে জেতে তাকে আরও একটি অতিরিক্ত পয়েন্ট দেওয়া হয়। তবে মেসি মিয়ামির জন্য তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে দেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ক্লাবের সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যাম তাঁকে দলে এনে কোনও ভুল করেননি।

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন মিডফিল্ডার বলেন, “সত্যি বলতে, ফ্রি কিকটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ভেবেছিলাম যে এটি এভাবেই শেষ হতে চলেছে। বিশেষ করে যখন আপনি মাঠে লিও এবং সার্জিওর মতো খেলোয়াড় পেয়েছেন, তখন তারা এই আত্মবিশ্বাসটা রাখে।”

“আজ রাতটি আমাদের ভক্তদের জন্য খুবই উচ্ছ্বাসের। এই সমস্ত লোক যারা লিওকে দেখতে এখানে নেমে এসেছেন, মাঠে ঢুকে পড়েছেন। এই স্টেডিয়ামের প্রত্যেকের জন্য এটি একটি স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এটি দেশের জন্য এমন একটি মুহূর্ত, এই লিগের জন্য এমন একটি মুহূর্ত,” তিনি বলেছিলেন।

খেলার গতির বিপরীতে ৪৪ মিনিটে রবার্ট টেলরের দুর্দান্ত, নিচু শটে মায়ামি এগিয়ে যায়। মেসি এবং বুস্কেটস সেই লিড ধরে রাখতে মাঠে নামে কিন্তু তার আগেই ৬৫ মিনিটে উরিয়েল আন্টুনার শক্তিশালী ড্রাইভে মেক্সিকানরা গোল করে ১-১ করে ফেলে। এরপরই আসে মেসি মোমেন্ট। তাঁর নতুন দল, নতুন ভক্তদের সঙ্গে অসাধারণ এক শুরু।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.