Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস

অলস্পোর্ট ডেস্ক: কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে তাঁর দল ৪-৩-এ জিতলেও মোহনবাগান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস মনে করেন, তাঁর দলের আরও তিন গোল দেওয়া উচিত ছিল। শুধু তা-ই নয়, স্কোরলাইন যদি ৪-০ হত, তা হলে আরও বেশি খুশি হতেন বলে জানালেন স্প্যানিশ কোচ।

বুধবার চলতি আইএসএলে টানা আটটি ম্যাচে অপরাজিত রইল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যার মধ্যে ছ’টি জয় রয়েছে। এই নিয়ে টানা চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত রইল তারা। যার মধ্যে তিনটি জয়। এ মরসুমে বাইরের মাঠে সাত নম্বর ম্যাচ জিতল তারা। চলতি লিগে এই ম্যাচেই সবচেয়ে বেশি সাতটি গোল হল। ব্লাস্টার্সও ঘরের মাঠে সবচেয়ে বেশি গোল খেল এই ম্যাচেই। টানা তিনটি ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করল সবুজ-মেরুন বাহিনী। যা তাদের আইএসএল ইতিহাসে প্রথম।

এ দিন প্রথমার্ধে মোহনবাগান এক গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ছ-ছ’টি গোল হয়। যা চলতি লিগে সর্বোচ্চ। তিনটি করে গোল দেয় দু’পক্ষই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে একেবারে শেষ মিনিট পর্যন্ত গোল হতে দেখা যায় এই উপভোগ্য ম্যাচে।

তবে আরও গোল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সবুজ-মেরুন কোচ। তবে আরও গোল যে খেতেও পারত তাঁর দল, সে কথাও স্বীকার করেন তিনি। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের আরও তিন গোল করা উচিত ছিল। জেসন, লিস্টন গোলের ভাল সুযোগ পেয়েছিল। তবে আমরা যখন নাগাড়ে আক্রমণে উঠছিলাম, তখন রক্ষণে অনেক ফাঁকা জায়গা থেকে যাচ্ছিল। যা কাজে লাগাতে পারত প্রতিপক্ষ। দলের ছেলেদের বলব ভবিষ্যতে আরও দ্রুত যাতে এই জায়গাগুলো কমিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা করতে”।   

গোল পার্থক্যে উন্নতি করার জন্য তিনি যে ম্যাচটায় ৪-০-য় জিততে চেয়েছিলেন, তা জানিয়ে হাবাস বলেন, “আজকের ম্যাচটা যে কঠিন হবে, তা আমরা জানতাম। উল্টোদিকে একটা ভাল দল। সমর্থকদের প্রচণ্ড চিৎকার। তার ওপর তিন দিন আগেই ডার্বি খেলে লম্বা সফর করে এখানে এসেছি। এই অবস্থায় তীব্রতায় ভরা একটা ম্যাচ খেলা মোটেই সোজা ছিল না। আমাদের গোল পার্থক্য ভাল আছে ঠিকই। কিন্তু আজকের ম্যাচটা ৪-০-য় জিততে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট পাওয়াটা অবশ্য আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ”।

দিমিত্রিয়স পেট্রাটস নিয়মিত প্রথম এগারোয় থাকলেও সাদিকু ও কামিংসকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাচ্ছেন হাবাস। তবে তিন বিদেশী স্ট্রাইকারই গোলের মধ্যে থাকায় তিনি খুশি। বলেন, “আমরা আজ অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, গোলও পেয়েছি। তিন স্ট্রাইকারেরই গোলের মধ্যে থাকাটা দলের পক্ষে ইতিবাচক। কখন কার চোট-আঘাত, কার্ড-সমস্যা হয়, ঠিক নেই। দিমি, জেসন, সাদিকু তিনজনেই ভাল খেলায় আমি খুশি”।

এ দিন জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সাদিকু ম্যাচের চতুর্থ ও ৬০ মিনিটের মাথায় গোল করেন তিনি। আলবানিয়ার ইউরো কাপারের প্রশংসা করেন হাবাস এবং তিন স্ট্রাইকারকে একসঙ্গে খেলাতে না পারার আফসোসও শোনা যায় তাঁর গলায়। বলেন, “সাদিকু খুবই ভাল খেলোয়াড়। সাদিকু, দিমি, জেসনকে একসঙ্গে খেলাতে পারলেই ভাল হয়। কিন্তু সেই উপায় নেই। তাই ওদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাচ্ছি, যাতে প্রত্যেকেই সমান ম্যাচটাইম পায়। আমার পক্ষে কাজটা মোটেই সোজা নয়”।

এর আগে তাঁকে অনেকে রক্ষণাত্মক কোচ বলে আখ্যা দিলেও এ বার তিনি কোচের দায়িত্বে আসার পর মোহনবাগান যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “আগে যখন আমার হাতে ভাল আক্রমণের খেলোয়াড় ছিল, তখনও আমি দলকে আক্রমণ-নির্ভর খেলা খেলিয়েছি। কিন্তু আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। দুটোই একসঙ্গে করতে হয়। শুধু আক্রমণ বা শুধু রক্ষণ করে ফুটবল হয় না। আমরা সেটাই করছি”।

এই ম্যাচের পর আইএসএলে দীর্ঘ ছুটি পাবেন তাঁর খেলোয়াড়রা। তবে আটজনকে চলে যেতে হবে জাতীয় দলের শিবিরে আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দুটি ম্যাচ খেলার জন্য। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তাঁদের চোট-আঘাতের সম্ভাবনা থেকেই যায়। লিগের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনও নির্ভরযোগ্য ফুটবলারের চোট লাগলে কী করবেন, জানতে চাইলে হাবাস বলেন, “জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তো ছাড়তেই হবে। কারণ, এটা বাধ্যতামূলক। আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দুটি ম্যাচে ভারতীয় দলের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল। আমাদের খেলোয়াড়রা যখন ভারতীয় শিবির থেকে ফিরবে, তখন তাদের শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। তার ওপর ভিত্তি করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওদের খেলাতে হবে। এ ছাড়া কোনও উপায় নেই”।

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *