অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিগের শেষ ম্যাচে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তাদের ঘরের মাঠে মুম্বই সিটি এফসি-কে হারিয়ে শিল্ড জিতলেও ফাইনালে যে তাদের হারানো আরও কঠিন হবে সবুজ-মেরুন বাহিনীর পক্ষে, তেমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মুম্বইয়ের দলের প্রধান কোচ পিটার ক্রাতকি।
সোমবার মুম্বই ফুটবল এরিনায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এফসি গোয়াকে ২-০-য় হারিয়ে ফাইনালে ওঠে পিটার ক্রাতকির দল। প্রথম সেমিফাইনালে তারা নাটকীয় ভাবে ৩-২ গোলে জিতেছিল। ফলে ৫-২-এর স্কোর নিয়ে ফাইনালে মোহনবাগানের মুখোমুখি হতে চলেছে তারা।
সোমবার ম্যাচের পর ক্রাতকি সাংবাদিকদের বলেন, “ফাইনাল ম্যাচটা জমজমাট হবে গ্যালারিতে ষাট হাজার মানুষের সামনে। মোহনবাগান এসজি কত ভাল দল সেটা আমরা যেমন জানি, তেমন এটাও জানি যে, গত ম্যাচে আমরা কী কী ভুল করেছি। ফাইনালে আমরা আরও উন্নত ফুটবল খেলার চেষ্টা করব এবং ওই ম্যাচে আমাদের একটু অন্যরকম চেহারায় দেখতে পাবেন। গত ম্যাচে ওখানে যে রকম খেলেছিলাম, তার চেয়ে এই ম্যাচে ভাল খেলার ক্ষমতা আছে আমাদের। এখন নিজেদের শারীরিক ভাবে তরতাজা করে তুলতে হবে ও শেষ ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। শেষ ম্যাচ ভালই হবে”।
সোমবারের ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনও দলই সে ভাবে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে বল পজেশন কম থাকা সত্ত্বেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ নিজেদের কাছে নিয়ে আসে মুম্বই সিটি এফসি। ৬৯ মিনিটে জর্জ পেরেইরা দিয়াজ প্রথম গোল করেন লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতের কর্নার থেকে। ৮৩ মিনিটের মাথায় বিক্রম প্রতাপ সিংয়ের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ছাঙতে। সারা মরশুম ধরেই মুম্বইয়ের দলের গতিময় প্রতি আক্রমণ প্রতিপক্ষদের বারবার বিপদে ফেলেছে। দ্রত আক্রমণ থেকে অনেক গোলই করেছে তারা।
এই গতিময় আক্রমণে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে, যিনি দুই সেমিফাইনালেই গোল করেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৮৩ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠে এফসি গোয়া বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুত কাউন্টার অ্যটাকে ওঠে মুম্বই। বাঁ দিক থেকে বিক্রম প্রতাপ সিংয়ের লো ক্রস যায় ছাঙতের কাছে এবং ঠাণ্ডা মাথায় তা গোলে ঠেলে দেন তিনি।
তবে প্রথম সেমিফাইনালে যা করেছিলেন তিনি ও বিক্রম, তা অবিশ্বাস্য। ফতোরদায় দুই অর্ধে বরিস সিং ও ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজের গোলে জয় প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে চলে এসেছিল গোয়ার দল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ও স্টপেজ টাইমে ছাঙতের জোড়া গোল ও বিক্রম প্রতাপ সিংয়ের একটি গোলে তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় গতবারের শিল্ডজয়ীরা।
সেই ম্যাচে ৯০ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে চমৎকার একটি থ্রু বাড়ান জয়েশ রানে, যা পড়ে ছাঙতের পায়ে। তিনি প্রথম টাচেই গোলকিপার ধীরজ সিংকে পরাস্ত করে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দেন। এফসি গোয়া এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সমতা আনেন বিক্রম। গোলকিপারের হাত থেকে ছিটকে আসা বলে সোজা গোলে শট নেন তিনি। বাড়তি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে জয়েশ রানের পাস থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শটে দ্বিতীয়বার জালে বল জড়িয়ে দেন ছাঙতে। দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে নেওয়ার ঘটনা আইএসএলের প্লে অফে প্রথম ঘটাল কোনও দল।
এ বারের লিগে এই নিয়ে মোট দশ গোল করে ফেলেছেন ছাঙতে, যা এর আগে আইএসএলে কোনও ভারতীয় ফুটবলার পারেননি। সব মিলিয়ে দলের ১৬টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। শেষ আটটি ম্যাচেই দলের কোনও না কোনও গোলে অবদান রেখেছেন তিনি।
ছাঙতেকে নিয়ে মুম্বইয়ের কোচ বলেন, “ও আমাদের দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গত ম্যাচের পরেও বলেছিলাম, ও খুবই ভাল ফুটবলার। ও ঘুরে দাঁড়িয়ে সমানে ভাল খেলে যাচ্ছে। ও যা পাচ্ছে, তা পাওয়ারই যোগ্য। দলের জন্য নিয়মিত গোল করে চলেছে। যতরকম ভাবে পারে দলকে সাহায্য করে চলেছে ছাঙতে। ওর খেলায় আমি খুবই খুশি। যথেষ্ট পরিশ্রমী ও। যে রকম খেলছে ও পরিশ্রম করছে, সে রকমই পরিশ্রম করে যাক। আমাদের কাছে ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য”।
অন্যান্য দলে যখন বিদেশী স্ট্রাইকারদের রমরমা, সেখানে মুম্বই সিটি এফসি-র আক্রমণে ভারতীয় তারকা ছাঙতে যে অবধারিত বাছাই, তা কোচের এই কথাতেই স্পষ্ট। দু’মরশুম ধরে তিনি এই গুরুত্ব পেয়ে আসছেন মুম্বই শিবিরে। গত মরশুমেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ এবং একাধিক নজিরও গড়েন তিনি। সুনীল ছেত্রীর পর তিনিই একমাত্র ভারতীয় ফুটবলার, যিনি গত মরশুমে দলের ১৬টি গোলে অবদান রেখে লিগপর্বের সেরা ফুটবলারের সন্মান অর্জন করেন।
এ মরশুমে যখম জর্জ পেরেইরা দিয়াজ ও ইকের গুয়ারৎজেনা চোট পেয়ে দলের বাইরে ছিলেন, সেই সময় ছাঙতে ও বিক্রমের জুটি নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে কঠিন সময় সামলে দেন। তাঁর ক্ষিপ্রতা, নিখুঁত টাচ, ধূর্ত পাস এবং চমকে দেওয়া ড্রিবলের মাধ্যমে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন ছাঙতে। দলের হয়ে সচেয়ে বেশি, ৩৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনিই। সবচেয়ে বেশি গোলে শটও (২৫) নিয়েছেন তিনিই।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বিক্রম প্রতাপ সিং খেলতে না পারায় কিছুটা একা পড়ে যান ছাঙতে। নাগাড়ে দুই উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠা এই দুই খেলোয়াড়কে একসঙ্গে আটকানো যে কোনও প্রতিপক্ষের কাছেই বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু মোহনবাগানের ডিফেন্ডারদের সেই কাজটা করতে হয়নি সে দিন। ফলে একা ছাঙতের ওপরই মনোনিবেশ করে তারা। কিন্তু ফাইনালে দুই ভারতীয় অ্যাটাকারকেই সামলে রাখতে হবে শুভাশিস, আনোয়ার, ইউস্তেদের, যা তাদের পক্ষে মোটেই কঠিন হবে না। ক্রাতকির এই জোড়া ভারতীয় ফলার ধার দুর্ভেদ্য সবুজ-মেরুণ রক্ষণের প্রাচীরে চিড় ধরাতে পারে কি না, সেটাই দেখা যবে শনিবার।
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
