Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ রবিবার টেকিওতে জাপান ওপেন জিতে ১৯ মাসের ট্রফি খরা কাটিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় ব্যান্ডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। এই মাঝের সময়টা অলিম্পিক রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই জাপান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তে জয়ে দু’‌হাত প্রসারিত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোর্টেই তাঁর চোখ দিয়ে বয়েছে আনন্দাশ্রু। যা যন্ত্রণার অবসানের ইঙ্গিত করেছে।

চোট ছাড়াও নানা কারণে নিজের সেরাটা কোর্টে দিতে পারেননি সিন্ধু প্রায় দু’‌বছর। চোট সারিয়ে ফিট হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টায় কোনও ঘাটতি ছিল না পিভি সিন্ধুর। তবু কোথায় যেন একটা খামতি থেকে গিয়েছিল। হয়ত কিছুটা ভাগ্যও সাথ দেয়নি এতদিন। তবে জাপান ওপেন সুপার ৭৫০য়ের ফাইনালে জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-‌১৭, ২১-‌১৭ পয়েন্টে হারিয়ে দিয়ে আবেগে আক্রান্ত হন সিন্ধু। বলেন, ‘‌ আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি, কারণ আমার কাছে এই জয়টা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। আমি দীর্ঘসময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি সাফল্য পেতে। বিশ্বাস ছিল আমি সাফল্য পাবই। অনেকেই আমার কাছে জানতে চাইতেন, কেন সাফল্য আসছে না?‌ এমনও কেউ কেউ বলেছেন, আমি ফুরিয়ে গেছে। এবার সরে দাঁড়ানোই ভাল। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আমার পরিবার ও কোচিং স্টাফরাও আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল। ভরসা জুগিয়ছিল এটা বলে, আমি পারবই। সেটা পারাতে খুব আনন্দ হচ্ছে। মনে হচ্ছে বুকের ওপর একটা বিরাট চাপের পাথর নেমে গেল।’‌

১৯ মাসের ট্রফি খরা কাটার পাশাপাশি, বাসেলে ২০১৯য়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জেতার পর এটাই পিভি সিন্ধুর সবচেয়ে বড় সাফল্য। মাঝে ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেও, ওই বছরেই বাঁ পায়ের গোড়ালিতে চিড় ধরার কারণে কোর্ট থেকে সাময়িক ছিটকে যান তিনি। অনেকটা সময় নষ্ট হয় চোট সারিয়ে কোর্টে ফিরতে। তবে কোর্টে ফিরলেও পুরোন ফর্ম ফিরে পেতে সমস্যা হচ্ছিল সিন্ধুর। অবশেষে সাফল্য এল জাপান ওপেন সুপারে।

আর এই সাফল্যটা এমন সময় এসেছে, যখন অনেকের মনেই সংশয় দেখা দিয়েছিল বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা পিভি সিন্ধুর আছে কিনা?‌ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে লড়াইয়ের রসদ পেয়ে গেলেন সিন্ধু জাপান ওপেন জিতে। চলতি সপ্তাহে টোকিওতে সিন্ধু ছিলেন তাঁর চেনা ছন্দে। খেতাব জেতার পথে সিন্ধু একটাও গেম খোয়াননি। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা শাটলার যিদি জাপান ওপেন জিতলেন। সেমিফাইনালে সিন্ধু দাঁড় করিয়ে হারিয়েছিলেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন চেন উফেইকে। আর ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আকানে ইয়ামাগুচিকে।

২০২৬য়ের জাপান ওপেন সুপারে জয় সিন্ধুকে নতুন করে বড় স্বপ্নের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে উজ্জীবিত করছে। সিন্ধু চোখে এখন বিশ্বচ্যামপিয়নশিপ ছাড়াও ২০২৮ লস এঞ্জেলস অলিম্পিক্স। এর আগে মালয়েশিয়া ওপেন সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে উঠে হেরেছিলেন তিনি। অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন সিঙ্গলসের শুরুতে ছিটকে যাওয়ার পর। ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্সের কোয়ার্টারফাইনালে হার ও অস্ট্রেলিয়া ওপেনের শেষ চারে পৌঁছানোর পর সিন্ধু একমাস ধরে নিজেকে তৈরি করেছিলেন জাপান ওপেনের জন্য। তার সুফল মিলেছে। একইসঙ্গে এটা উল্লেখ করতেই হবে, ২০২৫ সাল থেকে তাঁর সাপোর্ট টিমে ইন্দোনেশিয়ার ইরওয়ারশা আদি প্রতামা যোগ দেওআর পর থেকে সিন্ধুর ফর্মে ফেরা শুর হয়। তাঁর কোচিংয়েই সিন্ধু নিজস্ব চেনা ও পরিচিত অস্ত্র আক্রমণাত্মক স্টাইল তুলে ধরতে শুরু করেন।

জাপান ওপেন জিতে সিন্ধু বলেন, ‘‌ আমার শক্তি সবসময় হল আক্রমণাত্মক খেলা। যবে থেকে আমি কোর্টে সাচ্ছন্দে মুভমেন্ট করতে পারছি, আক্রমণাত্মক শট নিচ্ছি, এর সঙ্গে নিজের ভুল কমিয়েছি, তখন থেকে সাফল্যে ফেরার ইঙ্গিত মিলছিল। জানতাম যত কম ভুল করব, তত র‌্যালির সময় বাড়বে, সহজ হবে ম্যাচ জেতা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেকে শান্ত রাখাটাও খুব জরুরি। অনেকক্ষেত্রে ম্যাচে এগিয়ে থাকলে, মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে, কত তাড়াতাড়ি র‌্যালি করে গেমটা কব্জায় নেব। আর তাতেই সিলি মিস্টেক করে ভুগতে হয়। ম্যাচও হাতছাড়া হয়ে যায়। আমার কোচ সেটা বুঝেই আমাকে বারবার বলেন, আমি যেন শুধু পরের পয়েন্টটা ফোকাস করি, আর কিছুতে নয়। এটা বিরাট কাজে দিয়েছি। আমি সেটাই করেছি। ফেলে আসা পয়েন্ট বা গেম নিয়ে না ভেবে, পরে গেম ও পয়েন্টে ফোকাস করি। ওটাই আমাকে সাফল্য পেতে সাহায্য করেছে।’‌

আর সেকারণেই জাপান ওপেন জিতে সিন্ধু পুরস্কার মঞ্চে ডেকে নেন কোচ ইরওয়ানশাকে। কোচকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সিন্ধু কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ইরওয়ানশা ছাড়াও তাঁর স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ ওয়েন লোমবার্ড, অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ হেরা, শাইয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করেন বিজয়ীর ভাষণে মঞ্চে দাঁড়িয়ে। পাশাপাশি সিন্ধু বলেন, ‘‌ আমার পরিবার, শ্বশুর বাড়ির লোকজন, বিশেষ করে আমার স্বামী যেভাবে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন সবসময়, তাঁদের কথা না বললে খুব অণ্যায় হবে।’‌

জাপান ওপেন জয় এসেছে আগামী মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ঠিক আগে। সিন্ধুর প্রতিক্রিয়া, ‘‌ জাপান ওপেন খেতাব জয় নিঃসন্দেহে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নামার আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। সাফল্যের এই ছন্দটা ধরে রাখতে হবে। মাথা ঠান্ডা রেখে লক্ষ্যপূরণের দিতে এগোনো জরুরি।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *