অলস্পোর্ট ডেস্ক: খেলোয়াড়, ক্রীড়াসংগঠক, দক্ষ প্রশাসক, ধারাভাষ্যকার গোপীনাথ ঘোষের জীবনাবসান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন ক্রীড়াক্ষেত্রে সকলের প্রিয় ‘গোপীদা’। বুধবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিখ্যাত মিস্টান্ন প্রস্তুতকারী ‘দ্বারিক’এর পরিবারের সদস্য, আপাদমস্তক ভদ্রলোক সর্বদা মুখে হাসি লেগে থাকা গোপীনাথ ঘোষের প্রয়াণে ক্রীড়ামহল গভীর শোকে আচ্ছন্ন।
শ্যামবাজার এভি স্কুলে পড়াশোনা গোপীনাথ ঘোষের। পরবর্তীসময় শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন। যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস কমিউনিকেশন বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন সুনামের সঙ্গে। সুবক্তা ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। কিছুদিন আগেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলচিত্র উৎসবে বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। তখনও মনে হয়নি তিনি এত তাড়াতাড়ি সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন।
মোহনবাগানের হয়ে হকি খেলেছিলেন গোপীনাথ ঘোষ। গোলকিপার পজিশনে। এছাড়াও খেলেছেন কাস্টমস, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ও উয়াড়িতে। তিনি অলিম্পিয়ান কেশব দত্ত, লেসলি ক্লডিয়াস, ভেস পেজ, গুরবক্স সিংয়ের সঙ্গে হকি টার্ফে খেলে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। বেটন কাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। একইসঙ্গে রাজ্য হকি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন।
খেলোয়াড় জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর ক্রীড়াপ্রশাসনে যুক্ত হন তিনি। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন খেলার উন্নতির জন্য নিরলস কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। বিশেষ করে রাজ্যের টেবিল টেনিস সাফল্যের ডানা মেলে তাঁর উদ্যোগে। তাঁর সক্রিয় ভূমিকাগ্রহণে গণেশ কুন্ডু, অরূপ বসাক, কিশলয় বসাক, নুপুর সাঁতরা, মান্তু ঘোষ, অনিন্দিতা চক্রবর্তী, পৌলমী ঘটক, মৌমা দাসের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সুনাম অর্জনকারী টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের উত্থান ঘটেছিল। তাঁর সময়েই বাংলা টেবিল টেনিসে জাতীয় প্রতিযোগিতায় ১০টা সোনা জিতেছিল, যা একটা রেকর্ড। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯৭৫য়ে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের সংগঠক কমিটির সদস্য ছিলেন। সেকথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন, বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সচিব শর্মি সেনগুপ্ত।
এছাড়া ৮০র দশকে মস্কোতে গুডউইল সফরে ভারতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন গোপীনাথ ঘোষ। ১৯৮৭ সালের সাফ গেমসের অন্যতম আয়োজক ছিলেন। রোটারিয়ান হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। জীবনের শেষপর্যন্ত সুতানটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। শোভাবাজার রাজবাড়ির নাটমন্দিরের সংস্কারে গোপীনাথের ভূমিকা ছিল প্রশংসীয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
