ছবি— এক্স থেকে সংগৃহিত
অলস্পোর্ট ডেস্ক: প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের সূচনা করেছেন। ৭২.৪ কেজি ওজনের ঝান্ডু তাঁর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে ১৯০ কেজি ওজন তোলেন, তবে তৃতীয় ও শেষ প্রচেষ্টায় অল্পোর জন্য ১৯৬ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন। প্রতিযোগিতার অনেকটা সময় তিনি এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ঝান্ডুর এই উঠে আসার গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। নানা প্রতিকূলতা জয় করে, আর্থিক ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জন করেছেন এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর ঝান্ডু এনডিটিভি-র সঙ্গে সক্ষৎকরে তাঁর এই অসাধারণ যাত্রার কথা তুলে ধরেন—সবজি বিক্রি ও ই-রিকশা চালানো থেকে শুরু করে গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে দাঁড়ানো পর্যন্ত।
এনডিটিভি-কে ঝান্ডু কুমার বলেন, ‘‘ওয়ার্ম-আপ করার সময় থেকেই আমার মনে হচ্ছিল যে আজ আমি ভালো পারফর্ম করব। যখন আমি ১৯১ কেজি ওজন তুললাম, তখন মনে হয়েছিল আরও ভালো করতে পারব; কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৯০ কেজির বেশি ওজন তুলতে পারিনি। এর জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। পদক জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী ছিলাম এবং আমার কোচ পুরো সময়জুড়ে আমাকে দারুণভাবে সহায়তা করেছেন।’’
নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে ঝান্ডু জানান, ‘‘আমি ২০১৬-১৭ সাল থেকে জিমে যাচ্ছি। তখন প্যারা পাওয়ারলিফটিং সম্পর্কে আমার কোনও ধারণাই ছিল না। ২০১৮-১৯ সালের দিকে আমি প্রথম এই খেলাটি সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর আমরা বিহার শরিফের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলি, যিনি আমাকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলেন। এরপর থেকেই আমি এর জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করি। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আমাকে সবজিও বিক্রি করতে হতো। আমি একাই অনুশীলন করতাম।’’
পরবর্তীতে ঝান্ডু জানান যে জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ই-রিকশা চালাতেন, কিন্তু প্রশিক্ষণে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে সেটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ‘‘২০২২ সালে আমি কলকাতায় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম এবং সেখানে ১৩৫ কেজি ওজন তুলেছিলাম। সেই ইভেন্টেই আমি আমার প্রথম পদকটি জিতেছিলাম। এরপর থেকে আমি এই খেলাটি আরও বেশি উপভোগ করতে শুরু করি এবং পদক জয়ের বিষয়টি আমাকে গর্বিত করে তোলে। ২০২২ সালে ব্যবসা চালানোর সময় একটি ওভারব্রিজ প্রকল্পের কারণে আমার দোকানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তা বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে জীবিকা নির্বাহের জন্য আমি একটি ই-রিকশা কিনতে বাধ্য হই। কিন্তু ই-রিকশা চালানোর কারণে প্রশিক্ষণের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল। কাজের পর আমি শারীরিকভাবে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়তাম যে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারতাম না। এরপর ২০২৩ সালে যখন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সময় এল, তখন আমি ই-রিকশাটি বিক্রি করে দিই,’’ বলেন ঝান্ডু।
বিহারের এই প্যারা পাওয়ারলিফটার তাঁর পদকটি বাবা-মাকে উৎসর্গ করে বলেন, ‘‘আমি আমার কোচকেও এই পদকটি উৎসর্গ করতে চাই। এই পদকটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এসএআই-এর সকলেরও। এই সাফল্যের জন্য তাঁরা সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের সংগ্রাম, সহায়তা এবং অবদান আমাকে এই পদক জিততে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
