Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মোহনবাগান ১(‌সাহাল)‌            ইস্টবেঙ্গল ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ডুরান্ড কাপে যুবভারতীতে মরশুমের প্রথম সাক্ষাতে সাহাল আব্দুল সামাদের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে ১-‌০ ফলে হারিয়ে গত মরশুমে কোয়ার্টারফাইনালে হারের বদলা নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গত মরশুমে কলকাতা লিগে কল্যানীর মাঠে হওয়া প্রথম ডার্বিতেও ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের মধুর প্রতিশোধ শনিবাসরীয় ডুরান্ড ডার্বি জয়ে বললেও ভুল হবে না। মোহনবাগান কোচের নতুন দায়িত্বে এসে ডার্বি জিতে যেখানে নজির গড়লেন প্যানাগয়টিস ডিমপেরিস, সেখানে এর আগে কোনও ডার্বি না হারা ইস্টবেঙ্গলের কোচের ভূমিকায় থাকা আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের এটা প্রথম ডার্বি হার।

বিশ্বকাপের খেলা শেষে ডুরান্ড ডার্বিতে মেতে ওঠার জন্য কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আবেদন রেখেছিলেন বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। নানা কারণে কলকাতা যখন উত্তাল, সেসময় মরশুমে প্রথম ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের দ্বৈরথ দেখতে যুবভারতীতে ভিড় জমিয়েছিলেন দু’‌দলের সমর্থকরা। কিন্তু রাত জেগে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও উন্মাদনায় গা ভাসানো ফুটবলপ্রেমীরা দারুন একটা উপোভোগ্য ম্যাচ দেখতে পেলেন, এমন কথা বলতে পারব না। মোহনবাগান সমর্থকদের যেখানে এক গোলে ম্যাচ জেতার প্রাপ্তি ও আনন্দ, সেখানে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হতাশা শেষদিকে লড়েও ম্যাচ হারায়।

সেটা খুব স্বাভাববিক। তার কারণ এর জন্য অনেকটাই দায়ি ডুরান্ড কাপের সংগঠকরা। অর্থাৎ যাঁরা ডুরান্ড কাপের সূচী বানিয়েছিলেন। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ম্যাচ দিয়ে ডুরান্ডের উদ্বোধন ঘটানোর ভাবনাটাই অবৈজ্ঞানিক। বলতে গেলে একপ্রকার কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়াই দুই প্রধানকে ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে নামতে হয়েছে। অথচ এই ম্যাচটাই সূচীতে গ্রুপের শেষ ম্যাচ রাখলে, অনেক ভাল ফুটবল দেখা যেতে পারত। কারণ ডার্বিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা গ্রুপের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলে নিজেদের অনেকটা তৈরি করে ফেলতে পারতেন।

গত মরশুমে কলকাতা লিগের ডার্বিতে কল্যানীর মাঠে দুই প্রধান মুখোমুখি হয়েছিল। সেটাও ছিল মরশুমের প্রথম ডার্বি। আর সেই ম্যাচে বিদেশি খেলানোর সুযোগ ছিল না কলকাতা লিগের নিয়মে। তবু খেলাটা যথেষ্ট জমেছিল ঘরোয়া ফুটবলারদের লড়াইয়ে। তার বড় একটা কারণ ছিল, কলকাতা লিগের ডার্বিতে মোকাবিলায় নামার আগে ঘরের ফুটবলাররা অনেকগুলি ম্যাচ খেলেছিলেন অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার কলকাতা লিগেই হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ খেলেছে দু’‌দলের ঘরের ফুটবলাররা। লিগের ডার্বি তো দূর অস্ত। সেই অবস্থায় ডুরান্ড ডার্বি কতটা জমবে, সে নিয়ে সংশয় ছিল।

বলতে গেলে প্রথমার্ধের খেলা তেমন জমেওনি। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গলে , দু’‌দলেরই কোচ নতুন। ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস তাও ভারতীয় ও কলকাতা ফুটবল নতুন নন। তাঁর কলকাতা ডার্বিতে কোচিং করার অগাধ অভিজ্ঞতা। তবে সেটা সবুজ মেরুনের হয়েই বেশি। সেখানে মোহনবাগান কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের এটাই প্রথম ডার্বি। তাই ঘরোয়া ফুটবলার দিয়ে শুরুর দল সাজানো ও ৪-‌২-‌৩-‌১ ছকে একটা সতর্কতামূলক মনোভাব ছিল। ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস নিজের পছন্দের ৪-‌৪-‌২ ছকেই ভরসা রেখেছিলেন শুরুতে ঘরোয়া ব্রিগেডে ভর করে।

প্রথমার্ধের ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলা অপেক্ষাকৃত মন কাড়ে মন্দের ভাল, আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণের কারণে। ৫৩ মিনিটে খেলায় ঝাঁজ বাড়িয়ে গোল তুলে নিয়ে এগিয়েও যায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ডানপ্রান্তে কিয়ান নাসিরি বল পেয়ে বক্সে মাইনাস রাখলে, ইস্টবেঙ্গলের স্টপার আনোয়ারের মার্কিং এড়িয়ে মনবীর ব্যাকহিল করেন। ওত পেতে ছিলেন সাহাল। ফাঁকায় দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি বল ঠেলে দেন লাল হলুদের গোলে। পিছিয়ে পড়া মাত্রই সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস দলে জোড়া বদল আনেন। শুধুমাত্র দেশি ব্রিগেডে ভরসা না করে নামিয়ে দেন হাতে থাকা দুই বিদেশি রশিদ, রামিরেজকে। একইসঙ্গে বদলি হিসেবে নামান অনেক লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়া বিষ্ণুকে। আর তা দেখে নিজের দল ও কৌশলে বদল আনলেন মোহনবাগানের কোচ ডিমপেরিস। যিনি গোল করালেন সেই কিয়ান ও যিনি গোল করলেন সেই সাহালকে তুলে নিয়ে একাধিক বদল করেন। যার মধ্যে ছিল ডেজান ড্রাজিচ। আনফিট ফুটবলার নামালেন যা হয়, কিছুই খেলতে পারেননি তিনি। বদলগুলোই বুমেরাং হয়ে যেতে বসেছিল মোহনবাগানের জন্য।

গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর যেখানে মোহনবাগানের আরও বেশি করে চেপে ধরা উচিত ছিল, সেখানে কোচ পানাগয়টিসের অবাক করা অতিরক্ষণাত্মক খোলসে গুটিয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলকে সমতা ফেরানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের চাপ এতটাই বাড়ে, মোহনবাগান রক্ষণের নাভিশ্বাস উঠে যায়। ৭৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ডকে আটকাতে গিয়ে যেভাবে পিছন থেকে টেনে ধরে ফেলে দেন মোহনবাগানের শুভাশিস, তাতে রেফারি লাল কার্ড দেখাতেই পারতেন। কিন্তু তিনি একটু যেন বেশিই দয়াপ্রবণ হয়ে শুভাশিসকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে ছেড়ে দিলেন। এনিয়ে বিতর্ক বাকি মরশুম চলা অস্বাভাবিক নয়।

ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, যা দেখে মনে হচ্ছিল, যে কোনও সময় গোল খাবে মোহনবাগান। মনে করাচ্ছিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ইংল্যান্ডের আত্মসমপর্ণের খেলাটা। আর্জেন্টিনা ওই সময়ের পর ২ গোল করে ম্যাচ জিতে ফাইনালে গিয়েছিল। কিন্তু এটা ডুরান্ড কাপ আর ইস্টবেঙ্গল আর যাই হোক আর্জেন্টিনা নয়। একইসঙ্গে আর্জেন্টিনা দলে গ্রেটেস্ট অফ অল টাইমস ফুটবলার মেসি ছিলেন। ইস্টবেঙ্গলে মেসির নখের যোগ্য কোনও ফুটবলার ছিলেন না ম্যাচ বের করার জন্য। আনফিট রশিদের একটা গোলের চেষ্টা চালিয়েছিলেন , সেটা রুখে দেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। আনোয়ারের হেড ম্যাচের শেষদিকে অল্পের জন্য বাইরে যায়। দুর্ভাগ্য ইস্টবেঙ্গলের, রামিরেজের শট একবারে শেষমুহূর্তে পোস্টে লাগায় সমতা ফেরানোর গোলটা এল না। নইলে মোহনবাগান কোচের অহেতুক খোলসে গুটিয়ে যাওয়া কৌশলের কারণে সবুজ মেরুনের জয় হাতছাড়া হতেই পারত। কপাল ভাল বাগান ব্রিগেডের, সাহালের গোলেই শেষপর্যন্ত প্রথম ম্যাচ জিতে গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকল। তবে বাকি টুর্নামেন্টের জন্য স্বস্তিতে থাকল এমন বলা যাবে না।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, লালচুংনুঙ্গা, আনোয়ার, সন্দীপ, জয়, বিপিন(‌জেসিন)‌, জিকসন, রোহিত কুমার(‌রশিদ)‌, রোহিত দানু(‌বিষ্ণু)‌, ডেভিড(‌রামিরেজ)‌, এডমুন্ড।
মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক, বেকে, মেহতাব, শুভাশিস(‌আলবার্তো)‌, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ, কিয়ান(‌ডেজান)‌, সাহাল(‌টাংরি)‌, লিস্টন(‌সায়ন)‌, মনবীর(‌সুহেল)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *