Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করছিলেন লিওনেল মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নপূরণের পর কাতারের পরই আর্জেন্টিনার জার্সি আর গায়ে তুলবেন না ফুটবলের রাজপুত্র। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার আগ্রহ ও ট্রফি জেতার খিদে মেসির তখনও শেষ হয়নি। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকাতে অংশ নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে বুঝিয়ে দেন, তিনি সহজে থামবেন না। থামেনওনি। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকপে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। সারা বিশ্বের অগনিত মেসি ভক্ত চেয়েছিলেন পরপর দু’‌বার মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠুক। কিন্তু তাঁদের সে প্রার্থনাপূরণ হয়নি। ফাইনালে বাজিমাত করে স্পেন। নিউজার্সির মাঠে ফাইনালে হারের পর মেসিকে রীতিমতো হতাশ লেগেছিল। বুঝতে অসুবিধা হয়নি আর বেশিদিন তিনি দেশের হয়ে খেলবেন না। চলতি বছর আগস্টে মেসি আন্তর্জাতিক আঙিনা থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন।

তবে তাঁর বিদায়কে স্মরণীয় রাখা জরুরি বলে মনে করেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর মতে, এটাই সঠিক সময় মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সম্মানের সঙ্গে। বেনিনের বিরুদ্ধে বুয়েনস এয়ার্সের স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচটাই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হোক, এটা চান স্কালোনি। বলেন, ‘‌ মেসির মতো খেলোয়াড়ের এটা প্রাপ্য। ওর মতো ফুটবলারের সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য একটা দারুন অনুভূতি। তাই আমি ব্যাক্তিগতভাবে চাই মেসির বিদায়বেলায় উপস্থিত থাকতে। কারণ জানি না, এরপর আর আমি নিজে আর আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যুক্ত থাকব কিনা।’‌

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী কোচ স্কালোনির প্রতিক্রিয়া, ‘‌ বুঝতে পারছি, মেসির মনের মাঝে কী চলছে। সেই অবস্থায় নিজের ভালবাসার মানুষ ও ভক্তদের সামনে ফুটবলকে বিদায় জানানোর কাজটা কতটা কঠিন সেটা বুঝি। মনে করি, মেসিকে যদি বিদায়ী সম্মানটা দিতে হয়, তাহলে এটাই যথার্থ সময়। কারণ এরপর মেসি ম্যাজিকের ঝলকটা আর সেভাবে দেখা নাও যেতে পারে।’‌

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপটা ছিল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া। মেসি ফাইনাল পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলে ৮ গোল করেন। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি দেশের জার্সিতে ১২৫ গোল করেছেন। যার মধ্যে বিশ্বকাপে করেছেন ২১ গোল।

মেসির সঙ্গে কোচের ভূমিকায় কাজ করা নিয়ে স্কালোনির বক্তব্য, ‘‌ এককথায় অসাধারন অভিজ্ঞতা। বলতে পারেন স্বপ্নের মতো। আমি ওকে বলেছি, এবং বাকি জীবন ধরেও বলব একইকথা। ওর মতো ফুটবলার আর আসবে না। অন্তত আমার জীবনে। এটা শুধু মেসির মাঠের খেলার জন্য নয়, সবকিছু মিলিয়ে ওর অবদান একটা অন্য মাত্রার। সেটা উপভোগ করেছি সবসময়। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি যা খেলেছে, যা দক্ষতার ছাপ রেখেছে, তার কোনও তুলনা হয় না। আর নতুন কিছু দেওয়ার বাকি নেই মেসির। এবারও সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’‌ওর সম্মান ওরই প্রাপ্য। চোখ ধাঁধানো খেলা, পরিসংখ্যান সবই ওর পক্ষে। যতদিন মেসি মাঠে থাকবে, ততদিন অন্য কারোর নাম এই পুরস্কারের জন্য মাথায় আসবে না।’‌

বিশ্বকাপ জয়ী কোচ স্কালোনি নিজে এখনও জানেন না, তিনি আদৌ আর আর্জেন্টিনার চিফ কোচের পদে থাকবেন কিনা। ডিসেম্বরে তাঁর সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার। বর্তমানে স্কালোনি জাতীয় দল নিয়ে অনুশীলন চালাচ্ছেন এজেইজাতে বলিভিয়া, বুকিনা ফাসো ও বেনিন ম্যাচের জন্য। বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ৩০ সেপ্টেম্বর মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে। ৩ অক্টোবর ও ৬ অক্টোবর বুকিনা ফাসো ও বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা বুয়েনস এয়ার্সের ঐতিহ্যশালী স্টেডিয়ামে।

তার ফাঁকেই স্কালোনি জানিয়েছেন, ‘‌ এখনও কিছু ঠিক করিনি। চিরকাল জাতীয় দলের কোচ কেউ থাকে না। আমারও তেমন কোনও ভাবনা নেই। তবে আর্জেন্টিনার কোচের ভূমিকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এব্যাপারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়ার সঙ্গে কথা বলতে হবে। বেশ কিছু শর্ত নিয়ে কথা বলা জরুরি। যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে।’‌ স্কালোনিকে আর্জেন্টিনার চিফ কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশবাসীর বড় একটা অংশ। এমনকি মেসির পর যাঁর হাতে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড উঠবে সেই ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও চান স্কালোনি থাকুন কোচের পদে।

দেশের জার্সিতে বেনিন ম্যাচটা মেসির বিদায়ী ম্যাচ হলে আশ্চর্যের কিছু নেই। তবে একটা জোর জল্পনা রয়েছে কলকাতায় যুবভারতীর জন্য একটা বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের। সেটা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রক ও বেসরকারি এক ক্রীড়াসংগঠকের মিলিত উদ্যোগে হতে পারে। আগামি বছরের কোনও একটা সময়। এর আগে যেভাবে বায়ার্ন মিউনিখ দলকে কলকাতায় এনে মোহনবাগানের সঙ্গে খেলিয়ে জার্মানির কিংবদন্তী গোলকিপার বিশ্বকাপার অলিভার কানের বিদায়ী ম্যাচ করেছিলেন সংগঠকরা, তেমন কিছু মেসির ক্ষেত্রে ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর আগে ২০১১তে কলকাতায় যুবভারতীতে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন মেসি আর্জেন্টিনা দলের হয়ে। সেই স্মৃতি ছিল মধুর। কিন্তু ২০২৫য়ের ডিসেম্বরে মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা যথেষ্ট লজ্জার কারণ হয়েছিল। সেই স্মৃতি মেসি ভক্তদের মন থেকে মুছে ফেলতে, তাঁকে একবার কলকাতায় এনে খেলানোর চেষ্টা ক্রীড়াসংগঠকরা যে করতে চাইবেন, এমন একটা আভাস মিলেছে, নানা মহল থেকে। এখন দেখার সেটা সফল হয় কিনা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...