মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইএফএ শিল্ডের গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব এফসির কাছে হারের পর ইস্টবেঙ্গল সদস্য-সমর্থকদের মনে একটা উদ্বেগ দেখা দিয়ে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু ইসটবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস অন্য ধাঁচে গড়া। তিনি হারাটা মানতে পারেন না। বলা ভাল হারকে ঘৃণা করেন। তার প্রতিফলন দেখা গেছে সেমিফাইনালে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচে। কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নর্থ ইস্টকে ৭-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, গত মরশুমে আইএসএল জেতার আগে পর্যন্ত কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগানকেই ফেবারিট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ছবিটা বদলে যায়, লাল হলুদ ব্রিগেড আইএসএল জেতার পর থেকে। চলতি মরশুমের শুরুতে ডুরান্ড কাপের গ্রুপ লিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মোহনবাগান জেতার পর সবুজ মেরুন সমর্থকের মনে যতই উচ্ছাস দেখা দিক না কেন, লাল হলুদ কোচ হাবাস কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না। বরং তিনি পাল্টা আঘাত হানার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন ভেতর ভেতর। সেই মোক্ষম আঘাত হাবাস হানেন ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে। ৫ বা তার বেশি গোল সেদিন হয়ে গেলেও কিছু বলার থাকত না।
আবার বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলের সামনে সবুজ মেরুন ব্রিগেড শিল্ড ফাইনালে। বলাই বাহুল্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গত মরশুমে আইএসএলে সাফল্য পাওয়ার আগে পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা একটা চাপ নিয়ে ডার্বি দেখতে যেতেন। কিন্তু চলতি মরশুমে তাঁরা যে শুধু অনেক বেশি খোলামেলা মেজাজ নিয়ে ডার্বিতে মাঠে ভিড় জমাচ্ছেন তাই নয়, একটা রণংদেহী মেজাজ তাঁদের চেহারায় ধরা পড়ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল আর পিছিয়ে থেকে নয়, এগিয়ে থেকে ডার্বি খেলতে নামছে। শেষপর্যন্ত ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন।
আর সেটা এসেছে কোচ হাবাস ও তাঁর ফুটবলারদের জন্য। শিল্ডের গ্রুপ লিগের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে তার চেনা ছন্দে দেখা না গেলেও সেমিফাইনালে তাদের চোখধাঁধানো পারফরমেন্স ও ৭ গোল বুঝিয়ে দিয়েছে ফাইনালে মোহনবাগানের মতো হেভিওয়েট দলের মোকাবিলায় তারা তৈরি। এটাই লাল হলুদ সমর্থকদের মনে বিশ্বাস জোগাচ্ছে, ডুরান্ড কাপের পর শিল্ডও ঘরে আসবে। কোচ হাবাস অবশ্য মোহনবাগানের শিল্ডের আগের ম্যাচগুলোর ভিত্তিতে কোনরকম আলগা মনোভাব নিতে নারাজ।
সদস্য-সমর্থকরা যাই ভাবুন, প্রতিপক্ষ মোহনবাগানকে হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। বরং ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তাঁর গলায় শ্রদ্ধার সুর। বলেন, ‘ ডার্বি সবসময় অন্য ধরনের ম্যাচ। এর গুরুত্ব অন্য ম্যাচের থেকে আলাদা। শিল্ড ফাইনালের জন্য তৈরি হলেও আমাদের কিছু সমস্যা আছে। জাতীয় দলে থাকা ফুটবলাররা সবেমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে লাল হলুদ শিবিরে যোগ দিয়েছে। ওরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ঠিক কোন জায়গায় আছে, সেটা দেখতে হবে। ওদের মাথায় এখনও পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ম্যাচ ঘুরছে। এখনও ঠিক করিনি, ওদের ডার্বিতে শুরু থেকে খেলাব কিনা। বিদেশি ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও একই ভাবনা। ওরাও দলে নতুন। অনেকের সঙ্গে বোঝাপড়া মসৃণভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই ডার্বির প্রথম একাদশ বাছাই করব সবদিক বিবেচনা করে।’
মোহনবাগানের গোলের নীচে বিশাল কাইথ। টাইব্রেকার স্পেশালিস্ট বললেও ভুল হবে না। তাই ম্যাচে টাইব্রেকারে গেলে মোহনবাগান বাড়তি সুবিধা পাবে কিনা, এই প্রশ্নে হাবাসের উত্তর, ‘ টাইব্রেকারে গেলে কী হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। বরং নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচটা জেতার লক্ষ্য থাকবে।’
ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রেখে খেলার দর্শনে বিশ্বাসী। তাঁর রক্ষণ সংগঠন এতটাই জমাট থাকে, যা প্রতিপক্ষের ভাঙা মুশকিল থাকে। তবে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের স্তম্ভ জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলা আনোয়ার কতটা দু’দিনের মধ্যে ক্লান্তি কাটিয়ে সেরা দিতে পারবেন শিল্ডের ডার্বি ফাইনালে, তার ওপর ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে। শিল্ড ফাইনালের পরই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচ রয়েছে। তাই শিল্ড জিতে আত্মবিশ্বাস অটুট রাখতে চান হাবাস।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
