Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকসের পা থেকে তাঁর ও দলের দ্বিতীয় গোল হতেই গ্যালারিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। তাঁকে সামলাতে সামলাতে চোখ মুছছিলেন আরও এক সমর্থক। টেলিভিশনের লাইভ ক্যামেরা তখন ঘুরে গিয়েছে তাঁদের দিকেই। উত্তেজনা আর আবেগের মিশেলে তখন রীতিমতো কাঁপছে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি। শেষটাও লেখা থাকল লাল-হলুদের নামেই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলের হয়ে ২-০ করলেন দিয়ামান্তাকস। মোহনবাগান এক গোল শোধ করল ঠিকই কিন্তু জয় এল না। ২-১ গোলে জিতে, ডার্বি জয়ের সব পেয়েছির অনুভূতির দেশে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। ২০২৩-এ ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডের ডার্বিই শেষবার জিতেছিল এই যুবভারতীতে। অনেক চোখের জল, হতাশা কাটিয়ে আলো জ্বলল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে, যেন হাজার ওয়াটের স্টেডিয়ামের আলোকে ছাঁপিয়ে গেল সেই জোনাকিরা।

গত মরসুমে একটা কম ডার্বি পেয়েছিল কলকাতা। ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচ বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সে জন্য কিনা জানা নেই তবে এবারের কলকাতা ডার্বি ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গেই ছিল, ম্যাচ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই। তাই হয়তো অনেকদিন পর এভাবে ভরে উঠল যুবভারতীর গ্যালারি। অনেকদিন পর দেখা গেল শহরের সব রাস্তা গিয়ে মিশেছে যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে। দুই দলের সমর্থকদের সমানে সমানে স্লোগানে রবিবারের শহর যে ফুটবলময় হয়ে উঠেছিল ম্যাচ শুরুর বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে অপেক্ষা ছিল শেষ বাঁশির। যেখানে কেউ হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলেন, কেউ চোখের জলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা নিয়ে। মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে গেল মোহনবাগান গ্যালারি। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির অদৃশ্য আলিঙ্গনে ডুব দিলেন ফুটবলাররা।

ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ চলে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু তা থেকে গোল আসেনি বরং ১৭ মিনিটেই বড় ধাক্কা খেল দল। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন হামিদ আহদাদ। তবে তাঁর জায়গায় নেমে নিজের নামের পাশে জোড়া গোল লিখে নিলেন দিয়ামান্তাকস। শাপে বড় হল ইস্টবেঙ্গলের। ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি দিয়ামান্তাকস। বিপিনকে লক্ষ্য করে মাপা বল পাঠিয়েছিলেন সল ক্রেসপো। বক্সের মধ্যে তাঁকে ফাউল করে বসেন আশিস রাই। শুরুতেই পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিলেন দিমি। মোহনবাগানের দিমি, দিমিত্রিয়স পেত্রাতস অবশ্য নামলেন দ্বিতীয়ার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই এক সঙ্গে তিনটি করে পরিবর্তন করে খেলাটা বদলে দিলেন। ডার্বির আসল রূপ দেখা গেল দ্বিতীয়ার্ধেই।

প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই শেষ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথমার্ধের খেলা যতটা অফকালার ছিল, দ্বিতীয়ার্ধ ততটাই কালারফুল। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। তার মধ্যেই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোল করে ২-০ করে দিয়েছিলেন দিয়ামান্তাকস। এডমুন্ড, মহেশ, মিগুয়েল হয়ে বক্সের মধ্যে পাওয়া বল গোলে রাখতে ভুল করেননি দিয়ামান্তাকস। হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন তিনি, শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত গোল মিস না করলে। ৫২ মিনিটে ০-২ গোলে ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় খেলায় ফিরতে একটা বড় ঝাঁপ দিল মোহনবাগান। কিছুটা দেরি হয়ে গেল ঠিকই কিন্তু ৬৮ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর কর্নার থেকে অনিরুদ্ধ থাপার গোলে ব্যবধান কমাতেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল মোহনবাগান। তবে দলের বেশ কিছু ফাঁকফোকর এদিন বড় হয়ে দেখা দিল, যা পিছিয়ে থাকাকে জয়ের রূপ দিতে ব্যর্থ।

এর মধ্যেই মনে রাখতে হবে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের কৃতিত্ব। প্রায় তিনটি অসাধারণ গোলের বল বাঁচালেন। ৫৮ মিনিটে থাপার নিশ্চিত গোলমুখি শট গোললাইন থেকে কেভিন বাঁচিয়ে না দিলে আগেই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। তার মধ্যেই অল্পের জন্য গোল মিস করলেন আপুইয়া। একইভাবে বাইরে পাঠালেন সাহালও। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিলেন আনোয়ার আলি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত কেভিল সিবলের। মাঝমাঠ সামলালেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। এদিনের ডার্বির যোগ্য দল হিসেবেই জিতল ইস্টবেঙ্গল। যেখানে অনেকটাই অফ কালার থাকল মোহনবাগানের মাঝমাঠ, রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগও।

ডুরান্ড সেমিফাইনালে আর এক কলকাতার দল ডায়মন্ড হারবারের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুরকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ডায়মন্ড হারবার। কলকাতার ফুটবলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই দল। আর ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে দিল ইস্টবেঙ্গলও। ৫৮,৬৭৬ হাজারের গ্যালারিকে যদি ৫০-৫০ ভাগ করি তাহলে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার সমর্থকের মুখে হাসি ফুটল এদিন।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, লালচুংনুঙ্গা, কেভিন সিবলে, আনোয়ার আ‌লি, মহম্মদ রাকিপ, বিপিন সিং (ডেভিড), মিগুয়েল ফেরেইরা, এডমুন্ড লালরিনডিকা (পিভি বিষ্ণু), সল ক্রেসপো, নাওরেম মহেশ সিং (সৌভিক চক্রবর্তী), হামিদ আহদাদ (দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকস)

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, অ্যালবার্তো রডরিগেজ মার্টিন, টম আলড্রেড (দিমিত্রিয়স পেত্রাতস), অভিষেক সিং, আশিস রাই (সুহেল ভাট), লিস্টন কোলাসো, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা (দীপেন্দু বিশ্বাস), সাহাল আব্দুল সামাদ (দীপক টাংরি), পাসাং দর্জি (জেসন কামিন্স), জেমি ম্যাকলারেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *