Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ

অলস্পোর্ট ডেস্ক: শুক্রবার থেকে ভুবনেশ্বরে শুরু হতে চলা হিরো ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ২০২৩-এ সে রকম দল একটিই, লেবানন। যারা ভারতের চেয়ে মাত্র দু’ধাপ ওপরে। বাকিরা সবাই ভারতের চেয়ে পিছিয়ে। এই টুর্নামেন্টের পরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতকে খেলতে হবে তাদের পিছনে থাকা দেশগুলির বিরুদ্ধে। সেখানেও শুধু লেবানন তাদের চেয়ে ওপরে থাকা দল। তাই দুই টুর্নামেন্টেই ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দী লেবানন, যারা এশিয়ান কাপেও অংশ নেবে।

প্রথম প্রতিপক্ষকে কম গুরুত্ব নয়

আগামী ১৫ জুন লেবাননের মুখোমুখি হবে ভারত। তার আগে শুক্রবার মঙ্গোলিয়া ও সোমবার ভানুয়াতুর বিরুদ্ধে ম্যাচকে অনেকটা লেবাননের প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবেই দেখতে পারেন সুনীল ছেত্রীরা। শুক্রবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ মঙ্গোলিয়াকে অবশ্য কোনও মতেই হালকা ভাবে নিতে চান না কোচ ইগর স্টিমাচ।

তিনি টুর্নামেন্টের প্রথম প্রতিপক্ষকে নিয়ে বলেন, “মঙ্গোলিয়া বেশ শক্তিশালী ও সঙ্ঘবদ্ধ দল। ওরা আগ্রাসী ফুটবল খেলে। ম্যাচের প্রথম ২৫-৩০ মিনিট ওরা মাঝমাঠ সঙ্ঘবদ্ধ রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। বল পায়ে রাখার চেষ্টা করে। আমাদের এই সময়ে শারীরিক ভাবে সঠিক জায়গায় থাকতে হবে এবং ভার্টিকাল ফুটবল খেলতে হবে। ভালো মুভ করতে হবে”। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ইউটিউব চ্যানেলে কথাগুলি বলেন তিনি।

এর আগে কখনও মঙ্গোলিয়ার মুখোমুখি হয়নি ভারত। অজানা হলেও নতুন প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যে যথেষ্ট তথ্য ও খবর কোচের কাছে রয়েছে, তা তাঁর কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে। আধুনিক ফুটবল যে অনেকটাই তথ্যনির্ভর, তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তথ্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্যই আমাদের দলে একজন অ্যানালিস্ট আছেন, যিনি প্রতিপক্ষের যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং তাদের সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। মাঠে কতটা সক্ষম তারা, ওরা কী ভাবে আক্রমণে ওঠে, সেটপিসে কেমন, সব কিছুই আমরা জানি। এগুলো বিশেষজ্ঞদেরই কাজ। আমাকে তো দলের ছেলেদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকতে হয় মাঠে। ওদের যাবতীয় উন্নতি-অবনতি লক্ষ্য রাখতে হয়। প্রতিপক্ষের তথ্য কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি সারতে হয়”।

মঙ্গোলিয়ার উত্থান

জাপানি কোচ ইচিরো ওতসুকার তত্ত্বাবধানে থাকা মঙ্গোলিয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্ব ক্রমতালিকায় সবচেয়ে নীচে থাকা দল। ১৮৩ নম্বর দলটি সম্প্রতি বিশ্বের ৭৭ নম্বর জর্জিয়ার সঙ্গে একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে এবং তার বিরতি পর্যন্ত ফল ছিল ১-১। ৪৫ মিনিট জর্জিয়াকে আটকে রাখার পর শেষে ১-৬-এ হারে তারা।

ক্রমশ উন্নতি করছে তাদের ফুটবল দল। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তারা ব্রুনেই দারুসালামকে ৩-২-এ হারিয়ে প্রথমবারের জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। মায়ানমার ও কিরগিজস্তানকেও এক গোলের ব্যবধানে হারায় তারা। এ বছরের শুরুতে এই দুই দেশকে ভারতও হারিয়েছিল ত্রিদেশীয় সিরিজে। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে মঙ্গোলিয়া ২-০-য় হারায় ইয়েমেনকে।তবে ফিলিপিন্স ও প্যালেস্টাইনের কাছে অল্পের জন্য হেরে যায়। তাই এই দলকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত হবে না ভারতের।    

দেশটার রাজধানী উলানবাটার বিশ্বের শীতলতম রাজধানী। তাই নিজেদের দেশে বেশি ম্যাচ খেলতে পারে না পূর্ব এশিয়ার এই জাতীয় দলের ফুটবলাররা। ফিফা বিশ্বকাপ, এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব ছাড়া শুধু পূর্ব এশীয় ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় তারা। ভারত সফরে তাই তারা কিছুটা হলেও অজানা শত্রু। যদিও ভারতীয় শিবির দাবি করছে, তাদের কাছে সব রকম তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।

ম্যাচ: ভারত বনাম মঙ্গোলিয়া
টুর্নামেন্ট: হিরো ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ
ভেনু: কলিঙ্গ স্টেডিয়াম, ভুবনেশ্বর
কিক অফ: সন্ধ্যা ৭.৩০
সম্প্রচার: স্টার স্পোর্টস ২ ও স্টার স্পোর্টস ২ এইচডি
অনলাইন স্ট্রিমিং: ডিজনি + হটস্টার এবং জিও টিভি

প্রথম এগারো নিয়ে জল্পনা

স্টিমাচের যুক্তি, “আমাদের দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ই প্রথম এগারোয় খেলার ক্ষমতা রাখে। যারা মাঠে খেলে, যারা বেঞ্চে থাকে প্রত্যেকেই সেরা এগারোর খেলোয়াড়। আধুনিক ফুটবলে আর সেরা এগারোর তত্ত্ব চলে না। এখন প্রতি ম্যাচে একই একাদশ নামানো সম্ভব হয় না। তিন-চার মাস অন্তর আমরা দু-তিনটে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই। তিন-চার মাস অন্তর একই দল খেলানো কঠিন। সবার ফিটনেস, চোট-আঘাতের অবস্থা একই জায়গায় থাকে না। তাই একই প্রথম একাদশ ধরে রাখা কঠিন হয়”।

তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে যাঁরা ভালো খেলেছিলেন, তাঁরা যে এই টুর্নামেন্টেও প্রাধান্য পাবেন, এমনটাই ধরে নেওয়া যায়। গোলে গুরপ্রীত সিং সান্ধু, রক্ষণে আকাশ মিশ্র, মেহতাব সিং, সন্দেশ ঝিঙ্গন, প্রীতম কোটাল, মাঝমাঠে আশিক কুরুনিয়ান, নাওরেম মহেশ সিং, জিকসন সিং, রোহিত কুমার, সুরেশ ওয়াংজাম এবং আক্রমণে সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে রহিম আলি, ইশান পন্ডিতাদের খেলতে দেখা যেতেই পারে। 

আগামী ২৫ দিনে ন’টি ম্যাচ খেলতে হবে ভারতকে। যা নিয়ে দেশের ফুটবল মহল চিন্তিত থাকলেও কোচ স্টিমাচ তেমন চিন্তায় নেই। বলে দেন, “২৫ দিনে ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে ঠিকই। এই সময়ে দলের ছেলেদের একই রকম শক্তি বজায় রাখতে তাদের ভালো রকম স্ট্রেংথ কন্ডিশনিং করা হয়েছে। আমার আশা, ছেলেরা নিজেদের সেরা ফর্মে থাকবে। আগেও বলেছি, শুরুতেই না হলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয় গেমে ওদের সেরা খেলাটা দেখাতেই হবে। সে ভাবেই তৈরি করা হয়েছে ওদের। আশা করি, এটা কোনও সমস্যা হবে না”।

গোল-গুরপ্রীত সিং সান্ধু, অমরিন্দর সিং, গুরমিত সিং,
রক্ষণ-শুভাশিস বোস, প্রীতম কোটাল, সন্দেশ ঝিঙ্গন, আনোয়ার আলি, আকাশ মিশ্র, মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে;
মাঝমাঠ- লিস্টন কোলাসো, আশিক কুরুনিয়ান, রোহিত কুমার, উদান্ত সিং, অনিরুদ্ধ থাপা, নাওরেম মহেশ সিং, নিখিল পূজারী, জিকসন সিং, সাহাল আব্দুল সামাদ, লালেঙমাউইয়া রালতে, লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে, রাওলিন বোর্জেস, নন্দকুমার শেখর;
আক্রমণ- সুনীল ছেত্রী, রহিম আলি ও ইশান পন্ডিতা।

(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...