সুচরিতা সেন চৌধুরী: গত বছর পর্যন্তও দুই বন্ধুকে মাঠ ছাড়তে দেখা যেত গলা জড়িয়ে। গত বছর পর্যন্ত এক সঙ্গেই দলের রক্ষণ সামলাতেন দু’জনে। গত বছর পর্যন্ত দলের জয়ে এক সঙ্গে সেলিব্রেট আর হারে দুঃখ পেতেন ওরা। মরসুম ঘুরতেই ছবিটা পুরো ১৮০ ডিগ্রি বদলে গেল। দুই বন্ধু এখন দুই দলের রক্ষণের মূল স্তম্ভ। দুই বন্ধু বুধবার নামলেন একে অপরের বিরুদ্ধে। একজন হারলেন, একজন জিতলেন। মাঠ ছাড়ার আগে একজনের গলায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি আর অন্য জনের গলায় টেবল টপ করার আনন্দ। প্রীতম-শুভাশিস যেন উদাহরণ হয়ে থাকল বাংলার ফুটবলের।
এদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইপিএল-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান ও কেরালা ব্লাস্টার্স। এই ম্যাচ শেষ হল ১-০ গোলে। অ্যাওয়ে ম্যাচে শেষ হাসি হাসল কেরালা। মোহনবাগানের খাতায় লেখা হল হারের হ্যাটট্রিক। তবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বসু। তিনি বলেন, “আমাদের কঠিন সময় যাচ্ছে। দলকে মোটিভেট করার চেষ্টা করি সবসময়। খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কার্ড, চোটের সমস্যা রয়েছে। পুরো দল বদলাতে হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে আমরা আবার পুরনো ফর্মে ফিরে আসব।”
তিনি বলছেন, “আমাদের যে সেট টিম ছিল সেটা বিভিন্ন কারণে ভেঙে গিয়েছে। বার বার বদলাতে হয়েছে। তবে আমাার দলের উপর বিশ্বাস আছে, সবাই ঘুরে দাঁড়াবে।” সুপার কাপে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া প্লেয়াররা ছাড়া সকলেই থাকবে বলে মনে করছেন তিনি। যাঁদের চোট-আঘাত রয়েছে তাঁরাও দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে বলেই আশা করছেন শুভাশিস।
শুভাশিস স্টেডিয়াম ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই মাঠ ছাড়লেন কেরালা ব্লাস্টার্সের অন্যতম ডিফেন্ডার প্রীতম কোটাল। গত মরসুম পর্যন্ত যাঁর হাতে ছিল অধিনায়কত্বের ব্যান্ড। বাংলার সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে, জোড় গলায় তিনি দাবি করলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে গোল নষ্ট না করলে আমরা ৩-০ গোলে জিততে পারতাম। তবে এখান থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরছি এটাই বড় বিষয়। আমার দল জিতেছে, দলকে জেতানোর দায়িত্ব ছিল, সেটা করতে পেরেছি।”
অনেকদিন পর আবার সেই চেনা মাঠ, চেনা সমর্থকদের সামনে খেলার কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগান্বিত শোনাল প্রীতমের গলা। বলছিলেন, “মোহনবাগান সমর্থকরা আমাকে মনে রেখেছে দেখে ভাল লাগছে। আজকে গ্যালারি থেকেও ওরা চিয়ার করছিল, সবাই শুনেছে। এখানে খেলতে আসার আগেও অনেকে টেক্সট করে বলেছে, ‘তুমি ভাল খেল কিন্তু যাতে মোহনবাগান জেতে’। এটাই অনেক বড় পাওনা।”
তবে তিনি চলে যাওয়ায় মোহনবাগান রক্ষণের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। বরং তিনি বলছেন, “কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না। ওদের নিয়ে কিছু বলাটা আমার উচিত নয়। তবে এইটুকু বলতে পারি, ‘‘সবে প্রথম লেগ শেষ হয়েছে আরও অনেক খেলা বাকি রয়েছে ওরা ঘুরে দাঁড়াবে। ওদের দলে শুভাশিস, লিস্টন, সহাল, মনবীর, কিয়ান রয়েছে, আনোয়াররা ফিট হয়ে ফিরবে। মোহনবাগান ঘুরে দাঁড়াবে।”
মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস কথা দিয়ে গেলেন ঘুরে দাঁড়াবেই দল। তিনি বলছিলেন, ”মূল দলের সাত-আটজন প্লেয়ার নেই। যাঁরা এখন খেলছে তাঁদের দলের সঙ্গে সেট হতেও সময় লাগবে। টিম ভাল খেলছে। তবে আজকে ভাগ্য খারাপ, গোল খেয়ে গেলাম প্রথমে তার পর সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারলাম না। চেষ্টা করেছি গোল করার কিন্তু হয়নি। দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গোল না খেয়ে গোলের মুখ খুলতে হবে। আমার বিশ্বাস সবাই ফিট হয়ে ফিরবে।”
এদিন শুভাশিস দলের মধ্যের দুই বিদেশি প্লেয়ার সাদিকু, কামিন্সের ওয়ার্ম আপের সময়ের ঝামেলার কথা মেনে নিলেন ঠিকই, পাশাপাশি বলে গেলেন বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “৫০-৫০ বলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যেমন হয় তেমনই নিজেদের মধ্যেও উত্তেজনা থাকে। ওটা কোনও বড় বিষয় নয়। ড্রেসিংরুম খুব ভাল অবস্থাতেই রয়েছে।”
কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে শুভাশিসরা যোগ দেবেন জাতীয় দলের শিবিরে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন প্রীতম কোটাল। গত কয়েকবার ডাক পাননি। শুভাশিস এখনও নিয়মিত। এখানেও যেন বিচ্ছেদের সুরই বাজছে দুই বাঙালি ফুটবলারের মধ্যে। তবে এই নিয়ে দুঃখ নেই প্রীতমের। বলছিলেন, “যদি ডাক পাই ভাল লাগবে না ডাক পেলেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই, কারণ এখনও অনেক খেলা বাকি আছে।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
