ছবি— ফিফা
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কি আদৌ ভারতে বসে দেখা যাবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। কারণ বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব এখনও অবিক্রীত রয়েছে, আর তাতেই তৈরি হয়েছে সংশয়। আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ, অর্থাৎ হাতে আছে মাত্র দুই মাস অথচ সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো এখনও স্বত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ভারতে বিশ্বকাপের সরাসরি সম্প্রচার পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়াটি ২০২৫ সালের জুন মাসে শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও ক্রেতার দেখা মেলেনি। ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা প্রাথমিকভাবে ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সম্মিলিত মিডিয়া স্বত্বের মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছিল। ক্রেতাদের আগ্রহের অভাব দেখে পরবর্তীতে এই নির্ধারিত মূল্য কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়। দাম এতটা কমানো সত্ত্বেও, সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো এই স্বত্ব কেনার ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহ দেখায়নি।
তুলনামূলকভাবে, ভায়াকম১৮ ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৬২ মিলিয়ন ডলারে (৪৫০ কোটি টাকা) কিনে নিয়েছিল। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, আবারও এমন কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে।
আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্টার ইন্ডিয়া’ এবং ‘ভায়াকম১৮’-এর এক হয়ে ‘জিওস্টার’ গঠনের ফলে সম্প্রচার খাতে প্রতিযোগিতার তীব্রতা হ্রাস পাওয়া। এই একত্রীকরণের ফলে ক্রীড়া সম্প্রচার জগতে বড় মাপের প্রতিযোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর তথ্যমতে, ‘সনি স্পোর্টস’, ‘ইউরোস্পোর্ট’ এবং ‘ফ্যানকোড’-এর মতো সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে বড় অঙ্কের কোনও চুক্তিতে যেতে রাজি নয়।
আগ্রহ কমে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হল, ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার খাতের বাজেটে ক্রিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য। সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল’ এবং ‘ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড’-এর কাছ থেকে ক্রিকেটের মিডিয়া স্বত্ব কেনার পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলেছে। এই বিশাল আর্থিক বিনিয়োগের ফলে ফিফা বিশ্বকাপের মতো ব্যয়বহুল ও ক্রিকেট-বহির্ভূত কোনও ক্রীড়া ইভেন্টের স্বত্ব কেনার সক্ষমতা তাদের অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
বাণিজ্যিক দিকগুলোও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলে বিজ্ঞাপনের বিরতি বা ‘অ্যাড-ব্রেক’-এর সুযোগ অনেক কম থাকে, যার ফলে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আয়ের সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়ে। তাছাড়া, এবারের বিশ্বকাপটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিনটি দেশে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে; যার অর্থ হল, ভারতীয় দর্শকদের জন্য ম্যাচগুলো হয় গভীর রাতে, নতুবা খুব ভোরে সম্প্রচারিত হবে। ম্যাচের এই সময়সূচিগত চ্যালেঞ্জের কারণে সরাসরি দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপরোক্ত সবকটি কারণ সম্মিলিতভাবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর মনে দ্বিধা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব কেনার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে তুলেছে। ফলে, ভারতীয় দর্শকদের পক্ষে এই টুর্নামেন্টের সরাসরি সম্প্রচার দেখার সুযোগ পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, অবিক্রীত মিডিয়া স্বত্বগুলো ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচার খাতের ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন যা মূলত বাজারের একত্রীকরণ, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক আধিপত্য এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল ইভেন্টগুলোর সময়সূচি সংক্রান্ত জটিলতার উপর নির্ভরশীল। টুর্নামেন্টটি যতই ঘনিয়ে আসছে, পরিস্থিতি ততই জটিল হচ্ছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
