অলস্পোর্ট ডেস্ক: শুক্রবার হই হই করে কলকাতায় শুরু হয়ে গিয়েছে চেস ফর ইয়ুথ । সাতটি বয়সভিত্তিক গ্রুপে ভাগ করে সোমবার পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। তবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনই চমক দিলেন নর্থ-ইস্টের একমাত্র আইএম সাহিল দে। টুর্নাামেন্টের অন্যতম দুই ফেভারিট ও বাংলার দুই ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার আরণ্যক ঘোষ ও নীলাশ সাহাকে দুই রাউন্ডে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেলেন। রবিবার ষষ্ঠ রাউন্ডে সাহিলকে খেলতে হবে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া একমাত্র গ্র্যান্ডমাস্টার মিত্রাভ গুহর সঙ্গে। আর সেই ম্যাচ যে যথেষ্ট হাড্ডাহাড্ডি হবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
সাহিল অসমের বাসিন্দা হলেও আপাতত থাকেন কলকাতাতেই। সাহিল এদিন চতুর্থ রাউন্ডে হারান আরণ্যককে এবং পঞ্চম রাউন্ডে নীলাশকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে মিত্রাভ সব রাউন্ড জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষায়। বাংলার এই গ্র্যান্ডমাস্টার আগেই জানিয়েছিলেন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হলেও কখনও প্রিমিয়ারে হননি এবার তাঁর সেটাই লক্ষ্য। তাই সহিলের জন্য সহজ হবে না ফাইনালের লড়াই। অন্যদিকে, মিত্রাভর জন্যও যে সাহিল এক ইঞ্চি জমি ছাড়বেন না তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।
২০০৭-এ জন্ম সাহিলের বর্তমান এলো রেটিং ২৩৬১। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে তিনিই প্রথম ও এখনও পর্যন্ত একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার। সাহিলের লক্ষ্য ২০২৩-এর মধ্যে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া। ২০২২-এ তিনি তাঁর প্রথম জিএম নর্ম পান। কোনও স্পনসর ছাড়াই লড়াই করে এতদূর পৌঁছনো সাহিল এগিয়ে চলেছেন স্বপ্নের উপর ভর করে। তবে তিনি প্রাইভেট কোচ হিসেব পেয়েছেন আলেকজান্ডার গ্রিসচুককে। যা তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করেছে।
২০২২-এ ক্যাটোলিকা ওপেনে প্রথম জিএম নর্ম পান তিনি। তার পরই তাঁর পাশে দাঁড়ান জালান ইন্ডাস্ট্রিজের মৃত্যুঞ্জয় জালান তাঁর হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন। তবে তিনি সাহিলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাহিল। চেসের পাশাপাশি মমন দিতে চান পড়াশোনাতেও। পাঁচ বছর বয়স থেকে দাবা খেলছেন সাহিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তাঁর বাবা-মা ফ্রি সময়ে দাবা খেলেন। সেই থেকেই তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। তখনই তিনি বাবা-মা-কে জানান, তিনি দাবা খেলা শিখতে চান। তবে তার মা মিঠু দে সেটা হালকাভাবেই নিয়েছিলেন।
খুব দুরন্ত সাহিল শেষ পর্যন্ত বাবা-মাকে রাজি করিয়েই নেন দাবা স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য। সেই সময় সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপনে চোখ যায় তাঁদের। সেই বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে ভর্তি করে দেওয়া হয় সাহিলকে। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই দাবা স্কুল দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সাহিল ট্রেনিং নেন নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলের দাবা অ্যাকাডেমিতে। সেখান থেকেই মাত্র ১৪ বছর বয়েছে ২০২১-এ আন্তর্জাতিক মাস্টার হন তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
