ছবি: ইমামি ইস্টবেঙ্গল
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: এডমুন্ডের গোলের পর নিজের বাড়তি উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। লাল হলুদ গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে দু’হাত তুলে উল্লাসে ফেটে পড়েন। আসলে অস্কার তখন ধরেই নিয়েছিলেন, ৮৪ মিনিটে করা ওই গোলেই ডার্বি জিতে রবিবারই আইএসএল খেতাব জয়টা নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু খেলার অন্তিম লগ্নে ৮৯ মিনিটে করা কামিংসের গোলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ম্যাচে সমতা ফেরাতে অস্কারের সেই লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায়, ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে কিছুটা হতাশই লেগেছে। যদিও লিগ টেবিলের যা পরিস্থিতি তাতে শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে হারালে ইস্টবেঙ্গল প্রথমবার আইএসএল জিতবে। কারণ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে তাদের শেষ ম্যাচে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে শুধু হারালেই হবে না, অনেক বড় ব্যবধানে জিততে হবে চ্যাম্পিয়ন হতে। গোল পার্থক্যে এই মুহূর্তে ৫ গোলে এগিয়ে আছে ইস্টবেঙ্গল। একমাত্র ইস্টবেঙ্গল শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করলে, মোহনবাগান ও অন্য চার দলের খেতাব জয়ের সুযোগ থাকবে।
তবে তেমন কোনও অঘটন ঘটবে বলে মনে করেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার। তাঁর সাফ কথা, ‘ আমার কোচিং জীবনের সেরা ডার্বি বললে অত্যুক্তি করা হবে না। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এটা তাঁদের জেতা ম্যাচ ছিল। শুরুতে মোহনবাগান প্রেসিং ফুটবলের জোর দিয়েছিল। ফুটবলারদের জন্য আমার নির্দেশ ছিল, ওই সময় চাপটা সামলানোর। তারপর ধীরে ধীরে আক্রমণ বাড়ানো। সেটাই করেছিল আমার ফুটবলাররা। ম্যাচের দখল নিয়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে মোহনবাগান রক্ষণ দিশেহারা হয়ে পড়ে। সহজ গোলের সুযোগুলো নষ্ট না করলে, প্রথমার্ধেই ম্যাচ পকেটে এসে যেত। এজেজারি ও এডমুন্ডকে পরে নামানোটা পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। তার ফলও মিলেছে। শেষমুহূর্তে গোল হজম না করলে খেতাব জয়টা কার্যত নিশ্চিত হয়ে যেত। তবে এখনও চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের হাতের মধ্যেই রয়েছে। শেষ ম্যাচে জিতলেই সেটা সম্ভব। আমরা নিজেরা পয়েন্ট না খোয়ালে, মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ৭ গোল করতে হবে। এটা করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। আমরা পয়েন্ট খোয়ালে শুধু মোহনবাগান নয়, অন্য ৪ দলের যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।’
কোচ অস্কারের বক্তব্য, ‘ ইস্টবেঙ্গলের জন্য একটা নতুন সাফল্যের অধ্যায় সূচনা হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার কিশোরভারতীতে সেটা রচিত হবে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে। দীর্ঘসময় ধরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ব্যর্থতার গ্লানি সহ্য করেছে গর্বের ইতিহাস ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও। এবার সাফল্যের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, ফুটবলার, কর্তা, ইনভেস্টার, শুভানুধায়ী, সদস্য-সমর্থকদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার কারণে।’
মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরাও মানছেন, রবিবারের ডার্বি এক বিশেষ মাত্রায় পৌঁছেছিল, দু’দলের ফুটবলাররা মাঠে তাঁদের সেরা দেওয়ায়। একইসঙ্গে আক্ষেপ এমন একটা উত্তেজনার ডার্বি না জেতায়, লোবেরা বলেন, ‘ লড়াই হয়েছে সমানে সমানে। গোলের সুযোগ আমরাও পেয়েছিলাম। কাজে লাগালে ফল অন্যরকম হত। শেষদিকে গোল খেয়েও যেভাবে আমার ফুটবলাররা ঘুরে দাঁড়িয়ে গোল শোধ করেছে, তা প্রশংসনীয়। একবারে শেষমিনিটে ম্যাকলারেনের শটটা গোলে চলে গেলে, শেষ হাসিটা আমরাই আসতাম।’
এরপর আর কি চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব? লোবেরার জবাব, ‘ শেষপর্যন্ত হাল ছাড়তে নারাজ। আমরা সমান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। জানি গোল পার্থক্যে এগিয়ে অনেকটাই ইস্টবেঙ্গল। তবে সেটা মাথায় রাখছি না। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শেষ ম্যাচে স্পোর্টিং দিল্লিকে হারানোর। তারপর যে হয়, সেটা দেখা যাবে। এটা ঠিক একটা সময় চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আমাদের হাতে ছিল। সেটা আমরা খুইয়েছি, আগের ম্যাচগুলোতে সেরা দিতে ব্যর্থ হয়ে।’
ম্যাচের শেষদিকে, দুই বিদেশি ডিফেন্ডারকে তুলে নিয়ে দেশি ডিফেন্ডারের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। আক্রমণে বিদেশি স্ট্রাইকার বাড়িয়ে গোল পেতে। তারপরই গোল হজম করে মোহনবাগান। এটা কি বাড়তি ঝুঁকি হয়ে যায়নি? লোবেরার মতে, ‘এই ঝুঁকিটা নিতেই হত। ম্যাচটা আমি জিততে চেয়েছিলাম। তাই শেষদিকে, আক্রমণে বিদেশি বাড়াতে, রক্ষণ ভারতীয় ডিফেন্ডারদের ওপর ভরসা করেছিলাম। এতে গোল যেমন হজম করেছে দল, তেমন গোল করে ম্যাচ জেতার সুযোগও পেয়েছিল। তবে সেটা কাজে লাগাতে পারলে, এনিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠত না।’
আইএসএলের শেষ ম্যাচের আগে মোহনবাগান শিবিরে কোনও চোট চিন্তা নেই, কিন্তু লাল কার্ড দেখায় ইন্টার কাশী ম্যাচে নেই বড় ম্যাচের গোলদাতা এডমুন্ড। শরীরে জলশূণ্যতার কারণে বিপিন ম্যাচের শেষদিকে অসুস্থ বোধ করেন। তাতে অবশ্য বিপিনের শেষ ম্যাচে খেলা সমস্যা হবে বলে মনে করেন না কোচ অস্কার। মনে করেন, ক্লান্তি ও শারীরিক সমস্যা মিটিয়ে ইন্টার কাশী ম্যাচে খেলার মতো ফিট হয়ে যাবেন বিপিন।
