সুচরিতা সেন চৌধুরী: যে ওড়িশাকে তাদের ঘরের মাঠে গিয়ে হারিয়ে দিয়েছিল মোহনবাগান সেই ওড়িশায় যেন বদলার মুডে প্রথম থেকেই। সোমবার মোহনবাগানের ঘরের মাঠে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ওড়িশা এফসি। যেখানে প্রথমার্ধেই চার গোল দেখল গ্যালারিতে থাকা প্রায় হাজার ১৫ সমর্থক। তবে তার মধ্যে তিন গোলই হজম করতে হল মোহনবাগানকে। মাঝে বেশ একটা দীর্ঘ সময় পেয়েছে সব ক্লাব দলই। তার পরও মোহনবাগানের এদিনের ফুটবল ছিল ছন্নছাড়া। প্রথমার্ধে বাগান রক্ষণ রীতিমতো হিমশিম খেলো রয় কৃষ্ণাদের সামলাতে। যার ফলে ১০ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হজম কলকাতার দলের। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই। ঘরের মাঠে ২-৫ গোলে হারতে হল মোহনবাগানকে।
ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিটেই গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন হুগো বুমৌস। তবে বুমৌসের গোলের পিছনে যত না ভূমিকা ছিল তাঁর নিজের তার থেকেও অনেকবেশি ওড়িশা রক্ষণের। একগোলে এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া উচিত ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু হল উল্টো। ওড়িশার আক্রমণের সামনে কখনও কেটে গেলেন গ্লেন তো কখনও শুভাশিস। আর সেই সুযোগ দারুণভাবে নিল ওড়িশা।
১৫ মিনিট পর্যন্ত কিছুটা মোহনবাগানের দখলে থাকলেও তার পর থেকে সেই দখল পুরোপুরি তুলে নিলে ওড়িশা। ২৯ মিনিট থেকে ৪১ মিনিটের মধ্যে ৩-১-এ এগিয়ে গেল অ্যাওয়ে ম্যাচে। ২৯ মিনিটে প্রাক্তন মোহনবাগান স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণা প্রায় শুভাশিস বোসের মুখের সামনে দিয়েই বল গোলে পাঠালেন। হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন মোহনবাগান তথা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার। এর পর যেন রক্ষণ আরও শিথিল হয়ে গেল সবুজ-মেরুনের।
ওড়িশার সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিটই হয়েছিল। তার মধ্যে আবারও গোল। এবার রয় কৃষ্ণার পাস থেকে দিয়েগো মরিসিও। একদম গোল লাইনের সমনে থেকে বাগান জালে বল জড়ালেন। এর পরও প্রথমার্ধে আরও ধাক্কা বাকি ছিল মোহনবাগানের জন্য। ৪১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বক্সের মধ্যেই বল বাড়িয়েছিলেন মরসিও। আর তাতেই কেটে যায় মোহনবাগানের অর্ধেক রক্ষণ। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান ওড়িশার সাকামোতো। তিনি প্রায় গ্লেন মার্টিন্সকে ঘারে নিয়েই এক মোচরে মোহনবাগান গোলে বল রাখলেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই কিছুটা সাবধানী দেখাল ৩-১ গোল এগিয়ে থাকা ওড়িশা এফসিকে। তার মধ্যেই জোড়া পরিবর্তন করলেন মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো। ৫৫ মিনিটে আর্মান্দো সাদিকুর জায়গায় নামলেন কিয়ান নাসিরি ও গ্লেন মার্টিন্সের জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপা। আর তাতেই কাজ হল। বাড়ল খেলার গতি পাশাপাশি গোলমুখে আক্রমণও। ৬২ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে পাওয়া বল ধরে বাঁ দিক থেকে বক্সের মধ্যে মাপা ক্রস রেখেছিলেন হুগো বুমৌস। সুযোগ সন্ধানী কিয়ান ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছেন একদম গোলের সামনে। ওড়িশার জটলার মধ্যে থেকেই মাথার ছোট্ট টোকায় প্রতিপক্ষের জালে নিখুঁত প্লেসিং। ব্যবধান কমলেও তখনও সমতায় ফেরার অপেক্ষা ছিলই।
মোহনবাগানের দুটো পরিবর্তনেই খেলার হাল ফিরল কলকাতার দলের। বেশ কয়েকবার চাপে ফেলল অ্যাওয়ে দলকে। দলকে চাপে পড়তে দেখে ওড়িশা কোচ সার্জিও লোবেরা আবার একসঙ্গে তিন পরিবর্তন করে ফ্রেশ লেগ এনে খেলার গতি ধরতে চাইলেন। গোলের সুযোগ তৈরি হল এবং গোলও হল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আশিস রাইকে তুলে সুহেল ভাটকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করলেন ফেরান্দো। কিন্তু শেষ বেলায় তেমন কাজে লাগল না এই পরিবর্তন। বরং গোল হজম করে বসল মোহনবাগান। অতিরিক্ত সময়ে সেই রয় কৃষ্ণার পাস থেকেই আবার মোহনবাগান জালে বল জড়ালেন অনিকেত যাদব। আর শেষ পেড়েকটি পুঁতে দিলেন ইসাকা রালতে।
এদিকে এদিনই প্রথম ম্যাচে মাজিয়াকে হারিয়ে দেয় বসুন্ধরা কিংস। যার ফলে তারা পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এদিন মোহনবাগান জিতলেও সমসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। কলকাতার দলের হাতে রয়েছে আর একটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ মাজিয়া।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, ব্রেন্ডন হামিল (দীপক টাংরি), হেক্টর ইউয়েস্তে, আশিস রাই (সুহেল ভাট), শুভাশিস বোস, হুগো বুমৌস, সাহাল আব্দুল সামাদ, গ্লেন মার্টিন্স (অনিরুদ্ধ ছাপা), লিস্টন কোলাসো, জেসন কামিংস, আর্মান্দো সাদিকু (কিয়ান নাসিরি)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
