Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মহমেডান ১(‌এডিসন)‌                                 ওড়িশা ১(‌সুহের)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ টানা ৭ ম্যাচ হারে কিছুটা হলেও মুষড়ে পড়েছিল মহমেডান স্পোর্টিং শিবির। অবশেষে শূণ্য পয়েন্টের গেড়ো কাটলো সাদা কালো ব্রিগেডের। তাও আবার অ্যাওয়ে ম্যাচে। ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের মাঠে। ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও পরে খেলায় সমতা ফিরিয়ে ১-‌১ ড্র করে চলতি আইএসএলের ৮ নম্বর ম্যাচে প্রথম পয়েন্ট প্রাপ্তি ঘটল মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর কোচিংয়ে থাকা মহমেডান বাহিনীর।

১ পয়েন্ট নিয়ে মহমেডান এখনও লিগ টেবিলের শেষ স্থানে। ৯ ম্যাচ খেলে ৫ পয়েন্ট পাওয়া কেরালা ব্লাস্টার্স রয়েছে তাদের ঠিক ওপরে। অর্থাৎ মহমেডানকে অবনমন বাঁচাতে হলে, শুধু এই ৪ পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচালেই হবে না, বেশি পয়েন্ট পেতে হবে, একইসঙ্গে কেরলের দলের আর জেতা চলবে না। কিংবদন্তী কোচ পিকে ব্যানার্জি বলতেন,আশায় বাঁচে চাষা। মহমেডানকে এখন সেই আশা নিয়েই খেলতে বাকি সব ম্যাচ অবনমন বাঁচানোর আশায়। অবশ্য ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন যদি মহমান্য শীর্ষ আদালতের অবনমন সম্পর্কিত নির্দেশে শিথিলতা আনতে পারে। এবারের মতো অবনমন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে।

অন্য ম্যাচগুলোর মতোই মহমেডান কোচ মেহরাজ তাঁর চেনা ৪-‌৪-‌২ ছকেই আক্রমণ শানিয়েছিলেন ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে। কিন্তু ৪০ মিনিটে ভিপি সুহেরের গোলের এগিয়ে যায় ওড়িশা। আইজাক বল ধরে মিডফিল্ডার লালরিনফেলাকে দেন। লালরিনফেলার বাড়ানো বল ধরে ভিপি সুহের বক্সে ঢুকে পড়ে বাঁপায়ে জোরালো শট নিলে, তা রোখার কোনও সুযোগ পাননি মহমেডান গোলকিপার পদম ছেত্রী।

তাতে মনে হয়েছিল আরও একটা হার বুঝি অপেক্ষা করে আছে সাদা কালো ব্রিগেডের জন্য। কিন্তু তা হয়নি। বরং গোল খেয়ে না দমে, পাল্টা আক্রমণের ঝড় তুলে ৫৭ মিনিটে এডিসন সিংয়ের গোলে সমতা ফেরায় মেহরাজের দল। উইং দিয়ে ওভারল্যাপে বল নিয়ে উঠে হীরা মন্ডল মাপা মাইনাস রেখেছিলেন ওড়িশা বক্সে। সেখানে ওত পেতে থাকা এডিসন সেই বল জালের ভেতর জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। বাকি সময় রক্ষণ জমাট রেখে ম্যাচ ড্র রাখতে সক্ষম হয় মহমেডান। ওড়িশা ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১২ নম্বরে স্বস্তির জায়গায় রয়েছে।

আইএসএলে প্রথম পয়েন্ট অর্জনে খুশি মহমেডান কোচ মেহরাজ। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘‌ আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় ওড়িশার বিরুদ্ধে অনেক গোলের সুযোগ পেয়েছিল ফুটবলাররা। সেগুলো কাজ লাগাতে পারলে, শুধু ড্র নয়, ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়তে পারতাম। তবে এক পয়েন্ট মন্দের ভাল, বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচে। দলে নবীন আর ভারতীয় ফুটবল নির্ভর। গোল খেয়েও ওরা যেভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, গোল করে সমতা ফিরিয়েছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।’‌

মেহরাজ আরও বলেন, ‘‌ বৃহস্পতিবার ৮ ঘন্টা ট্রেন জার্নি করে রাত ১০টায় পৌঁছে ফুটবলাররা যথেষ্ট বিশ্রাম পায়নি। তারওপর ওড়িশার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কলকাতার থেকে অনেকটাই বেশি। এই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেরা দেওয়াটা কঠিন ছিল। কিন্তু ফুটবলাররা এসব মাথায় রেখে শেষপর্যন্ত লড়ে গেছে। প্রতিকূল পরিবেশে পেশিতে টান ধরার সমস্য হলেও হাল ছাড়েনি। এডিসনের গোলের পাশাপাশি গোটা দলের লড়াকু চরিত্রের কথা বলতেই হবে। বিশেষ করে রক্ষণের জমাট ভাবের দিকটা। চলতি মরশুমে মুহূর্তের ভুলে গোল খেয়ে অনেক ম্যাচে পয়েন্ট হাতছাড়া হয়েছে। এই ম্যাচে সেটা একবার ছাড়া আর ঘটেনি। তার জোরেই একটা পয়েন্ট এসেছে। অন্তত এবার খালি হাতে ভুবনেশ্বরের মাঠ থেকে ফিরতে হচ্ছে না।’‌

পরের ম্যাচে মহমেডানের প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসি। মহমেডান কোচ মেহরাজের মতে, মরশুমের প্রথম পয়েন্ট প্রাপ্তি গোটা দলকে বাড়তি উজ্জীবিত করবে চেন্নাইনের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকেও পয়েন্ট কাড়তে।

মহমেডান:‌ পদম, হীরা, জুয়েল,দীনেশ, সাজাদ(‌জোসেফ)‌, লালরেমসাঙ্গা, অমরজিত, মহীতোষ, লালথানকিমা(‌রোচারজেলা)‌, লালনগাইশাকা, এডিসন(‌ ফারদিন)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *