Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: শুরুটা যেমন হয়েছিল, শেষটা কিন্তু তেমন হল না। কথায় আছে যার শেষ ভাল তার সব ভাল। আইপিএল ২০২৪-এর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা কলকাতা নাইট রাইডার্স সেই নজিরই রেখে গেল শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে। এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামতে হয়েছিল কলকাতা দলকে। ব্যাট হাতে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি হোম টিমের। ৬০ হাজারের ইডেন উদ্যানের গ্যালারি প্রায় কানায় কানায় ভরে উঠেছিল দলের প্রথম ম্যাচ দেখার জন্য। প্রাথমিক হতাশা কাটিয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াল কেকেআর। শেষবেলায় রীতিমতো দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছিল ম্যাচ। সেখান থেকেই বাজিমাত। আর মধ্যরাতে একরাশ আনন্দ নিয়েই বাড়ির পথ ধরলেন কলকাতার সমর্থকরা।

এদিন কলকাতার হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন ফিল সল্ট ও সুনীল নারিন। প্রাথমিকভাবে সুনীল নারিনকে ওপেন করতে দেখে কিছুটা হলেও ভ্রু কুঁচকেছিলেন অনেকেই। যদিও গত কয়েক বছরে বার কয়েক তাঁকে ওপেন করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু আইপিএল ২০২৪-এর প্রথম ম্যাচে ওপেনার সুনীল নারিন একদমই ক্লিক করলেন না। ভাগ্যিস উল্টোদিকে ফিল সল্ট ছিলেন। একদিকে পর পর যখন কেকেআর ব্যাটাররা প্যাভেলিয়নে ফিরছেন তখন একাই রাজপাট সামলালেন তিনি। সুনীল নারিন ৪ বলে ২ রান করে আউট হওয়ার পর তিন নম্বরে নেমে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ৫ বলে ৭ রান করে ফিরে গেলেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার সব থেকে বেশি হতাশ করলেন। ২ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারলেন না তিনি। ৯ রানে আউট  নীতীশ রানা।

প্রথম চার ব্যাটার হতাশ করার পর ফিল সল্টের সঙ্গে দলকে ভরসা দিলেন রমনদীপ সিং। এদিনই অভিষেক হল তাঁর। শুরুতেই ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন দলের ছয় নম্বর ব্যাটার। ১৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেললেন একটি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। তিনি আউট হতে কিছুটা ভরসা দিলেন রিঙ্কু সিং। পাঁচ ছক্কার মালিক এদিন ছক্কা না হাঁকালেও ১৫ বলে ২৩ রান করলেন তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে। কারণ অন্যদিকে একাই ছক্কা হাঁকিয়ে গ্যালারিকে তাতিয়ে দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। তার আগেই ৪০ বলে ৫৪ রান করে আউট হয়েছেন ফিল সল্ট। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি।

৫১ রানে ৪ উইকেট থেকে কেকেআর-এর রানকে ২০৮-৭-এ নিয়ে শেষ করলেন রাসেল। ২৫ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারি। ৬ রানে অপরাজিত থাকলেন মিচেল স্টার্ক। হায়দরাবাদের হয়ে তিন উইকেট নিলেন নটরাজন। দুই উইকেট মায়াঙ্ক মারকান্ডের। এক উইকেট নেন প্যাট কামিন্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালই করে দিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

২০৯ রানের লক্ষ্যে হায়দরাবাদের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন মায়ঙ্ক আগরওয়াল ও অভিষেক শর্মা। ওপেনিং জুটিতে দু’জনে ভরসা দেন। করেন ৬০ রান। ২১ বলে ৩২ রান করে আউট হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ১৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন আর এক ওপেনার অভিষেক শর্মা। এর পর কিছুটা ব্যাট হাতে হায়দরাবাদকে ভরসা দেন তিন ও চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা রাহুল ত্রিপাঠি ও আইদেন মারক্রাম। ১৮ রানে প্যাভেলিয়নে ফেরেন মারক্রাম। ২০ রানে আউট হন রাহুল।  ২০৯ রানের লক্ষ্যে বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ।  

এর পর কিছুটা হায়দরাবাদ ব্যাটিংকে ভরসা দেন হেনরিক ক্লাসেন ও আব্দুল সামাদ। ১১ বলে ১৫‌ রানে সামাদ ফিরে যান প্যাভেলিয়নে।  সেখান থেকেই শাহবাজ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অসাধ্য সাধন করতে নামেন হেনরিক ক্লাসেন। পর পর ছক্কা হাঁকিয়ে রীতিমতো কলকাতাকে সমস্যায় ফেলে দেন ক্লাসেন। জেতা ম্যাচ প্রায় হাতের বাইরে চলে যায় শ্রেয়াসদের। শেষ পর্যন্ত লড়াই দেন ক্লাসেন।

শেষ ওভারে হর্ষিতকে বল করতে নিয়ে এসে চমক দেন শ্রেয়াস। আর তাতেই বাজিমাত। ওভারের প্রথম বলে ছয় রান হজম করার পর তৃতীয় বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন শাহবাজকে (১৬)। এক বল বাকি থাকতে উইকেটের পিছনে সুয়াশ দুরন্ত ক্যাচ ধরে ক্লাসেনকে (২৯ বলে ৬৩) ফেরাতেই ম্যাচ ঘুরে যায় কলকাতার দিকে। চার রান বাকি থাকতেই শেষ হয়ে যায় ওভার। ২০ ওভারে ২০৪-৭-এ শেষ হয় হায়দরাবাদের ব্যাটিং।

কলকাতার হয়ে তিন উইকেট নেন হর্ষিত রানা। দুই উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল। একটি করে উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্থী ও সুনীল নারিন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *