অলস্পোর্ট ডেস্ক: এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আরসিবি বনাম কেকেআর ম্যাচ দিয়েই ২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল আইপিএল, যে কারণে এই দুই প্রতিপক্ষের আইপিএল ইতিহাস সব থেকে পুরনো। যখন ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অপরাজিত ১৫৮ রানের সুবাদে আইপিএলে একটি স্বপ্নের শুরু হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে, দুই দল টুর্নামেন্টের ইতিহাসের কিছু আইকনিক, এবং পাশাপাশি খারাপ মুহূর্ত তৈরি করেছে। ২০১৩-তে এই ম্যাচে গৌতম গম্ভীর ও মোয়েসেস হেনরিকসের বাকবিতন্ডার নজির রয়েছে। পরে খেলায়, গম্ভীর এবং বিরাট কোহলি একে অপরের সঙ্গে ঝামেলায় জরিয়ে পড়েছিলেন।
তিন বছর পর, একই ভেন্যুতে, ইউসুফ পাঠান এবং আন্দ্রে রাসেল কেকেআর-কে জয় এনে দেন, এবং গম্ভীর ডাগআউটে চেয়ারে লাথি মেরে তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, এমন একটি কাজ যার জন্য তাকে তার ম্যাচ ফি এর ১৫% জরিমানা করা হয়েছিল। গত মরসুমে কোহলি-গম্ভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবার নতুন করে জ্বলে ওঠে যখন আরসিবি লখনউ সুপার জায়ান্টদের মুখোমুখি হয়েছিল, যারা গম্ভীরকে তাদের পরামর্শদাতা হিসাবে রেখেছিল।
এই বছর, গম্ভীর একই ভূমিকায় কেকেআর-এর সঙ্গে ফিরে এসেছেন। শুক্রবারও ১৭তম আইপিএল-এর আসরে আরও একটা বেঙ্গালুরু বনাম কলকাতা ম্যাচ। হাই ইনটেনসিটির এই ম্যাচ ঘিরে পরিবেশ যে কোনও সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। দুই দলই জয় পেয়েছে। কেকেআর সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়েছে এবং আরসিবি পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে এজয় তুলে নিয়েছে। যদিও জয়গুলি সহজে আসেনি।
বর্তমানে ফিরে আসা যাক। ওপেনার হিসেবে এবার শুরু থেকেই শুরু করেছেন নারিন। প্রথম ম্যাচে যদিও ব্যাটে সাফল্য আসেনি। শর্ট বলে নারিনের দুর্বলতা দেখে অতীতে মনে করা হয়েছিল তিনি আর ওপেনিংয়ে ফিরবেন না। তবে মরসুমের প্রথম ম্যাচ থেকে সেই ধারণাকে ভুল প্রমান করে দিয়েছে দল। বেঙ্গালুরু ম্যাচ তাঁর জন্যও প্রমানের। তবে তার উপরই ভরসা রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
কিংসের বিপক্ষে, আরসিবি তাদের ব্যাটিংয়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য মহিপাল লোমররে পাশে কর্ণ শর্মাকে নিয়ে আসে। এই পদক্ষেপটি যে সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে কারণ লোমরর আট বলে অপরাজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ১৭ রান আরসিবিকে জিততে সাহায্য করে। ক্যামেরন গ্রিন এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পঞ্চম বোলারের কাজ করেছে, তাঁরা একই পরিকল্পনা নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও আলজারি জোসেফের পরিবর্তে রিস টপলিকে আনার একটি প্রত্যাশা রয়েছে, যিনি প্রথম দুই ম্যাচে ৭.৪ ওভারে ৮১ রানে এক উইকেট পেয়েছেন।
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের ক্ষেত্রে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু যদি প্রথমে ব্যাট করে, লোমরর প্রথম একাদশে শুরু করতে পারেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে যশ দয়াল তাঁর জায়গা নিতে পারেন। যদি তারা প্রথমে বোলিং করে তাহলে দয়াল শুরু করবেন এবং লোমরর দ্বিতীয় ইনিংসে নামবেন।
সম্ভাব্য দ্বাদশ: বিরাট কোহলি, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), রজত পতিদার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ক্যামেরন গ্রিন, অনুজ রাওয়াত (উইকেটরক্ষক), দিনেশ কার্তিক, মহিপাল লোমরর, আলজারি জোসেফ/রিস টপলি, মায়াঙ্ক ডাগর, মোহাম্মদ সিরাজ, যশ দয়াল
কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করলে রমনদীপ সিং শুরু করতে পারেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর জায়গায় নামতে পারেন সুয়শ শর্মা। উল্টোটার সম্ভাবনা বেশি যদি কেকেআর আগে বোলিং করে।
সম্ভাব্য দ্বাদশ: ফিল সল্ট (উইকেটরক্ষক), সুনীল নারিন, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), নীতীশ রানা, রিঙ্কু সিং, আন্দ্রে রাসেল, রমনদীপ সিং, মিচেল স্টার্ক, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, সুয়শ শর্মা
চিন্নাস্বামীর পিচ কোনও দলকেই খুব একটা চিন্তায় ফেলার মতো নয়। তার শান্ত পিচের জন্য পরিচিত কিন্তু আগের ম্যাচটি তেমন হাই স্কোরিং ছিল না। কিংস প্রায় ১৭৬ রান রক্ষা করে ফেলেছিল। শুক্রবারের খেলার জন্য এটি একটি নতুন পিচ, আবার ঘাসও রয়েছে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। শিশিরের সম্ভাবনা কম।
ম্যাচের আগের দিন কেকেআর-এর প্রথম ম্যাচে নায়ক আন্দ্রে রাসেল বলেন, ‘‘আমার মানসিকতা খুবই পরিষ্কার, বিশেষ করে একটা জয়ের পরেও কিছু রান করা। ওদের বোলিং ইউনিটও ভাল। ওদেরকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছি না। যারা আমাদের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারে। তাই আমি আশা করি ব্যাকএন্ডে যদি আমি পাঁচ, ছয়, সাত, আট বলের মুখোমুখি হই, আমি সেটার সেরা ব্যবহার করতে পারব। তবে আমি চাইব অন্য ব্যাটাররা খেলুক।’’
আরসিবি ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘‘আমি মনে করি অন্য দিনের পিচে কিছুটা উপরে-নিচে গতিবিধি ছিল, তবে এটি অবশ্যই আদর্শ নয়। তাই আমি মনে করি এটি একটি ভাল পিচ হওয়া উচিত [আগামীকাল] যাতে কিছুটা গতি থাকে, যা সম্ভবত আমাদের দলের জন্য উপযুক্ত হওয়া উচিত।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
