Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইপিএল ২০২৪-এ জয়ের হ্যাটট্রিক করার পর চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের আত্মবিশ্বাস। ব্যাট হাতে শুরুটা মোটেও ভাল হল না। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার, এদিন বড় রানের ইঙ্গিত একবারও কেউ দিতে পারেননি। সব থেকে বেশি রান এল অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকে, কিন্তু তাও মন্থর। এই আইপিএল-এ রান যত বড়ই হোক না কেন, আসল হল সময়। যে কারণে সেঞ্চুরি করেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিরাট কোহলির মতো বিশ্বমানের ব্যাটারকে। তার উপর দল হারলে তো কথাই নেই। সোমবার মরসুমে প্রথম হারের মুখ দেখতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চেন্নাই। সাত উইকেটে হারের মুখ দেখতে হয় কলকাতাকে।

এদিন টস জিতে প্রথমে কলকাতাকে ব্যাট করত পাটিয়েছিলেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। চলতি আইপিএল-এ এই প্রথম টস জিতল চেন্নাই। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খেল কলকাতা। তুষার দেশপাণ্ডে এবং ম্যাচের প্রথম বলেই বাউন্ডারি লাইনে রবীন্দ্র জাডেজাকে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভেলিয়নে ফিরে গেলেন ওপেনার ফিল সল্ট। ০-১ থেকে হাল ধরার কথা ছিল পরের ব্যাটারদের কিন্তু তেমনটা হল না।আর এর ওপেনার সুনীল নারিন ২৭, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ২৪ বলে ফিরে গেলেন প্যাভেলিয়নে। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে এই দুই ব্যাটারের ব্যাটই জ্বলে উঠেছিল।

এর পর হাল ধরার কথা ছিল স্বয়ং অধিনায়কের। ৩৪ রান করলেন ঠিকই কিন্তু ৩২ বলে। তাঁর মতো বিগ হিটারও তিনটির বেশি বাউন্‍ডারি হাঁকাতে পারেননি। কলকাতার ইনিংসে মাত্র দুটো ওভার বাউন্ডারিই দেখা গিয়েছে। একটি রঘুবংশী ও একটি রমনদীপ সিংয়ের ব্যাট থেকে। বাউন্ডারির সংখ্যাও খুব কম। যেখানে আইপিএল আসলে বিগ শটের টুর্নামেন্ট। তবে এর পর আর কেউই ২০ রাননের গণ্ডিও পেরতে পারেননি। এদিন ব্যর্থ বিগ হিটার ও ফিনিশার রিঙ্কু সিং-ও। ভেঙ্কটেশ আইয়াার ৩, রমনদীপ সিং ১৩, রিঙ্কু সিং ৯, আন্দ্রে রাসেল ১০, মিচেল স্টার্ক ০ রানে আউট হন। রানে অপরাজিত থাকেন অনুকূল রায়। ২০ ওভারে কলকাতার সংগ্রহ ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭।

এদিন বল হাতে সফল চেন্নাই বোলাররা। তিনটি করে উইকেট নেন তুষার দেশপাণ্ডে ও রবীন্দ্র জাডেজা। জাডেজার নামের পাশে অবশ্যে লেখা থাকবে তিনটি ক্যাচও। দুই উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান ও একটি উইকেট নেন মহেশ থিকসানা। এদিকে এই মরসুমে যেভাবে রান উঠছে সেদিক থেকে দেখতে গেলে ১৩৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুবই কম। যার লক্ষ্যে শুরু থেকেই ব্যাট করতে শুরু করে চেন্নাই দল। এদিন চেন্নাইয়ের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন রাচিন নবীন্দ্র ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়। রাচিন বৈভব অরোরার বলে বরুণ চক্রবর্থীকে ক্যাচ দিয়ে ১৫ রানে ফিরে যান রাচিন।

এর পর রুতুরাজের সঙ্গে চেন্নাই ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন ড্যারেল মিচেল। এদিন যেন ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং কোনওটাতেই সেই চেনা ছন্দে ছিলেন না নাইটরা। পড়ল ক্যাচও। তবে এদিন যে বড় রানের জন্য তৈরি ছিল না পিচ সেটাও বোঝা গেল। রুতুরাজ হাফ সেঞ্চুরি করলেন ৪৫ বলে। যদিও ১৩৮-এর লক্ষ্যে তাঁর এই রান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তো ছিলই। সঙ্গে তাঁর নিজের কেরিয়ারের জন্য। ১৯ বলে ২৫ রান করা ড্যারেল মিচেলকে ফেরালেন নারিন। তখন ৪৩ বলে ৪৪ রান দরকার চেন্নাইয়ের। এর পর ব্যাট হাতে নামেন শিভম দুবে। হাতে আট উইকেট থাকায় নিশ্চিন্তে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারেন রুতুরাজরা। শেষবেলায় যোগ্য সঙ্গত শিভম দুবের। ১৮ বলে তিনটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৮ রান করে আউট হন।

ততক্ষণে ম্যাচ চেন্নাইয়ের দখলে চলে এসেছে। দুবে আউট হতে মাঠে নামেন দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এমএস ধোনি। দ্য ফিনিশারকে বিশেষ কিছু করতে হয়নি এদিন। এক রান নিয়ে দলকে সমতায় আনেন তিনি। আর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ৫৮ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৭.৪ ওভারে ১৪১-৩ করে। সাত উইকেটে জয় তুলে নেয় চেন্নাই।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশ: ফিলিপ সল্ট (উইকেটরক্ষক), সুনীল নারিন, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, আন্দ্রে রাসেল, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, মিচেল স্টার্ক, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী।

সাব: সুয়শ শর্মা, অনুকুল রায়, মনীশ পান্ডে, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, সাকিব হুসেন

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *