অলস্পোর্ট ডেস্ক: আবারও ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। মাঝে রানের গতি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এদিন আরও একবার কেকের ব্যাটাররা লখনউয়ের সামনে ২৩৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা রেখে বড় রানে ফিরল। এবং লখনউয়ের মাটিতে এটি সর্বোচ্চ রান। এই মরসুমের শেষ ম্যাচে যেটা হল। এদিন টস জিতে ঘরের মাঠে প্রথমে কলকাতাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ অধিনাায়ক কেএল রাহুল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরুর করেন কলকাতার ব্যাটাররা। ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও সুনীল নারিনই। তাদের দু’জনের ব্যাক্তিগত রানকে অবশ্য আর কেউ ছাঁপিয়ে যেতে পারলেন না। কেকেআর-এর রানকেও ছাঁপিয়ে যেতে পারল না লখনউ। ৯৮ রানে এলএসজিকে হারিয়ে আবার লিগ টেবলের শীর্ষে জায়গা করে নিল কেকেআর।
এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম উইকেটে ৬১ রানের পার্টনারশিপ করেন সল্ট ও নারিন। মাত্র ১৪ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিল সল্ট যখন আউট হন তখন তাঁর নামের পাশে ৩২ রানের ইনিংস লেখা হয়ে গিয়েছে। যদিও উইকেটের পিছনে রাহুলের হাতেবল জমা দিয়ে তিনি মোটেও নিজের শট নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এর পর সুনীলের সঙ্গে দলের হয়ে লড়াই শুরু করেন দলের কনিষ্ঠতম সদস্য অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। গত কয়েকটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। তবে এদিন ফিরলেন দারুণভাবে।
৬১ রানে এক উইকেট থেকে এই ব্যাটিং জুটি দলের রানকে ১৪০-এ নিয়ে যান। সুনীল আউট হন ৮১ রানে। এই স্কোরে পৌঁছতে তিনি ৩৯ বলে ছ’টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান। এদিন সাত জন ব্যাট করতে নামলেও গত ম্যাচে দুরন্ত ব্যাটিং করা ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে কেন সাত নম্বরে নামানো হল সেটা একটা বড় প্রশ্ন। ম্যাচ শেষের তিন বল বাকি থাকতে তিনি নামেন। বাকি ছয় ব্যাটসম্যানই দুই সংখ্যার রানে পৌঁছন। অঙ্গকৃশ ৩২, আন্দ্রে রাসেন ১২, রিঙ্কু সিং ১৬, শ্রেয়াস আইয়ার ২৩ রান করে আউট হন। ছয় বলে তিনটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রমনদীপ সিং। এক বলে এক রানে অপরাজিত থাকেন ভেঙ্কটেশ। ২৩৫-৬-এ শেষ হয় কলকাতার ইনিংস।
এদিন লখনউয়ের হয়ে। তিন উইকেট নেন নবীন উল হক। একটি করে উইকেট নেন যশ ঠাকুর, রবি বিষ্ণোই ও যুধবীর সিং। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে এলএসজি। যেখানে শেষ করেছিলেন কলকাতার ব্যাটাররা সেখান থেকেই বল হাতে খেলা শুরু করেন বোলাররা। এদিন অর্শীন কুলকার্নিকে সঙ্গে নিয় ওপেন করতে নেমেছিলেন অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। শুরুতেই ৯ রান করে ফিরে যান কুলকার্নি। ২০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ২০-২৫ রানের ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে লখনউ কেএল রাহুল (২৫), মার্কাস স্তইনিস (৩৬), দীপক হুদা (৫), নিকোলাস পুরান (১০), আয়ুশ বাদোনি (১৫), অ্যাশটন টার্নার (১৬)।
অ্যাশচন টার্নার পর্যন্ত তাও এলসিজির প্লেয়াারদের নামের পাশে ১০-এর উপর রান ছিল. তিনি আউটট হওয়ার পর সেটাও আর হল না। ভারতীয় বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পন করলেন কেএল রাহুলের লখনউ। ক্রুনাল পাণ্ড্যে (৫), যুধবীর সং (৭) ও রবি বিষ্ণোই (২) মিলে করলেন ১৪ রান। ২০ ওভারে ১৩৭ রানে অল আউট হয়ে গেল হোম টিম। কলকাতার হয়ে বল হাতে প্রায় সকলেই উইকেট পান। দুই উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল। ব্যাট হাতে এদিন বিশেষ কিছু করতে না পারলেও বল হাতে দলকে সাফল্য এনে দেন তিনি। তিনটি উইকেট নেন হর্ষিত রানা ও বরুণ চক্রবর্থীও। এক ম্যাচের নির্বাসন কাটিয়ে যেন হর্ষিতের জন্য জবাবের ম্যাচ ছিল এদিন। একটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, সুনীল নরিন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
