Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: প্রত্যাশা ছিলই। আইপিএল ২০২৪-এর শুরু থেকে যেভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্লে-অফে পৌঁছেছে তার পর সরাসরি ফাইনালের রাস্তা যে তারা খুলে ফেলবে তা আগাম ধরেই নিয়েছিলেন কেকেআর ভক্তরা। কিন্তু সেই ম্যাচ যে এমন একপেশেভাবে জিতে নেবে কলকাতা নাইট রাইডার্স সেটা হয়তো কেউ ভাবেনি। প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফে পৌঁছনো, লিগের এক নম্বর দল হিসেবে প্লে-অফ খেলতে নামা এবং প্রথম দল হিসেবে আইপিএল ২০২৪-এর ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া। দুরন্ত ছন্দে নাইটরা। এদিন দলকে সমর্থন করতে শাহরুখ খান এবং জুহি চাওলাকে এক সঙ্গে দেখা গেল মাঠে। মালিকপক্ষের সামনেই দাপটের সঙ্গে ফাইনালে পৌঁছলেন শ্রেয়াস আইয়াররা। ৩৮ বল বাকি থাকতেই আট উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল কেকেআর।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত কাজে লাগল না। ওপে‌নার ত্রাভিস হেড ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা না খুলেই ফিরে গেলেন প্যাভেলিয়নে। প্রতিপক্ষের অজি ব্যাটারকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খুললেন কেকেআর-এর অজি বোলার। এ যেন এক অস্ট্রেলিয়ানের বিরুদ্ধে আর এক অস্ট্রেলিয়ানের লড়াই। এদিন দুরন্ত ছন্দেই পাওয়া গেল স্টার্ককে। আর এক ওপেনার অভিষেক শর্মাকে অবশ্য ফেরালেন বৈভব অরোরা।  তিনি করলেন মাত্র ৩ রান।

পাওয়ার প্লে-তেই চার উইকেট হারিয়ে বসল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। যখন প্যাভেলিয়নে ফেরার প্রতিযোগিতা চলছে সানরাইজার্সদের মধ্যে তখনই তিন নম্বরে নেমে দলের ব্যাটিংয়ের হাল ধরলেন রাহুল ত্রিপাঠী। তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেন হেনরিক ক্লাসেন। কিন্তু ত্রিপাঠীর রান আউট দলকে বড় রানে পৌঁছনোর যে স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তা ভেঙে দিল। শাহবাজ আহমেদের ভুল সিদ্ধান্তেই আউট হতে হল ত্রিপাঠীকে। আউট হয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়লেন দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে না ফিরে সিঁড়িতেই মুখ ঢেকে বসে পড়লেন তিনি। অনেকক্ষণ তাঁকে সেভাবে বসে থাকতে দেখা গেল। শেষেও হাসি ফুটল না দলের মুখে।

এই ম্যাচ হেরে গেলেও হায়দরাবাদের সামনে রয়েছে দ্বিতীয় প্লে-অফ জিতে ফাইনালে পৌঁছনোর রাস্তা। এদিন হায়দরাবাদ ব্যাটারদের রানের তালিকা এরকম ছিল— ত্রাভিস হেড ০, অভিষেক শর্মা ৩, রাহুল ত্রিপাঠী ৫৫ (৩৫), নীতিশ রেড্ডি ৯, শাহবাজ আহমেদ ০, হেনরিক ক্লাসেন ৩২ (২১), আব্দুল সামাদ ১৬, সনভীর সিং ০, প্যাট কামিন্স ৩০ (২৪), ভুবনেশ্বর কুমার ০, বিজয়কান্ত ৭ (অপরাজিত)। ১৯.৩ ওভারে ১৫৯ রানে শেষ হয়ে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং। নাইটদের হয়ে তিন উইকেট নিলেন মিচেল স্টার্ক। দুই উইকেট বরুণ চক্রবর্থীর। একটি করে উইকেট নিলেন বৈভব অরোরা, হর্ষিত রানা, সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেল।

কলকাতার সামনে ছিল ফাইনালের হাতছানি আর ১৬০ রানের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশে গুরবাজকে সঙ্গে নিয়ে ওপেন করতে নামেন সুনীল নারিন। এই মরসুমে পরীক্ষিত নন গুরবাজ। এদিন উইকেটের পিছনে তিনি তাঁর ভূমিকা সাফল্যের সঙ্গেই পালন করেছেন। এবার ছিল ব্যাটিংয়ের পালা।  ব্যাটে শুরু থেকেই চার-ছ’য়ের ঝড় তুললেন। কিন্তু ২৩ রান করে ফিরতে হল তাঁকে। এর পর সুনীল নারিনের সঙ্গে কলকাতা ব্যাটিংয়ের হাল ধরলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। কিন্তু নারিনকে দ্রুত ফেরালেন কামিন্স। ২১ রান করে আউট হলেন তিনি।

সাময়িক ধাক্কা সামলে ভেঙ্কটেশের সঙ্গে নেমে খেলা শেষ করে দিলেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। দলকে ফাইনালে তুললেন, নিজেও ফর্মে ফিরলেন। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ২৮ বলে ৫১ এবং শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকলেন। দু’জনেই পাঁচটি করে বাউন্ডারি ও চারটি করে ওভার বাউন্ডারি হাঁকালেন। ১৩.৪ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান তুলে নিল কেকেআর। ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক স্বয়ং। হায়দরাবাদের হয়ে একটি করে উইকেট নিলেন প্যাট কামিন্স ও টি নটরাজন।

এর আগে সাতবার প্লে-অফে পৌঁছেছে কলকাতা। এই নিয়ে অষ্টমবার কেকেআর প্লে-অফে পৌঁছল। তার মধ্যে চারবার প্লে-অফ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবং বাকি তিনবার ফাইনালে পৌঁছেছিল দল। তার মধ্যে দু’বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, একবার রানার্স।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *